

নিকিতা নিজের বাসার গেইটের সামনে থেমে গেল। সামিয়া বিদায় নিয়ে সামনের পথে চলে গেল। তার বাসা অরেকটু সামনে। সামিয়া চলে গেলে নিকিতা ভেতরে ঢুকে গেল। তবে সে বাসার ভেতরে না ঢুকে গেইটের আড়ালে দাঁড়িয়ে রইল। আড়াল থেকে উঁকি মেরে দেখতে পেল ছেলেটা সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে এই গেইটের দিকেই তাকিয়ে আছে। তবে সে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে রয়নি। সাইকেল ঘুরিয়ে তাতে চড়ে বসে নিঃশব্দে প্যাডেল ঘুরিয়ে চলে গেল। ছেলেটা ভীষণ অদ্ভুত। গত এক সপ্তাহ আগেই হুট করে কোত্থেকে তার আগমন ঘটল। তারপর থেকে প্রতিদিন টিউশন থেকে ফেরার পথে তার দেখা মিলে। রোজ সে এভাবেই সাইকেল নিয়ে নিঃশব্দে পেছনে আসে, আবার নিঃশব্দে চলে যায়। প্রথমদিন তাকে পেছনে আসতে দেখে সামিয়ার পিছু নিয়েছে ভেবে নিকিতা সামিয়াকে খুব খ্যাপাচ্ছিল। কিন্তু তারপর যখন দেখল ছেলেটার যাত্রা তার বাসার গেইট পর্যন্ত, তখন ব্যাপারটা দুজনের কাছেই পরিষ্কার হয়ে যায়। আদতে সে নিকিতার পিছু নিয়েছে। নিকিতা বাসায় ঢুকেছে নিশ্চিত হয়েই সে সাইকেল ঘুরিয়ে চলে যায়। অথচ সারা পথ ‘টু’ শব্দটিও করে না, যে কারণে তাকে কিছু বলা-ও যায় না। সামিয়া রোজ-ই ছেলেটাকে প্রশ্ন করতে চায়। নিকিতা তাকে বাঁধা দিয়ে রাখে। ছেলেটাকে দেখে মনে হয় খুব সাধারণ একজন। চেহারায়-ও শান্ত স্বভাবের ছাপ। হয়তো আবেগ থেকে তার পেছনে পড়েছে। নিকিতা একটু সময় নিচ্ছে। মনে-মনে সে ঠিক করেছে ছেলেটাকে বাজিয়ে দেখবে তার কোনো বদ মতলব আছে কি না। সঠিক তথ্য না জানার আগে কিছু বলবে না।