

ফাইনাল পরীক্ষার পর স্কুল থেকে একটা পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে। পিকনিক স্পট বাজিতপুরের দেড়শো বছরের পুরানো জমিদার বাড়ি। পিকনিকে ছাত্রীদের সাথে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও রয়েছেন। ছাত্রীদের গার্ডিয়ানদেরও কেউ-কেউ গিয়েছেন। বিশাল এলাকা নিয়ে জমিদার বাড়িটা। বাড়ির পিছনে একটা বিরাট দিঘি। দিঘির দুই পাড়ে বাঁধানো চওড়া ঘাটলা। বাড়ির ডান পাশে ঘন জঙ্গল। জঙ্গলের অনেক ভিতরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রঙমহল। মেয়েরা ছোট-ছোট দল হয়ে ঘুরে-ঘুরে প্রাসাদের কামরাগুলো, কুয়া, দিঘি, দিঘির ঘাটলা, দিঘির চার পাড়, জঙ্গল, রঙমহল, চেনা-অচেনা বড়-বড় সব গাছ… একেক করে সবকিছু দেখছে। কেউ বুনো ফুল তুলছে, কেউ প্রজাপতির পিছনে ছুটছে, কেউ-কেউ দিঘির ঘাটলায় সিঁড়িতে বসে গল্প করছে, গান গাইছে, কেউ আবার রান্না-বান্নার তদারকি করছে। হঠাৎ খেয়াল করল, তাদের মধ্যে একজন ছাত্রীকে দেখা যাচ্ছে না। তৎক্ষণাৎ সবাই মিলে খোঁজাখুঁজি শুরু করল। খুঁজতে-খুঁজতে অবশেষে তাকে পাওয়া গেল রঙমহলের পিছনে ঝোপ-ঝাড়ে ঘেরা বড়-বড় ঘাসের ভিতরে অজ্ঞান অবস্থায়। ওর পাজামার দুই উরুর মাঝখানে টাটকা রক্তের দাগ। ওর চোখে-মুখে পানি ছিটানোর এক পর্যায়ে জ্ঞান ফিরে এলো। জ্ঞান ফেরার সঙ্গে-সঙ্গে সবাই ওকে জেরা শুরু করল, কী ঘটেছে বলার জন্য। ও কিছুটা ধাতস্থ হওয়ার পরে বলল, ও নাকি একটা রঙিন প্রজাপতির পিছন-পিছন ছুটতে-ছুটতে রঙমহলের পিছনে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ে যায়। আছাড় খেয়ে পড়ে গিয়ে দেখতে পায়, হাঁটু অবধি লম্বা ঘন ঘাসের ভিতর থেকে কুচকুচে কালো রঙের, লম্বাটে মুখের অদ্ভুত একটা লোক হামাগুড়ি দিয়ে ওর দিকে ছুটে আসছে। ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে উঠবার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ওই কদাকার লোকটা ওকে সাপের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে পেঁচিয়ে ধরে। ও জ্ঞান হারায়।
দুর্দান্ত একটা কাহিনী! বেশ রোমাঞ্চিত অনুভব করছি। বর্তমানের নতুন লেখকদের মতো বালখিল্য টাইপের লেখনী নয়। অতিপ্রাকৃত গল্প হলেও লেখার পরদে-পরদে বাস্তবতার দৃশ্যায়ন। বাস্তবতার নিরিখে গায়ে শিহরণ তোলা এক থ্রিলার।
Read all reviews on the Boitoi app