

রাতে খাওয়ার পর খালামনি আমার রুমে এসে ব্যাকুল হয়ে জানতে চাইলেন, 'তুষারকে তোর কেমন লেগেছে বল? কথাবার্তা আগাবো? জেসমিন এত প্রশংসা করেছে ছেলেটার! লাখে একটা!' আমি ততক্ষণে ভেবে ফেলেছি কী বলে তুষার সাহেবকে রিজেক্ট করব। খুব বিরক্ত মুখে আমি বললাম, 'তুষার সাহেবের ছবি আমি একটা গার্লস গ্রুপে পোস্ট করে তার চার চারটা গার্লফ্রেন্ডের খোঁজ পেয়েেছি। একটা গ্রুপেই চারটা গার্লফ্রেন্ড পাওয়া গেছে। ভাবো কেমন লোক! এই লোককে আমি বিয়ে করব না, অসম্ভব!' 'কীসের গার্লস গ্রুপ? কী বলছিস?' 'এসব তুমি বুঝবে না, খালামনি। আজকাল গার্লস গ্রুপে পোস্ট করেই সব জানা যায়। মানুষ তো এখন এসব গ্রুপ থেকেই দুনিয়ার সব খবর জানে! দেখতে ভোলা-ভালা হলেও ওই লোক সুবিধার না।' খালামনি সহজ-সরল মানুষ। অতশত বুঝেন না। আমার এই আজগুবি কথা তাকে বিশ্বাস করাতে তেমন কোনো ঝামেলা হলো না। তবে তাকে আশাহত দেখালো। আমি সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, 'যাক, খালামনি, বাদ দাও। যা হয়, ভালোর জন্যই হয়! আর এসব কথা আবার ওই লোক বা জেসমিন আন্টিদের কাউকেই বলার দরকার নেই। দেখা যাবে উনি সবকিছু অস্বীকার করছে। নিজের চরিত্রের দোষ কী কেউ স্বীকার করে? করে না! ফালতু ড্রামা হবে শেষে। কী দরকার তার? এরচেয়ে তুমি তাদের অন্য কিছু বলে না করে দাও।' খালামনি আমাকে বললেন তিনি অন্য কিছু বলেই তাদের না করবেন। কোনো ড্রামা দেখার প্রয়োজন নেই। চুলোয় যাক এমন সম্বন্ধ! আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচি। বিয়েটা ভেঙে রাতে নিশ্চিতে ঘুম দিই। কিন্তু সকাল বেলা উঠেই আমি বিরাট এক দুঃসংবাদ পেলাম। তাতে আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠে, কলিজা শুকিয়ে যায়। খালামনি তাদের অন্য কিছু বলেই নিষেধ করেছে। কিন্তু আমার বলা এই বানোয়াট কথা খালু চেপে রাখলেন না। তিনি নাকি ফোন করে বিরক্ত গলায় জেসমিন আন্টিদের বলেছেন, এমন ছেলের জন্য তারা কেন আমার সম্বন্ধ পাঠিয়েছে! একটা গার্লফ্রেন্ড থাকলেও কথা ছিল। কিন্তু এই ছেলের একটা গ্রুপেই চার চারটা গার্লফ্রেন্ড পাওয়া গেছে! এসব অপবাদের মোকাবেলা, যাচাই-বাছাই করার জন্য তুষার সাহেব এই মুহূর্তে আমাদের বাসার ড্রয়িং রুমে বসে আছেন। আমি যদি জানতাম এসব কথা তাদের কান পর্যন্ত যাবে। মোকাবেলা, যাচাই-বাছাই হবে— আমি জীবনেও বলতাম না! জীবনেও না! ধরণী দ্বিধা হও! তোমার বুকে আমাকে জায়গা দাও একটু। আমি লুকিয়ে পড়ি! এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে আমি পারব না।
"এক বসায় শেষ করলাম। কি নিরেট স্নিগ্ধ মিষ্টি গল্প। মন প্রাণ বলতে গেলে একদম জুড়ে গেলো। ভীষন ভীষন ভালো লাগলো।"
অসম্ভব সুন্দর। একটানে পড়ে ফেললাম। শেষ করার পরও সুন্দর অনুভূতির এই ঘোর কাটছে না।
Read all reviews on the Boitoi app
এক বসায় শেষ করলাম। কি নিরেট স্নিগ্ধ মিষ্টি গল্প। মন প্রাণ বলতে গেলে একদম জুড়ে গেলো। ভীষন ভীষন ভালো লাগলো।
আমার খুব সহজে কোন জুটি পছন্দ হয় না। কিন্তু তুষার ও রিভা কে কী যে ভালো লেগেছে বলে বুঝাতে পারবো না। লেখিকা আপু কে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছি। শুভেচ্ছা রইল।
অসম্ভব সুন্দর হয়েছে ইবুকটা ❤️
আপু গল্পটা কি দারুন, আপনার লেখার মান এত ভালো। গল্পটা পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেছি।
মানুষ কি জানে সে কোথায় কখন কোন ঠিকানায় সুখপাখি পাবে! গল্পটা এক সাধারণ মেয়ের যার বিয়ে নিয়ে অনেক অনেক স্বপ্ন- নায়কের মতো বর, স্বপ্নের মতো বিয়ের আয়োজন, লাক্সারি জীবন। একদিন তার দুয়ারে রাজকুমার কড়া নাড়ে কিন্তু ততোদিনে সে মন হারায় সাধারণ তবু অসাধারণ এক মাটির মানুষে। আহা মানুষ কি যে চায়!!! গল্পটা পড়তে ভীষণ ই ভালো লাগলো।। জীবনে যত্নবান মানুষ থাকলে রাজপ্রাসাদ তুচ্ছ হয়ে যায়। মানুষ বাঁচে মায়ায়।
মন খারাপ হলো। আশা করেছিলাম তাদের আরোও বেশি প্রেম দেখতে পাব। আপনি সব গল্পের সুন্দর মুহূর্তে গল্প শেষ করে দেন। Not fair. 🙃
গল্প টা পড়ে আমার কেন জানি কান্না পাচ্ছিলো। গল্পে রিভা বেশ চঞ্চল মিষ্টি একটি মেয়ে যার শখ স্বপ্ন তার কাছে অনেক মূল্যবান। তুষার কে ছবি দেখে রিজেক্ট করে নিজের ড্রিম বয় কে বিয়ে করার জন্য আর সেই মেয়ে কি না সব তুচ্ছ করে সেই তুষার কে বিয়ে করে৷তুষার কি সুন্দর যত্ন করতো খেয়াল রাখত সত্যি রিভার এমন যত্ন আর কেউ হয়তো রাখতেও পারতো না। আসলে রুপ সাময়িক ফেসিনেশন মানুষ টা যদি মন থেকে ভালো না হয় সে যতই সুদর্শন হোক না কেনো সেখানে ভালোবাসা থাকবে না। তুষার চরিত্রটি আমাদের সে দিক টাই বুঝিয়েছে। আর রিভার চিন্তাধারা অনেক টা বাস্তবিক৷ সব মেয়েই চায় তার হাসবেন্ড সুদর্শন হবে, স্মার্ট হবে, স্টাইলিশ হবে। আর তুষার ভাই বুঝিয়েছে রুপ নয় মন বড় হতে হবে। তুষার ভাইয়ের ছোট থেকে ছোট যত্ন গুলো কত টা প্রেমময় কতটা যে ভালোবাসাময় ছিলো। রিভার কদম পছন্দ বলে তাদের গ্রামের গাছ থেকে ফোটা ফুল কতটা যত্ন করে আনিয়েছে।যখন রিভা তার আংটি পড়ানোর কথা বলে তখন তুষার ভাইয়ের কষ্ট টা বুঝতে পারছিলাম। সে যখন বলল সে কি দেখতে সুদর্শন, ড্রেসিং সেন্স ভালো, কতটা কষ্ট নিয়ে যে বলেছিলো উফফ!!! এটা থেকেই বুঝা যায় লোকটি ঠিক কতটা ভালোবাসতো রিভা কে। রিভা পরিশেষে এটা বুঝেছিলো এবং তুষারের কাছে ফিরে গিয়েছিল। সমাপ্তি দেখে আমার কান্না পাচ্ছিলো জানি না কেনো? বাট পাচ্ছিলো। জীবনে ভালোবাসা, যত্ন এগুলোই তো দরকার। মানুষ টা ইমপারফেক্ট হলেও তাকে পারফেক্টলি গড়ে নেওয়া যাবে ~ গল্প টা এক কথায় অসাধারণ ❤️❤️❤️ আমি ১০০/১০ দিবো। গল্প টা আমার খুব ভালো লেগেছে। মনে গেথে রয়েছে। ইসরাত আপুর নারী ও পুরুষ চরিত্র গুলো এত অসাধারণ হয় যে কি বলবো।টিক লাভ আপু 🌸🌸
মেয়েদের বোঝা উচিত জীবনে হ্যান্ডসাম, ড্যাশিং, নায়কের মতো হাজবেন্ড এর চেয়ে কেয়ারিং, দায়িত্বশীল এমন কাউকে পেলে আর কিছু লাগেনা।তুষার সাহেব তেমনি একটি উদাহরন! তার ছোট ছোট যত্নগুলো রিভাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে জীবনে আসলে আমাদের কেমন জীবনসঙ্গী চাওয়া উচিত❤️ রিভার কথাগুলোয় খুব হাসি পেয়েছে😆 খালুর আ্যাঁ করে তাকানোতে পেট চেপে হেসেছি😂 আর রিভার খালুু খালামনি কে কি বলব। অসাধারন ওনারা যার জন্য রিভার জীবন দুঃখের হয়নি। ইভা আপুর ও অবদান রয়েছে রিভার সঠিক স্বিদ্ধান্ত বেছে নেয়ার পেছনে। তানজিলা আপুর লেখার ফ্যান আমি! প্রিয় শ্রাবণী দিয়ে ওনাকে চেনা। ওনার প্রায় সব ইবুক পড়া শেষ! আপু আপনার লিখা পড়লে রেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ! রিভা আর তার তুষার সাহেব এর বিয়ের জীবন টা খুব দেখতে ইচ্ছা করছে🥺 হাজবেন্ড তুষার নিশ্চয়ই আরো বেশি কেয়ারিং! তুষার এর একাকি জীবনে রিভা আনন্দ বয়ে আনুক🫶 আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা আপু। এভাবেই সুন্দর লিখা দিয়ে আমাদের আনন্দ দিয়ে যান এই দোয়া রইলো🖤
কারো যদি বৃষ্টি দেখে খুব মন খারাপ হয়,গল্পটা নিয়ে বসুন।ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে গল্পটা শেষ হলে ,বর্ষার প্রথম প্রেমের কদম আপনার হাসিতে ফুটবে।মনে হবে, ইশ...আমারও একটা তুষার চাই