

মুনিয়ার কান লাল হয়ে উঠল। তাকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ দিচ্ছে! সে কি এতই বড় মানুষ! এখনো তো বাসায় থাকে চা খেতে দেয় না। একটু চা চাইলে বলে, ‘ গায়ের রং পুড়ে যাবে, দেখিস না এই জিনিসটাই কেমন কালো। ’ মুনিয়ার রাগ লাগে তখন। ‘রহিমার মা সারাদিন পানি খায় সে তো পানির মতো সাদা হয় না। ’ তার বড় ভাই মুখ ভেটকিয়ে বলে, ‘গাধী, পানি সাদা না — স্বচ্ছ। এর আলাদা কোনো রং নেই। ’ মুনিয়া কথা বলে না তখন। আরাফাত ভাইয়ের কোনো কথা তার বিশ্বাস হয় না। প্রচুর মিথ্যা বলে, সেকেন্ডে দুইটা মিথ্যা বলে। তার ধারেকাছে কোনো ফেরেশতা আছে বলে মুনিয়ার মনে হয় না। একবার মিথ্যা বললে মানুষের সাথে থাকা ভালো ফেরেশতা সত্তর গজ দূরে চলে যায় আর আরাফাত ভাই তো প্রতিসেকেন্ডে দুইটা মিথ্যা বলে। সেই মুনিয়াকে একজন বড় মানুষের সম্মান দিয়ে চা খেতে ডাকছে। ‘বাহ,রে — আপনি নাম, পরিচয় না বললে চা খাব কি করে — ’ ‘তাই? আসবে মুনিয়া বার্ড — নাম, ঠিকানা দিলে? ’ মুনিয়ার শীত শীত লাগছিল। লজ্জার জায়গা দখল করে নিয়েছে উচ্ছ্বাস — এক মিনিটের নাম পরিচয় জানতে চাওয়ার অজুহাতে এক ঘন্টা কেটে গেছে। সেকেন্ড থেকে ঘন্টা, ঘন্টা থেকে দিন, দিন থেকে পক্ষ, মাস, বছরে মুনিয়ার কথা গড়ায়। স্বপ্ন দেখার বয়সে স্বপগুলো আরো রঙিন, ঝলমলে হয়। অবাস্তব, অসম্ভব সব জল্পনা-কল্পনা মাথায় পাক খায়। হাতের আঙুলের গিঁট গুনে প্রায়ই বিড়বিড় করে হিসাব কষে মুনিয়া , ‘ আমার বয়স এখন ষোলো আর এজাজ মাহমুদ এর বয়স চল্লিশ — ইশ কত বড় উনি আমার! ‘ না না তেমন আর বড় কই — মক্তবের হুজুরের মুখে শুনেছে বেহেশতে নারীরা তরুণী হয়ে যাবে। তাদের সকলের বয়স নাকি সুইট সিক্সটেনে আটকে থাকবে। আর পুরুষদের বয়স চল্লিশই হবে। কথার সত্যতা যাচাই করতে কখনো যায়নি, হুজুর বলেছে যেহেতু ঠিকই বলেছে। এত নামাজ-কালাম পড়ে কি আর হুজুর মিথ্যা বলবে!