

হযরত মওলানার লেখার সাথে অনেকেই পরিচিত। বাংলাভাষী মুসলিম জনগণের মধ্যে আগত ও আবির্ভূতদের মধ্যে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠতম ইসলামী চিন্তাবিদ ও মনীষী এবং প্রথম ও এ পর্যন্তকার একমাত্র মুজতাহিদ্। তিনি ছিলেন পূর্ণাঙ্গ অর্থে একজন ইসলামী রাহবার এবং আক্ষরিক অর্থেই ওয়াারেছে আম্বিয়াা’। আমার পরম সৌভাগ্য যে, আমি এ মহান ব্যক্তিত্বের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য পেয়েছিলাম। ১৯৬৯ সালে তাঁর বিস্ময়কর মনীষার সাথে পরিচিত হই এবং ১৯৭০ সাল থেকে তাঁর ব্যক্তিগত সাহচর্যে আসি ও স্নেহস্পর্শ লাভে ধন্য হই। তিনি ছিলেন আমার দ্বীনী শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও আধ্যাত্মিক পিতা। এ কারণে যারা স্রেফ তাঁর রচনাবলীর পাঠক তাদের চেয়ে বেশী মাত্রায় মওলানা মরহূমকে জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। পয়লা অক্টোবর হযরত মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.)-এর ওফাত বার্ষিকী। সারাটি জীবন আল্লাহ্ তা‘আলার মুখ্লিছ বান্দাহ্ হিসেবে জীবনযাপন করে পরিপূর্ণ সুস্থ ও নির্মল অন্তঃকরণ সহকারে ১৯৮৭ সালের পয়লা অক্টোবর তিনি এ নশ্বর দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। হযরত মওলানা আবদুর রহীম (র.)-এর ৩২তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফেসবুকে পোস্ট্ করার জন্য আগের দিন ৩০শে সেপ্টেম্বর (২০১৯) একটি পোস্ট্ লিখি। তবে লেখার গতিধারায় তা কিছুটা বড় হয়ে যাওয়ায় তা দুই-তিন কিস্তিতে পোস্ট্ করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি পোস্ট্ করার পর পাঠকদের কাছ থেকে যে সব প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য আসে তার পরিপ্রেক্ষিতে এবং অনেকে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে লেখার জন্য অনুরোধ করায় এটি অপেক্ষাকৃত বিস্তারিতভাবে লিখি এবং ২১ কিস্তিতে সমাপ্ত ও ফেসবুকে প্রকাশ করি। এ ধারাবাহিক নিবন্ধে প্রসঙ্গতঃ অনেক অপ্রীতিকর বিষয়ের অবতারণা করতে হয়, বিশেষ করে জামা‘আতে ইসলামী নামক রাজনৈতিক দলটির ও এ দলটির অনেক নেতা-কর্মীর সমালোচনা করতে হয়। এ সব অপ্রীতিকর বিষয়ের অনেকগুলোই উপস্থাপনের ইচ্ছা আমার ছিলো না। কিন্তু তিনটি কারণে এগুলো উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নেই। প্রথমতঃ অনেকে জানতে চান যে, আসলে কী কী ঘটেছিলো, দ্বিতীয়তঃ এতে শিক্ষণীয় বিষয়ও রয়েছে। তৃতীয়তঃ পাঠকদের প্রতিক্রিয়া থেকে জানতে পারি যে, মওলানার ইন্তেকালের বত্রিশ বছর পরেও জামা‘আত্ মহল থেকে তাঁর চরিত্রহননের লক্ষ্যে বিভ্রান্তিকর মিথ্যা প্রচারের অবসান হয় নি। তাই অন্ততঃ কিছুসংখ্যক সরলমনা পাঠকের মন থেকে তাঁর সম্পর্কে সৃষ্ট অপপ্রচারজনিত বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব হবে প্রত্যাশায় এ সব বিষয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরাকে দায়িত্ব বলে মনে করেছি। আর এতে শিক্ষণীয় বিষয়টি এই যে, ব্যক্তিদেরকে দোষারোপ করে লাভ নেই, বরং রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে যে কোনো মূল্যে দলের শক্তি, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে ক্ষমতায় উপনীত হওয়া ও যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখা। তাই ইসলামে রাজনৈতিক দলের কোনো স্থান নেই; এমনকি কোরআন মজীদে “রাজনীতি” শব্দটি বা অভিন্ন মূল থেকে নিষ্পন্ন অন্য কোনো শব্দও নেই। বরং ইসলামী হুকূমাত্ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, অন্য কথায় তথাকথিত “ইসলামী রাজনৈতিক দল” গঠনের বিষয়টি বিংশ শতাব্দীর একটি নতুন সংযোজন - যা ইসলামী আদর্শের মানদণ্ডে যেমন বিরাট ভুল পদক্ষেপ, তেমনি কালের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনেও পুরোপুরি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।