

আজ চার দিন হয়ে গিয়েছে, তুশির কোনো খোঁজ পায়নি পরাণ। আজকাল তার দম বন্ধ হয়ে আসে। সে ঠিকমতো খায় না, ঘুমোয় না। বেশিরভাগ সময় চার দেওয়ালের আবদ্ধ ঘরে নিজেকে বন্দী করে রাখে। আর যেটুকু সময় বাইরে থাকে, সেটুকু সময় তুশিকে খুঁজে। ছেলের করুণ অবস্থা পাষাণ মায়ের মন গলাল। আফসানা বেগম ঠিক করল, আজকে সে তুশির কথা পরাণকে জানিয়ে দেবে। পরাণ নিজের ঘর থেকে বের হয়ে ছাঁদের দিকে হাঁটতে শুরু করল। আফসানা বেগম বাইরে গিয়েছিল একটু শান্তির জন্য, কিন্তু ছেলের করুণ অবস্থা মায়ের মনকে শান্তি দিচ্ছে না। পরাণের ছাঁদে এসেও ভালো লাগছে না। পরাণের দু'চোখ গেল ছাঁদের চিলেকোঠার দিকে! এই ঘর তো বেশিরভাগ সময় খোলা থাকে, তবে আজ বন্ধ কেন? পরাণের মনটা টেনে পরাণকে চিলেকোঠার ঘরের সামনে নিয়ে এসে দাঁড় করাল। পরাণ ইট দিয়ে চিলেকোঠার দরজা ভাঙতে লাগল। আজকাল সে খুব অধৈর্য হয়ে উঠেছে। তার মেজাজ সব সময় খিটখিটে হয়ে থাকে! সে যে নিচে গিয়ে ঘরের চাবি নিয়ে আসবে, সেই ধৈর্যও তার নেই। পরাণ একটা সময় তালা ভাঙতে সক্ষম হলো। তালা ভেঙে যা দেখল, তার জন্য পরাণ মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তুশি! তুশি এখানে কী করছে? তাকে হাত-পা-মুখ বেঁধে চেয়ারের সাথে রাখা হয়েছে। মেয়েটা নিশ্চয়ই মুক্ত হওয়ার জন্য ছটফট করেছিল, যার ফলস্বরূপ সে চেয়ার নিয়েই মাটিতে পড়ে আছে। পরাণের বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠল। সে চিৎকার দিয়ে তার বাবা বিনুকে ডাকল। তুশির এই অবস্থা দেখে পরাণের হাত থরথর করে কাঁপছে। সে দ্রুত তুশির হাতের মুখের বাঁধন খুলল। পলাশ হাসান ও বিনু এসে এসব দেখে চেঁচামেচি করতে লাগল। পরাণ তুশিকে বুকে নিয়ে গালে হালকা করে চড় মেরে বলল, “আমার জানবাচ্ছা, এই দেখ, তোর পরাণ ভাই চলে এসেছে। তোকে আর কষ্ট পেতে দেব না। আমি জানতাম, আমার জান আমাকে ঠকাতে পারে না। আমি আজ থেকে জানব, আমার মা মরে গিয়েছে। ওই মহিলা যেন আমার সামনে আর না আসে।”
