

বাইরে তিমির নিবিড় রাত। বাইরে গাছের পাতায় বৃষ্টির শব্দ। বাইরে গুচ্ছ গুচ্ছ স্নিগ্ধ তমাল অন্ধকারের। বাইরে মত্ত বাতাসের প্রলাপ। অনবরত কোমল কোলাহল। গহন গভীর ঘুমের অতল অবলুপ্তি। সেই সময় দূরে কোথাও ভেসে গেল ধানখেত। ভেঙে পড়ল আমগাছের একটি ডাল। রাতজাগা পাখিরা কঁকিয়ে উঠল কোথাও। সেই সময় একটি প্রান্তরে সমস্ত পৃথিবীর মূর্ছা। বিচলিত আনন্দসম্ভার। বিনিঃশেষ সংশয়িত জীবন। সেই সময় 'একাকী একটি বৃষ্টি-রাতের শব্দের মতো' তাঁর অন্তর থেকে বেরিয়ে এলো অন্তর। সেই সময় হৃদয় থেকে বেরিয়ে এলো হৃদয়। গায়ের ওপরে রাখা চাদর আলতো করে সরিয়ে, চৌকাঠ পেরিয়ে সে মিলে গেল কুঞ্জবীথির সিক্ত যূথীর গন্ধে, মত্ত হাওয়ার ছন্দে, মেঘে মেঘে বজ্র শিখর ভূজঙ্গ প্রয়াতে। সেই সময় দূরের মসজিদ থেকে ঘোষিত হলো ভোরের আজান। সেই আজানের প্রতিটি শব্দ অনন্ত নীহারিকাপুঞ্জের অবিশ্রাম আকুল-ব্যাকুল ক্রন্দনের মতো আছড়ে পড়তে লাগল এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে, এই প্রিয় মাতৃভূমির যাপিত আচ্ছন্নতার কিনারে কিনারে। সেই ধ্বনিপুঞ্জ শ্বেতশুভ্র মহার্ঘ সিল্কের মতো তার শরীরে অঙ্কুরিত করল ডানা। আর তিনি এই শহর, গ্রাম, কোলাহল, ঘুম, জাগরণ, আনন্দ, বেদনা পাড়ি দিয়ে; বনের পর বন পেরিয়ে; সমুদ্রের পর সমুদ্রের উন্মাতাল ঢেউ পার হয়ে; পাহাড়ের পর পাহাড়ের দুর্গমতা পাড়ি দিয়ে; এই ভালো লাগা-ভালোবাসার দ্যুলোক, ভূলোক, গ্যালাক্সির পর গ্যালাক্সি পার হয়ে উড়ে চললেন তাঁর সুদূর পারের স্বপ্নসখার উদ্দেশে।