

ইরিনা আগে কখনো গ্রামে বেড়াতে আসেনি। এসে যে কি ভালো লাগছে। ভাগ্যিস নিয়াজ ভাইয়ের প্রস্তাবে রাজী হয়েছিলো উনার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতে। এখানে উনার মা একাই থাকেন কাজের লোকসহ। শহর উনার পছন্দ নয়। আসলেই গ্রামের নির্মল বাতাস চারিদিকে সবুজ প্রকৃতি মনটাকে ভিজিয়ে রাখে সারাক্ষণ। ময়মনসিংহের এদিকটায় এখনো তেমনভাবে শহুরে ছোঁয়া লাগেনি। ওরা আসায় খুব ভোরে উঠেই শুরু হয়ে গেছে পিঠাপুলির আয়োজন। ওদিকে আথাল থেকে মুরগী ধরা হচ্ছে। একজন হাঁস জবাইয়ে ব্যাস্ত। সারাদিন নানান ভোজন আর ঘোরাফেরা শেষে সন্ধ্যায় বসেছে গানের আসর -মিলন হবে কতো দিনে আমার মনের মানুষেরও সনে। ভীষণ ভালো লাগছে ইরিনার এইসব। ভুলে গেছে যেন তার অতীত বলে কিছু আছে। যে অতীতের কথা এখনো সম্পূর্ণটুকু জানেনা নিয়াজ। তবে তাকে তো বলতেই হবে। কারণ যতই আড়াল করুক না কেন নিয়াজ যে ধীরে ধীরে ইরিনার প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে তা মোটামুটি গ্রুপের অনেকেই বুঝে গেছে। শুধু ইরিনার জন্যই যে ফ্যামিলি ট্যুরটা তা সকলেরই জানা। তবে অনেকেই এতোদুরে আসতে চায়নি। রাকিব, সোহানা আর মাসুদ ভাই এসেছে তাও ফ্যামিলি ছাড়া। সোহানা তার মেয়েকে নিয়ে আসছে। ইরিনার মেয়ে জুনায়রার সমবয়সী সে। একসাথেই থাকছে সারাক্ষণ। আর খুব আনন্দ পাচ্ছে ফুল-প্রজাপতি নিয়ে। সন্ধ্যায় জোনাকিপোকা দেখে তো তারা অভিভূত। উৎফুল্ল হয়ে পিছন পিছন ছুটছে কেবল। ইরিনার তিন বছরের ছেলে আরাফ অবশ্য নিয়াজের কোলেই সারাক্ষণ। আর নিয়াজ একটুও বিরক্ত না হয়ে খুবই আনন্দিত হয়ে যেন নিজ সন্তান কোলে নিয়ে এদিক-ওদিক তদারকি করছে। আর এদিকে ইরিনা মরিয়া হয়ে আছে কখন নিয়াজকে একা পাবে। যে করেই হোক মিথ্যে স্বপ্ন রচনা করার আগে তাকে যে সব খুলে বলতেই হবে। নিয়াজ শুধু জানে জুনায়রা ও আরাফের বাবা তাদের ফেলে চলে গেছে এটুকুই। কিন্তু এটা জানে না জুনায়রা ও আরাফের বাবা একজন নয় তাদের বাবা আলাদা দুজন।