

"এতো দারুণ একটা গল্প পড়লাম! কী সুন্দর সাবলীল জীবনের গল্প! কখনো খুশিতে হাসছিলাম আর কখনো জীবনের বাঁকে বাঁকে আসা দু:খের দহনে চোখ বেয়ে পানি পড়ছিলো! অসাধারণ একটা কাহিনী। ❤️❤️"
প্রিয় মানুষ, তোমাকে লেখা এটা আমার দশ নম্বর চিঠি। তুমি কি চিঠিগুলো পাও? পেলে কি চিঠিগুলো পড়? এই বেনামি চিঠিগুলোর গুরুত্ব কতটুকু তোমার কাছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে ইচ্ছে করে খুব। তোমাকে এভাবে লিখতে আমার খুব ভালো লাগে। চিঠির নেপথ্যের আমিটাকে চিনতে পারো কি না জানি না। তবু মনের কোথাও একটা বিশ্বাস জেগে থাকে, তুমি আমায় ঠিক চিনতে পারো। কি? চিঠি পড়ে হাসছো, তাইনা? কেমন আছো? ইদানীং তোমার ঘনঘন শরীর খারাপ হচ্ছে। নিজের যত্ন নাও, না একদমই। নিজেই যদি নিজের যত্ন নিতে না পারো, তবে আমাকেই তোমার কাছে নিয়ে যাও। আমার কি ভীষণ ইচ্ছে তোমায় যত্ন করার। আচ্ছা, ভাবোতো একবার, সকালে ঘুম ভেঙেই তুমি দেখলে, কেউ একজন তোমার বুক ঘেঁষে গুটিশুটি হয়ে ঘুমিয়ে আছে। তুমি তাকে আলতো আদরে জাগালে। সে উঠেই তোমার ঘুমঘুম চোখে চুমু খেলো, তারপর যত্ন করে তোমার জন্য চা বানালো। পাশে বসিয়ে নাশতা খাওয়ালো। দুপুর বেলা ঘেমে নেয়ে তোমার জন্য রান্না করলো। কি! ভাবতেই কেমন লাগে, তাই না? তোমার কেমন লাগে জানি না, কিন্তু এরকম একটা স্বপ্ন আমি রোজ দেখি আর সুখে বিভোর হই। একটা স্বপ্নই যদি এতটা সুখ দিতে পারে, তাহলে বাস্তবটা কত সুন্দর হবে, একবার ভাবো? আচ্ছা, আমার এই স্বপ্নটা কি কখনো পূরণ হবে? জানি না। তবে আমি আমার প্রতিদিনের প্রার্থনায় উপর ওয়ালার কাছে শুধু একটা জিনিসই চাই, তোমাকে যেন তিনি ভালো রাখেন। আর সেই ভালো থাকার সাথে যদি আমার কোন যোগসূত্র থাকে, তবে তিনি যেন তোমাকে আমার করে দেন। কি ভীষণ অপেক্ষা আর একবুক তৃষ্ণা নিয়ে আমি তোমার একটু প্রণয়মাখা চাহনি আশা করি, তুমি কখনো বুঝবে না। নিজের চারপাশে তুমি যে রুক্ষ কঠিন অদৃশ্য দেয়াল তুলে রেখেছ, একদিন সে দেয়াল আমি ভাঙবো। আজ এটুকুই। তুমি কি কখনো বুঝবে চিঠির নেপথ্যের মানুষটা কে? কখনো কি অন্তত একটা চিঠির জবাব দেবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা নেই, তবুও আমি অপেক্ষা করব। ইতি নামহীন নদী। চিঠিটা পড়ে বুকের ভেতর কেমন একটা সুক্ষ্ম ব্যথা খোঁচা দিতে লাগলো। সবকিছু কেমন অসহ্যবোধ হতে লাগলো। কতদিন সে নিজেকে ধরে রাখবে? কতদিন দূরে সরে থাকবে? শেষ পর্যন্ত কি পারবে? এই অবহেলাটুকু কি মেয়েটার প্রাপ্য? রিয়াদের ভীষণ মন কেমন করতে থাকে। রিয়াদ ফোনটা হাতে নেয়। কন্টাক্ট লিস্ট থেকে তিশার ফোন নম্বরটা বের করে আনে ডায়াল প্যাডে। দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগতে ভুগতে এক সময় কল দেয়। দুবার রিং হতেই ওপাশ থেকে রিসিভ হয়। ফোন রিসিভ করে দুজন দুদিক থেকে চুপ হয়ে থাকে। একে অপরের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনে। যেন শব্দ করলেই ঝনঝন করে ভেঙে পড়বে মুহূর্তটুকু। তিশার নিঃশব্দের কান্না রিয়াদ অনুভব করে। এই পাগল মেয়েটাকে কিভাবে বোঝাবে সে? কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে রিয়াদ নীরবতা ভঙ্গ করে। "তিশু" তিশা নিশ্চুপ। কোন কথা বলে না। কেবল ফোনটা কানের সাথে আরো জোরে চেপে ধরে। "কথা বলবি না?" নরম স্বরে বলে রিয়াদ। তিশা নিশ্চুপ। "ঠিকাছে, কথা বলতে হবে না। একটা কথা বলি, মনযোগ দিয়ে শোন। তোকে একটা অনুরোধ করব বলে ফোন দিয়েছি। আর কখনো আমার কাছে চিঠি পাঠাবি না। মনে থাকবে? যে কঠিন ব্রতটা আমি পালন করছি, সেটা পালন করা যদিও খুব কষ্টের, তবু ওটা ভেঙে যেতে দিস না। এতে দুজনেরই মঙ্গল। এরকম পাগলামি করলে আমাকে আর কখনো দেখতে পাবি না।" অপরপ্রান্তে তিশার দমবন্ধ হয়ে আসে। কি নিষ্ঠুর আচরণ! কি নিষ্ঠুর! বুক ভেঙে কান্না আসে তিশার। রিয়াদ বোঝে। সহ্য হয় না আর। ফোন কেটে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে, ভাবে মানুষ কেন এত অসহায়? পরিস্থিতির কাছে তার কেন এত দায়বদ্ধতা? কেন তার জীবনটা আরেকটু সহজ হলো না? কেন? অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রাতের শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে এক নিদারুণ দহন যন্ত্রণায় পুড়তে থাকে।
এতো দারুণ একটা গল্প পড়লাম! কী সুন্দর সাবলীল জীবনের গল্প! কখনো খুশিতে হাসছিলাম আর কখনো জীবনের বাঁকে বাঁকে আসা দু:খের দহনে চোখ বেয়ে পানি পড়ছিলো! অসাধারণ একটা কাহিনী। ❤️❤️
Read all reviews on the Boitoi app
কি বলবো! বলার মতো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি! বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হবে তবুও বলে শেষ করা যাবে না। তিন টা খন্ডই মন দিয়ে পড়েছি, এতো ভালো লেগেছে পড়াকালীন পুরোটা সময়, যার রেশ কাটতে চাইছেনা, এই জীবনে আর নাই কাটুক। এই পার্টের ৪৭ নং পর্বটা পড়তে পড়তে নিজের অজান্তেই চোখের পানি এসে গিয়েছিলো! আহ জীবন! মানুষের মনের অনুভুতিটা আসলে অনেক বড়ো জিনিস! ব্যাখ্যাতীত। অনলাইনে-অফলাইনে এইটাইপের উপন্যাস অনেক পড়া হয়েছে। বিশেষ করে বইটই এপেই! কিন্তু এই উপন্যাস আমার হৃদয়ে অন্যরকম জায়গা করে নিয়েছে! এক কথাই বেষ্ট! তিন খন্ডের দাম ৩০০ টাকাও যদি নেওয়া হতো আমার মনে হয় তবুও পয়সা উসুল! যাইহোক অনেক কিছু বলে ফেললাম! সবশেষে লেখিকা আপুর জন্য অনেক অনেক শুভকামনা! মন থেকেই দোয়া করি এই লেখালেখির উসিলাই অনেক দূর এগিয়ে যাবেন।
আগেই পড়েছিলাম। এরকম একটা বই সেলফে না রাখলে কি চলে? তাই সংগ্রহ করে নিলাম। সত্যি বলতে দ্বিধার প্রতিটা খন্ড যেন একটা আরেকটাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই গল্পে জীবনকে এত সুন্দরভাবে আঁকা হয়েছে পড়তে পড়তে মনে হয় যেন নিজেও প্রতিটা মুহূর্তের সাক্ষী। এই বইটা মলাটে আসুক। পাঠকের ইচ্ছে। লেখিকার জন্য অনেক শুভ কামনা রইল।
খুব সুন্দর।
সন্ধ্যায় কিনে এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম এখন রাত সাড়ে তিন টা বাজে। খুব ভালো লাগলো।