

নিজেকে সবচেয়ে দুঃখি মানুষ দাবি করা ব্যক্তি তূর্য। তার মতে, সুখে থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট কারণ প্রয়োজন। যে কারণ সে এযাবতকালে খুজে পায়নি। ভাগ্যের লিখনে তার আলাপ ঠিক বিপরীত প্রকৃতির একটি মেয়ের সঙ্গে। মৌরিন নামের সেই মেয়েটির ভাষ্যমতে, "সুখে থাকার কারণ খুজতে গেলেই বিপদ। তার বদলে কষ্টগুলোকে ভুলে থাকলে, আপনা আপনি সুখ দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়।" সর্বদা ঠোঁটের কোণে হাসি বজায় রাখা মেয়েটির কথা একসময় সত্যি মনে হয় তূর্যের কাছে। ঠিক সেই মুহূর্তে এক তিব্র ভয় এসে হানা দেয়। তাদের পরিচয়স্থল 'সুখনীড়' ছাড়বার সময় ঘনিয়ে আসে মৌরিনের জন্য। সঙ্গে তূর্যের মনে ভীতি জাগে। লোভ হয় খুব, নিজেকে সুখী ব্যক্তি দাবি করার। দিশেহারা হয়ে ছুটে আসে সেই মেয়েটির নিকট। অসহায় কণ্ঠে বলে ওঠে, _"কালই চলে যাচ্ছো?" _"হুম, বললাম তো কালই।" _"যোগাযোগ রেখো.." নিচে তাকিয়ে হাসলো মৌরিন। তা দেখে তূর্য বলে ওঠে, _"হাসছো?" _"হুম? নাহ,যোগাযোগ রাখার কথাটা বললেন তাই আরকি। রাখবো। সোশাল মিডিয়া,ফোন নম্বর সবই তো আছে। কথা হবে মাঝেসাঝে।" _"মাঝেসাঝে?" _"সেটাই স্বাভাবিক। পরিচিত কারোর সঙ্গেই আমার রোজ কথা হয়না। দূরত্ব এমনিতেও যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।" তূর্য অস্ফূটস্বরে বলে ওঠে, _"আমিতো সেটা চাইনা।" _"মানে?" উল্টোদিকে ঘুরে যায় তূর্য, একহাতে নিজের চুলগুলো এলোমেলো করে একবার। মন অশান্ত হয়ে গেলে মাঝেমধ্যে এই কাজ করে বসে সে। মৌরিন চুপ থাকে কিছুক্ষন, পরক্ষনে ক্ষীন স্বরে বলতে নেয়, _"ডাক্তার সাহেব,কিছু বল.." _"একটা চাকরি নেবে মৌরিন?" মৌরিনের কথা সম্পন্ন হওয়ার আগেই বলে ওঠে তূর্য, মৌরিন তাকায় তার দিকে। তূর্যের দৃষ্টি অদ্ভুত,মৌরিন ঈষৎ হেসে জানতে চায়, _"চাকরি? পার্ট টাইম জব?" _"উহু, ফুল টাইম। এমনকি সারাজীবন এর চাকরি।" দুজনেই নিরব থাকে কিছু মুহূর্ত। তূর্য জিহ্বা দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে বলে, _"কোনো দুঃখি মানুষকে, সুখী বানানোর চাকরি। নেবে?" অবাক ভঙ্গি একটু একটু করে কাটলো মৌরিনের মুখশ্রী থেকে। একবার চারিপাশে তাকিয়ে বলে, _"মাইনে?" পাশ ফিরে তাকায় তূর্য,একটা কাঠগোলাপ গাছ আছে ছাঁদে। মৌরিনের দিকে একনজর তাকিয়ে সেই গাছ থেকে একটা ফুল ছিড়ে আনে তূর্য। লম্বা নিঃশ্বাস নেয় একবার। ফুলটা মৌরিনের দিকে বাড়িয়ে অস্থির কণ্ঠে বলে ওঠে, _"মাইনে'টা যদি হয় আকাশ সম ভালোবাসা, তবে কি নিজেকে সবচেয়ে দুঃখি মানুষ দাবি করা এই ব্যক্তিকে দ্যা মোস্ট হ্যাপিয়েস্ট পারসন বানানোর চাকরিটা গ্রহন করবে? আমার ব্যাক্তিগত ফুল, মৌরিফুল হবে?" চাকরিটি গ্রহণ করেছিল মৌরিন? রাজি হয়েছিলো কি, তূর্যের মৌরিফুল হতে? সমাপ্তির সূচনায় তার সঙ্গ দিতে? জানতে হলে পড়তে হবে সম্পূর্ন ই-বুকটি।
অনেক মিষ্টি একটা গল্প। বরাবরের মতই অসাধারণ লিখেছেন আপু😍😍😍😍😍😍
Read all reviews on the Boitoi app
সমাপ্তির সূচনায়..আমার মনে হয় একটা গল্পের সাথে যদি সেই গল্পের নামের সামঞ্জস্য না থাকে তাহলে সেই গল্পঃ যতই সুন্দর হোক না কেনো আমার মন বসে না।সেদিক দিয়ে গল্পের নামটা পারফেক্ট গল্পের জন্য!এবার গল্পের মূল চরিত্র তূর্য আর মৌরিন কে নিয়ে বলি। প্রথমেই আসি তূর্য চরিত্রের কাছে,যে কিনা সবচাইতে স্যাডেষ্ট পারসন!তুর্যের মতে সে দুঃখের সাগরে ভেসে যাচ্ছে!অবশ্য কারণ ও আছে..কিন্তু মৌরীনের মতে সেই কারণ বাকিদের সাথে তুলনা করলে কিছুই না। যাইহোক,তুর্যের কাছে সুখে থাকার জন্য স্পেসিফিক কারণ লাগে!কিন্তু সেই কারণটাই তার কাছে নেই।আর এই কারণটা নিয়েই তার জীবনে আগমন ঘটে মৌরিফুলের!❤️ তাসনিম জাহান মৌরিন!প্রাণোচ্ছল হাসিখুশি একটা মেয়ে যে জীবনটাকে চিল ভাবে নেয়..যতোই কষ্ট হোক সে কষ্টটাকে নিজের ভিতরেই রাখে,আমার সাথে অনেক মিল মৌরিনের।এই চরিত্রটা আমার কেনো এত্তো ভালো লাগছে আমি নিজেও জানিনা। মৌরিন এর সাথে আমার আরেকটা মিল আছে,ওর নামটাকেও যেমন সবাই ছোটো ছোটো করে ফেলে আমারও এই একই দশা!যাইহোক,এই প্রাণোচ্ছল মেয়েটার জীবনেও যে কষ্ট আছে এটা বোঝার নয়, তুর্যও ভেবেছিল এই মেয়েটা অনেক সুখী,আসলেই সুখী মৌরিন।কারণ,তার কাছে সুখে থাকার জন্য কোনো কারণ লাগেনা।দুঃখগুলোকে ভুলে থাকতে পারলেই সুখ চলে আসে,এটাই মৌরীফুলের ধারণা! গল্পটাতে ওদের একটা সুন্দর কেমিস্ট্রি দেখা গেছে,যা পড়লেই পাঠকগণ বুঝতে পারবেন।সবশেষে আরেকটা কথা,আমি এই ফার্স্ট কোনো ইবুক পড়লাম আর সেটার রিভিউ দিলাম।জানিনা কিসব লিখছি!তবে এটুকুই বলবো,আমি গল্পটা পড়ে যা বুঝলাম জীবনে আসলেই সুখে থাকার জন্য তেমন কিছু লাগেনা।শুধু কাছের মানুষটাকে ভালো রাখা,আর মনে করা যে আমার চাইতেও অনেক মানুষ আছে যারা অনেক কষ্টে আছে!এটা ভাবলেই অটোমেটিক্যালি মনে সুখ চলে আসবে।
এই গল্পটা পড়ে অন্য দুনিয়াতে চলে গিয়েছিলাম। এত সুন্দর গল্প অনেকদিন পর পড়ছি। মৌরিন আর তূর্যর এইরকম ভালোবাসা যেন সবার মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু হায় এমন ভালোবাসা আজকের যুগে আর কোথায় পাওয়া যায়? তাই গল্পেতে পড়েই আশ মেটাই। বিশ্বাস রাখি তূর্য আর মৌরিন এর মত যেন প্রতিটা মানুষ তাদের ভালোবাসাকে এইভাবে এগিয়ে নিয়ে যায় এত যত্নের সাথে, এত ধৈর্যের সাথে। পড়ার জন্য সকল পাঠককে অনুরোধ রইল।
মানবজীবনের থেকে অদ্ভুত জীবন সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে মিলবে না। মিললে তা হয়তো দু একটা। এমনি একটি গল্প সমাপ্তির সূচনায়। যেই গল্পে পরিচয় পেয়েছি হতশায় সিক্ত এক মানব আর নিজেকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে রাখা এক মানবীর । যেখানে দুজনই দুই পথের পথচারী ছিল । একজন সুখের অন্যজন দুঃখের।প্রথমেই বলেছি মানুষজাতি বড়োই অদ্ভুত। নিজেকে সুখী রাখার ক্ষমতা থাকার পরও তারা দু:খী। এই গল্প পড়ে মনকুঠিরে ভাসে ষষ্ঠ শ্রেণীর সেই সুখ কবিতার স্মৃতি। এই গল্পে সুখী আর দু:খী হওয়ার কাহিনী আছে।আছে কিছু মিষ্টি স্মৃতি ।গল্পে দুজন মানব -মানবীর প্রণয়ের প্রহর আর তাদের লজ্জার অনুভূতি মুগ্ধকর ।
আমাদের জীবন কী অদ্ভুত না? সুখ-দুঃখের আদলে তৈরি জীবন। কেউ কেউ অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়ে থাকে আর কেউ নিজের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। ঠিক এমনই প্যাটার্নের দুজন মানব-মানবি। তাদের চিন্তাভাবনা একদম আলাদা। তাদের কে পড়ে কখনো হেসেছি। কখনো কখনো মনের আবহাওয়া খারাপ হয়েছে। মৌরিনের মতো অনেক মেয়েই আছে! যারা দুঃখকে ছাপিয়ে কীভাবে সুখে বেঁচে থাকা যায় তারা জানে। আপনি এ গল্প পড়ে একদমই হতাশ হবেন না। গল্পটা ছোট হলেও এর বিশেষত্ব আছে। কিছু জুটি থাকে আমাদের মনে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে জায়গা করে নেয়। হতে পারে আপনার মনেও তূর্য-মৌরিন জায়গা করে নিল। জানি না কি লিখেছি! ভুলত্রুটি মার্জনীয়। লেখিকাকে মনের অন্দরমহল থেকে ভালোবাসা দিচ্ছি। যাতে সে তার চমৎকার লেখনী না ছাড়ে। আর তার পাঠকমহকে তার লেখনী দ্বারা অভিভূত করে রাখে।
অসাধারণ ছিল পুরো গল্পটা। আনেকটা সিম্পলের উপর গর্জিয়াস। সাধারণের মাঝে অসাধারণ এক জুটি তূর্যরিন। তাদের প্রতিটি গল্প মন ছুঁয়ে যা। সমাপ্তির সূচনায় ও মন ছুঁয়ে গেলো। মৌরিন চরিত্রটি সুন্দর। স্নিগ্ধ! অনেক ভালো লাগার। লেখিকাকে ধন্যবাদ অনেক সুন্দর বইটা আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য 💖