

১৮১৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রভাষা পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত একটি সুবিধাভোগী, অনুগত, মধ্যবিত্ত শ্রেণি নির্মাণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দু কলেজ। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সামাজ্যবাদ যে উদ্দেশ্যেই এই শিক্ষায়তনের জন্ম দিক না কেন, এই কলেজে চতুর্থ শিক্ষক হয়ে কাজে যোগ দেন হেনরি লুই ভিডিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯-৩১)। তারই নেতৃত্বে সংঘটিত হয় বহুল আলোচিত-সমালোচিত তথাকথিত বেঙ্গল রেনেসাঁ। ডিরোজিওর অনুসারীরা ইতিহাসে 'ইয়ং বেঙ্গল' নামে খ্যাত হয়ে আছে। যেভাবে যে নামেই ডাকা হোক, আদতে এটি ছিল বাঙালি বর্ণহিন্দু বা কলকাতাকেন্দ্রিক বাবুদের নিজস্ব রেনেসাঁ। এর সাথে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান ও নিম্নবর্গীয় হিন্দু জনতার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এই রেনেসাঁর আশি বছর পরে জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। সত্যিকার অর্থে তাঁর আবির্ভাবের ভেতর দিয়েই সূচনা হয় বাংলাদেশের মুসলমানদের নবজাগরণ, শোষিত-বঞ্চিত-লাঞ্ছিত মানুষের রেনেসাঁ। যদিও এই ক্ষণটির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয় আরও কুড়ি বছর, কলকাতায় নজরুল নাজিল হওয়া পর্যন্ত। এই যে নজরুলীয় রেনেসাঁ, এর সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরসূরি ফররুখ আহমদ। বেঙ্গল রেনেসাঁর শ্রেষ্ঠ উপহার যদি মাইকেল মধুসূদন দত্ত হন, তাহলে নজরুলীয় রেনেসাঁর সার্থক সৃষ্টি ফররুখ আহমদ।