

তনয়া ব্যাগটাকে টেবিলের উপর রেখে এগিয়ে গিয়ে কালকের মতো সাব্বিরের পাশে বসল। আলতো করে হাত রাখল সাব্বিরের গালে। ওপর হাত বিছানার উপর রেখে সেখানে মাথা ঠেকিয়ে পলকহীনভাবে তাকিয়ে রইল সাব্বিরের মুখপানে। অনেকটা সময় নীরবতায় কাটিয়ে দিল। অতঃপর বলল, “আপনি আমার হওয়ার পরও আপনাকে আমার পাওয়া হলো না। আর যে আপনাকে পাবে, আপনি তার ছিলেন না! তবুও, সে আপনাকে পাবে। কারণ, আমি আপনাকে হারিয়েছি। নিঃসন্দেহে সে খুব ভাগ্যবতী! নয়তো, এত সহজে কি আপনাকে পেত?” তনয়ার গাল বেয়ে নোনাজল গড়ায়। সে ঢোক গিলে আবার বলে, “আপনার জন্য আমি বাড়ি আসা ছেড়েছি। চোখের সামনে আপনাকে দেখলে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি। সব ভুলে যাই। আপনার দেওয়া আঘাতটা ভুলে যাই। এইযে, দেখুন না! বরফের মতো গলে গিয়ে বারবার আপনার কাছে ফিরে আসি। শুধু আপনাকে দু'চোখ ভরে দেখতে। আপনাকে দেখার রোগটা ভীষণ ভয়ানক, সাব্বির ভাই! এই রোগটা আমায় ঘুমোতে দেয় না বহুকাল!” তারপর একটু থেমে বলে, “আপনাকে দু'চোখ ভরে দেখার তৃষ্ণা আমার এক জীবনের সবচেয়ে বড় তৃষ্ণা! কতগুলো বছর পর আপনাকে দেখছি! জানেন, আমার খুব ইচ্ছে করে আপনার সামনে বসে আপনার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি। কিন্তু, সেই অধিকার তো আমার নেই। আপনি কেড়ে নিয়েছেন! তাই সাহস হয় না।” কথাগুলো বলতে বলতে তনয়ার গলা ধরে আসে। সে ঢোক গিলে নিজেকে সামলায়। বলতে লাগে, “জানেন, আজকে রেস্টুরেন্টে যখন আপনি আমায় বুকের মাঝে আগলে রেখেছিলেন, আমার এত শান্তি লাগছিল! ভীষণ কান্না পাচ্ছিল! আপনার বুকে এত শান্তি কেন, সাব্বির ভাই? এই শান্তির জায়গাটা আমার জন্য চিরস্থায়ী নয় ভাবতেই আমার পৃথিবীটা দুলে উঠে! ভীষণ কান্না পায়। কেঁদেকেটে সব ভাসিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে, সাব্বির ভাই! আপনার বিরহ আমার সয় না। আপনাকে হারানোর আগেই যেন আমি মরে যাই!”