

"স্বামী হিসেবে প্রত্যেক মেয়েই হয়তো মহসিনের মতো কাউকে চায়। কিন্তু মহসিনরা কি তাবাসসুমদের এত মর্যাদা দেয়! গল্পটা ভীষণ ভালো লেগেছে মা শা আল্লাহ। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে ফুলঝুরিতে ফুলঝুরির জন্য অপেক্ষমান দেখে বেশ ভালো লাগলো।"
আমাদের সংসারটা একা একাই খুব ভালো হবার কথা ছিল, খুব সুখের হবার কথা ছিল তৃতীয় কোনো মাধ্যম ছাড়া। কিন্তু হল না। বাইরের একটা শিশু... যে কখনো আমাদের মধ্যে আসেনি, কখনো ভাগ বসায়নি আমাদের ভালোবাসায়.... তারই অভাব মস্ত হয়ে উঠল! আমি সবসময় ধরতে চেয়েছিলাম এমন দুটো হাত, ভয় পেলেই যারা আমায় আঁকড়ে ধরবে। বড় বড় চোখের সত্রাস মণি দিকে দিকে ঘুরে শুধু আমায় খুঁজবে। আমার বিছানা কখনো পরিপাটি থাকবে না, আমার শাড়ি কখনো বিন্যস্ত থাকবে না। ছোট্ট সেই হাত দুখানার মালিক সারাক্ষণ জ্বালায় যন্ত্রণায় অস্থির করে রাখবে আমার চারপাশ। কিন্তু কিচ্ছু হল না.. কিচ্ছু পেলাম না আমি.. আজকাল যখন দেখি আমার গোছানো ঘর সারাবেলা গোছানোই থাকে, বিছানার ভাজ কখনো নষ্ট হয়না। একপাশে চুপচাপ শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে থাকেন শুধু আপনি, আমার তখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে সব ভেঙে ফেলি, নষ্ট করে দিই এই সাজানো সংসার… মহসিন, এসব কথায় আপনার নিশ্চয়ই রাগ হচ্ছে? কষ্ট পাচ্ছেন খুব, না? কত সবরের তালিম আপনি আমায় দিয়েছেন, কতবার বুঝিয়েছেন দুনিয়া সব আকাঙ্খা পূরণের স্থান নয়... কিন্তু.. আর যে আমি পারছি না মহসিন! বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি। বন্ধ্যা মায়েদের মানুষ কত কী যে বলে... সেসব তো কখনো বাবাদের শুনতে হয়না। আপনি জানবেন কী করে? আমি আর এসব সইতে পারি না। আপনাকে সন্তানের বাবা ডাক শোনানোর ক্ষমতা আমার নেই। এই কষ্ট আমার গর্ভধারণ করতে না পারার কষ্টকেও ক্রমশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আপনি আবার বিয়ে করুন। আমার না হোক, অন্য কোনো নারীর গর্ভ থেকে আপনার রক্তের উত্তরসূরী আসুক...' সমস্ত কথা বলতে গিয়ে কতবার যে হুমায়রা কাঁদল, গুমরাল, ফুঁপিয়ে উঠে নিরব হল। কিন্তু একবারও চেয়ে দেখল না মহসিন কী ভাবছে। বাবা ডাক না শুনতে পারার কষ্ট নিশ্চয়ই তারও আছে, আরো আছে স্ত্রীর আকাশসম দুঃখে চাইলেও শতভাগ অংশিদার হতে না পারার ব্যর্থতা। কষ্টের মাত্রাধিক্য হলে হুমায়রার তো মেয়েলি সমাধান আছে; কেঁদেকেটে, পাগলামো করে ভার কমাতে পারে সে। কিন্তু মহসিনের কী আছে? ছাদের কিনারায় দীর্ঘক্ষণ স্থানু হয়ে রইল দুজন। হুমায়রা কার্ণিশে হেলান দিয়ে আছে আনত মুখে। দূরে দাঁড়িয়ে মহসিন। অনেকক্ষণ সে প্রায় কিছুই বলল না। একসময় আবারো সেই অতল গম্ভীর স্বর, ছুটে চলা মন্থর হাওয়া পাশ কাটিয়ে হুমায়রার কানে এসে পৌঁছুলো। 'ব্যস এতটুকুই বলার ছিল তোমার?' প্রশ্নটা সহসা বুঝে উঠতে পারে না হুমায়রা। তাকায় অবিশ্বাসভরে। 'শোনো তাবাসসুম হুমায়রা। আমি কোনোদিন এমন সন্তানের বাবা হতে চাইনি যার মা তুমি নও। কখনো চাইবোও না...' হুমায়রা শুনল, দীর্ঘক্ষণ চেয়ে রইল মহসিনের মুখের পানে। যেন বুঝতে চেষ্টা করল দুর্বোধ্য ওই চোখের ভাসা। অনেকক্ষণ পর স্থবিরতা ভেদ করে জেগে উঠল ওর স্বর,’তার মানে?’ মহসিন শান্ত ভাবে তাকায়,‘তার মানে এই যে, দ্বিতীয় আর কোনো স্ত্রীর আমার প্রয়োজন নেই।’ উত্তর শুনে কী যেন হয় হুমায়রার। নিষ্পলক চোখে মহসিনের দিকে চেয়েই থাকে। সঞ্চালনহীন, ভাবলেশহীন, এমনকি চোখের মণিকোঠার সামান্যতম তরঙ্গহীন সে দৃষ্টি। বরাবরের মতো মহসিন জিজ্ঞেস করে, 'কী হুমায়রা?' চোখ সরিয়ে নেয় হুমায়রা। তিরতির করে কাঁপে তার ঠোঁট, জল আসে চোখে। মনে মনে সে বারবার বলে চলে, 'আপনার এই অসীম ভালোবাসার যোগ্য আমি নই মহসিন... একেবারে নই... জীবন নামক হিসেবের খাতায় ছক কষতে গিয়ে বড্ড ভুল আঁক দিয়ে ফেলেছেন আপনি....'
বইটা আমি গতরাতে পড়েছি। পড়া শেষ করে দেখলাম রাত ৩:৪৮ বাজে! একটানা পড়ে গেছি এই বিষাদ আর মায়ার উপাখ্যান। 'নূরমহল' নামটা কত সুন্দর অথচ এর অন্দরমহলের মানুষগুলো এমন কেন! মহসিন যদি এমন চমৎকার না হতো তাহলে হুমায়রার জীবনটা কেমন যে হতো! নূরমহলে হুমায়রাকে পড়তে পড়তে আমার কি যে দমবন্ধ লাগতো! ভাগ্যিস মহসিন এত্তো ভালো ছিল নাহলে তো হুমায়রার জীবন এমন দমবন্ধ অবস্থায় কাটাতে হতো! মহসিন, হুমায়রা আর নূরমহলের একমাত্র শিউলিকে আমি ভালোবেসেছি! আর কাউকে না! দাদির (লুৎফা) আচার-আচরণ এতো খারাপ লেগেছে আমার! এতো নির্বিকারে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের হৃদয় ভেঙে দেওয়ার কাজটা কিভাবে যে করে! আর মহসিনের ফুপু তিনটাই তো জঘন্য! পুরো গোষ্ঠীসমেত বাবার বাড়ি থাকছে। সেখানেও ভাতিজার বউকে নিয়ে সব মাথাব্যথা! হুমায়রা এতো অনাচারের কথা কিভাবে যে নিজের ভিতরে বন্দী করে রাখতো! এই বই জীবনের কত পাঠ দিয়ে যায়... সবর আসলেই বহুত বড় এক সম্বল! সবাই সুন্দর মতো, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবর করতে পারে না। যারা পারে তাদের দুনিয়া ও আখিরাত মায়াবাসায় ভরে উঠে! আল্লাহ আমাদের জীবনকে সহজ করুন। জীবনের ছোটখাটো পরীক্ষাগুলোতে সবরুন জামিল আর ক্বলবুন সালিম দান করুন। আমিন। উম্মে মারইয়াম আপুর কিছু লেখা ফেসবুকে পড়েছি আমি। সবগুলোর মতো এই বইটাও এত্তো চমৎকার হয়েছে! 'হিঙুল রঙের মায়া' আমাকে অনেকটা কাঁদিয়েছে... আমাদের জীবন জুড়ে মায়াবাসা বিরাজ করুক। ~সিদ্দিকা ০৫.০৯.২০২৬ বেলা ১১:২৬
Read all reviews on the Boitoi app
স্বামী হিসেবে প্রত্যেক মেয়েই হয়তো মহসিনের মতো কাউকে চায়। কিন্তু মহসিনরা কি তাবাসসুমদের এত মর্যাদা দেয়! গল্পটা ভীষণ ভালো লেগেছে মা শা আল্লাহ। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে ফুলঝুরিতে ফুলঝুরির জন্য অপেক্ষমান দেখে বেশ ভালো লাগলো।
জীবন মানে কষ্টের যাত্রা। তাই অবসরে যখন কিছু পড়তে বসি তখন আনন্দদায়ক কিছু লেখা পড়তেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। অন্যায় নির্যাতন দুঃখ দায়ক লেখা পড়লে মন উদাস হয়ে যায়, অন্তর অভিমানে পূর্ন হয়... যা নাশুকরিয়ার দিকে মনকে ধাবিত করে। যা একদম উচিত নয়। তাই পড়তে বিরক্ত হচ্ছিলাম, বারবার পড়া বন্ধ করে দিছিলাম, তারপরও শেষ পর্যন্ত পড়া জারি রাখলাম, কারণ......... আপনার লেখার হাত খুবই ভালো, একটা বিশ্বাস ছিল লেখা অবশ্যই ভালো হবে, ভালো লাগবে। যাহোক বিশ্বাস এর মূল্য পেলাম...... '' লেখাটা অসাধারণ ".... এবং শিক্ষণীয়। লেখাটা পড়ে আল্লাহর উপর ভরসা বাড়বে বৈ কমবে না। বিশ্বাস ভরসার অসাধারণ উদাহরণ। কঠিন সময়ে দৃঢ় থাকার উৎসাহ যোগায়। এ রকম আরও লেখা পড়ার আগ্রহ থাকলো।
এত সুন্দর মার্জিত বাস্তবসম্মত গল্প খুব কমই পড়েছি। প্রতিটি ধাপে যেন অনুভব করা যায় ভাষার মর্মার্থ। মানুষের ধৈর্য কতটা সততার সাথে বর্ননা করা হয়েছে তা অসম্ভব সুন্দর। সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল,"কষ্ট পেলে তুমিও কাঁদবে... গভীর নিশ্বাস ফেলবে... ওদের দুঃখ অনেক বেশি বলেই যে তোমার দুঃখ একেবারে নূন্য, তা তো নয়! তবে সবই করবে সবরের সাথে। রবের প্রতি অভিযোগ না এনে অসীম তাওয়াক্কুলকে হৃদয়ে ধারণ করে...। এত সুন্দর ধৈর্যের সহিত এমন পরিনতিই তো হওয়ার মত। আর মহসিনের এত মন শীতল করে দেওয়ার মত ভালোবাসার ব্যাখ্যা, "একেবারে কাছের কোন বস্তু পরিষ্কার দেখতে চাইলে সামান্য দূরে নিতে হয়, তেমনি সবসময়কার অভ্যস্ততা ছেড়ে মাঝে মাঝে দূরে সরলেই জানা যায় ভালোবাসা কতটা ছিল..." আহা! কি চমৎকার চিন্তাধারা। অনুভূতি! অসাধারণ আপনার লেখনি। মাহ শাহ আল্লাহ।
এমন জীবন্ত ও প্রাণবন্ত উপন্যাস বর্তমান সময়ের লেখনীতে খুব কমই পড়েছি। উপন্যাসের ভাষা ছিল উচ্চাঙ্গের, এতটা ভাবগম্ভীর, যে বারবার পড়ে প্রতিটি বাক্যের অন্তর্নিহিত অর্থ অনুধাবন করতে হয়েছে। এত চমৎকার ভাষাশৈলী নিঃসন্দেহে একজন সুচিন্তিত, গভীর মননশীল লেখকের নিপুণ অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ তা সহজেই অনুমেয় ।উপন্যাসের প্রতিটি ছত্রে যেন ছড়িয়ে আছে অন্তর্নিহিত শিক্ষা। সবর, তাওয়াক্কুল এবং রবের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার দৃষ্টান্ত। লেখাটি শুধু একটি উপন্যাস নয়, বরং এক প্রশান্তিময় আত্মিক ভ্রমণ, যা পাঠককে ভাবতে শেখায়, উপলব্ধি করতে শেখায়।লেখা পড়ে মনে হয়েছে এমন লেখা আরো আসুক।এমন লেখার বড়ই অভাব বতর্মান সাহিত্যে। চটকদার ও অশালীন উপস্থাপনার ভিড়ে এটি যেন এক পশলা প্রশান্ত বৃষ্টি, যা হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, চিন্তায় পবিত্রতা ছড়িয়ে দেয়।আল্লাহ লেখিকাকে বারকাহ দান করুন, তাঁর কলমে হিদায়াত ও কল্যাণ স্থায়ী হোক। তিনি যেন দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান লাভ করেন, আমিন সমালোচনা :কিছু যায়গায় বানান ভুল ছিল।আর লেখার এক অংশ থেকে আরেক অংশে প্যারার যে ব্যাবধান তা এতই কম ছিল যে আগের অংশ থেকে পরের অংশের পরিবর্তন বিভ্রান্তিকর
'হিঙুল রঙের মায়া' নামের মতোই স্নিগ্ধ, সুন্দর, সতেজ একটা গল্প। মিষ্টি আর রিনরিনে প্রেমের গল্প। গল্পটায় পুরোদস্তুর গ্রামীণ একান্নবর্তী পরিবারের চিত্র উঠে এসেছে। স্বামীর বাড়িতে একটা মেয়েকে কীভাবে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সংগ্রাম করে থাকতে হয় - লেখিকা বেশ নিখুঁতভাবে এটা তুলে ধরেছেন, মাশাআল্লাহ। এটা পড়ে আমার নিছক কোনো বইয়ের পাতার কাল্পনিক গল্প মনে হয়নি। এ তো আমাদের সমাজের অহরহ চিত্র৷ হুমায়রা - রবের উপর তাওয়াক্কুল করে কেবল নিরবে কথার বিষবাণ সহ্য করে যাওয়া গ্রামীণ বউয়ের প্রতিচ্ছবি। আর মহসিন! প্রতিটা মেয়ের কাল্পনিক পুরুষ। কাল্পনিক হলেও এমন পুরুষের সংখ্যা সমাজে নিতান্ত কম নয়। কম নয় বললাম, কারণ আমার দেখার মাঝে এরকম কয়েকজন মহসিন আছেন। সব থেকে অবাক করা ব্যাপার হলো হুমায়রা-মহসিনের কাহিনি প্রায় হুবহু মিলে গিয়েছে আমার এক আত্মীয়ের সাথে! আলহামদুলিল্লাহ, এখন তাদেরও 'হিমি-মিহি' আছে। দুআ করি, পৃথিবীর সব হুমায়রা-মহসিন দম্পতিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হিমি, মিহি আর হিমেলের অভিভাবক হবার তাওফীক্ব দিন। প্রতিটি হুমায়রার একজন মহসিন আর মহসিনের একটা হুমায়রা হোক৷ আমীন.. . বারাকাল্লাহু ফীকি আপু। রাব্ব আপনার লেখায় আরো বারাকাহ দিন। আবারো আমাদের এমন স্নিগ্ধ গল্প উপহার দেবার তাওফীক্ব দিন।
بسم الله الرحمن الرحيم বইটই থেকে কেনা আমার প্রথম ই-বুক এটি। যেদিন কিনেছিলাম, বারবার মনে হচ্ছিলো, এটা আমার জন্য একটা উত্তম সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু সেটা ঠিক কতটা উত্তম তা আজ পড়ে শেষ করার পর বুঝতে পারলাম, আলহামদুলিল্লাহ! অধ্যায় সংখ্যা দেখে ভেবেছিলাম বেশ কিছুদিন কাটানো যাবে বইটা পড়ে। অথচ আমি এতোই আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম যে, দুপুর আর রাত দুই দফায় পুরো বইটা পড়ে শেষ করে ফেলেছি একদিনেই! হাইলাইট করে করে পড়েছি বইটা। ছোট্ট ছোট্ট কত লাইনও হাইলাইট করেছি! কেউ হঠাৎ দেখলে বলবে, "এটা তো একটা সাধারণ কথা! এখানে হাইলাইট করার মতো কী পেলে?" তাকে আমি বুঝাতে পারবো না, এই ছোট্ট সাধারণ কথার পিছনে কী অসাধারণ কিছু লুকিয়ে আছে! বোঝার জন্য তাকে বইয়ে ডুব দিতে হবে, হুমায়রাকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে, তাঁর অনুভূতিকে লালন করতে হবে... বইয়ের প্রতিটা অধ্যায় নিয়েই আমার কিছু না কিছু লেখার আছে, আলাদা আলাদা রিভিউ লিখতে পারতাম। নোটপ্যাডে কিছুটা লিখেছিলামও। কিন্তু স্পয়লার হয়ে যাবে ভেবে আর লিখিনি। আমি খুব বিস্তারিতভাবে অনুভূতি প্রকাশ করে রিভিউ লেখা মানুষ। কিন্তু এই উপন্যাসের রিভিউ লিখতে গিয়ে কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে, রিভিউ দিয়ে এই উপন্যাসকে যাচাই করা যাবে না ঠিক। পড়তে হবে, অনুভব করতে হবে, ব্যতিক্রমী কিছু পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ! "হিঙুল রঙের মায়া" পড়ে কী কী শিখলাম, কী কী উপলব্ধি হলো, চিন্তার খোরাক জাগালো, সবকিছু নিয়ে একটা তালিকা করা যাবে। তবে এক কথায় বলতে গেলে সবচেয়ে প্রগাঢ় উপলব্ধি হচ্ছে, "প্রত্যেকের জীবনেই কিছু নিয়ামাত আছে, কিছু পরীক্ষাও আছে৷ আর কষ্টের পরেই স্বস্তি আছে। সবর আর শোকরেই মুমিনের জীবন কল্যাণময় হয়৷ আর সবর-শোকরের শিক্ষা নেয়ার জন্য আমাদের নবিজি ﷺ আছেন, আলহামদুলিল্লাহ! দুনিয়ার জীবনই সব আশা পূরণ হওয়ার জায়গা নয়, দুনিয়া তো মুমিনের কারাগার। আমাদের একটা আখিরাত আছে!" সবচেয়ে সেরা চরিত্র নি:সন্দেহে মহসিন। এই চরিত্রকে নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে পারছি না, আমার যোগ্যতা নেই, বলার সক্ষমতা নেই। আমি বিশ্বাস করি, খুব অল্প হলেও মহসিনের মতো মানুষ পৃথিবীতে আছেন। আছেন ভেবেই, স্বস্তি লাগে। পৃথিবীর প্রত্যেক হুমায়রার জীবনে একজন মহসিন আসুক! শেষদিকে এসে কোনো এক লেখায় পড়া একটা লাইন মনে পড়ছিলো, "দুনিয়া যায়ে ভাঁড়মে, হাম রাহেঙ্গে এক সাথ!" পরিশেষে আপনার জন্য দুয়া ও ভালোবাসা আপু। আল্লাহ আপনার লেখনীতে অঢেল বারাকাহ দিন। আপনার জীবনের সকল কষ্টকে স্বস্তিতে পরিণত করুন। দ্বীন ইসলামের রঙে রঙিন এমন আরো অনেক লেখা আমাদের হাদিয়া দেয়ার তাওফীক দিন রহমত, বরকত ও আফিয়্যাতের সাথে। ما شاء الله ، اللهم بارك بارك الله في علمك و حياتك جزاك الله خيرا في الدنيا والأخرة
পড়তে পড়তে কখন যে হিঙুল রঙের মায়ায় বাধা পড়ে গেলাম বুঝতেই পারলাম না...
হিঙুল রঙের মায়া.... এক গুছানো দম্পতি,এক একান্নবর্তী পরিবার গ্রামীণ বাংলার,এক না পাওয়ার উপাখ্যান... উমম..ঠিক রিভিউ নয় এটা শুধু টুকরো টুকরো কিছু কথা.. গ্রামীণ বাংলার নারী সমাজের অবস্থা উপস্থাপিত হয়েছে সুন্দর রূপেই যা বাস্তবিক,নারীর প্রতি নারীর ইর্ষা,জুলুম,নারী নারীদের শত্রু কথাটা ফুটেছে শতভাগ।যা আসলে আমরা আমাদের সমাজেই দেখি! আর তারমাঝে হুমায়রা এক সাবিরা,যার কাছ থেকে শেখার আছে সবরের ইমতিহান কিভাবে দিতে হয়,রবের শুকরিয়া কিভাবে আদায় করতে হয় আর কিভাবে জবানে লাগাম দিতে হয় যা বর্তমান নারীদের জন্য কঠিনতম হয়ে ঠেকেছে.... মহসিন সে তো এক সুপুরুষ এককথায়.. যদিও এমন সুপুরেষ সংখ্যা সমাজে নিতান্ত কম.. পুরো উপন্যাস জুড়ে কালো আধারীর ছায়া খেললেও রয়েছে এক রঙের মায়া যার নাম হিঙুল সব শেষে এক বাক্যের একটা শিক্ষা.. "তোমরা রবের অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না" লেখিকা সাহেবা আপনাকে অসংখ্য শুকরিয়া।আল্লাহ আপনার লেখায় অনেক বেশি বরকত দিন যেন আপনি উপহার দিতে পারেন বিভিন্ন রঙের মায়া যা অন্তরকে মায়াবাসী করবে.. অনেক অনেক স্নিগ্ধ ছিলো হিমি মিহির উম্মি,আবির গল্প। পছন্দের একটা লাইন লিখে শেষ করছি, "দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার।কারাগারই সই। আমাদের একটা আখিরাত তো আছে.." একদমই শেষে অনেক অনেক মোবারকবাদ,বারাকিল্লাহু ফিক্বি..
পুরোটা সময় আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম হিঙুল রঙের মায়াতে। অনিন্দ্যসুন্দর লেখনী। আল্লাহুম্মা বারিক লাহা। আর ও অনেক অনেক বই চাই প্রিয় আপু। ফুলঝুরি যেন আমারই স্বপ্নের ঠিকানা যেটা আপনি তুলে এনেছেন, যেখানে আমি সবসময় না হলেও মাঝে মাঝে অন্তত থাকতে চাই।