

"ফেইসবুকে সেড এন্ডিং গল্পটা পড়ার পর কান্না করেছিলাম বাট যখন জানতে পারলাম হ্যাপি এন্ডিং এর ইবুক আছে তাড়াতাড়ি করে কিনে ফেললাম যেই রকম প্রত্যাশা নিয়ে ইবুক টা শুরু করেছিলাম তার থেকে হাজার গুণ বেশি ভালো লাগছে ইবুক টা পড়ে এত এত সুন্দর ছিল ইবুক টা আপুকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর করে গল্পটা লিখার জন্য"
--"এই যে, শুনছেন?" কারোর ডাকে স্বরূপ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। দৃষ্টি শীতল হয় এক হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকা বড্ডো সাদামাটা মেয়েটিকে দেখে। শান্ত স্বরে শুধায়, --"জি, আমায় ডাকছেন?" নৈরা কাঁধের ব্যাগ চেপে উপরে নিচে মাথা নাড়লো। হাতের ইশারায় ব্যস্ত সড়ক দেখিয়ে বলল, --"আমায় একটু রাস্তা পার করে দিন।" নিঃসঙ্কোচ অযাচিত আবদারে স্বরূপ অবুঝ পানে তাকায়। অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে, --"হুঁ?" নৈরা ওড়নার সাহায্যে কপালের গড়িয়ে পড়া শ্বেদ জলগুলো মুছতে মুছতে নিরুদ্বেগ শান্ত স্বরে পুনরায় বলল, --"আমি একা একা রাস্তা পারাপার করতে পারি না। আমায় একটু সাহায্য করুন।" স্বরূপ ধাতস্থ কণ্ঠে বলল, --"ওহ্..... জি, অবশ্যই।" বলেই উঠে দাঁড়ায় স্বরূপ। নৈরাকে পিছু ফেলে সামনে চলতে চলতে বলল, --"আমায় অনুসরণ করে আসুন।" কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্বরূপ নিজের পাশে নিঃসঙ্গতা অনুভব করতে পারলো। সে পিছু ফিরে তাকায়। মেয়েটিকে তখনো নিজের জায়গায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, মনস্পটে উল্টে গেলো এমনি এক কাঞ্চনবেলার বিশেষত্বহীন এক ঘটনার স্মৃতিকথা। বিশেষত্বহীন একটি ঘটনা ছিল... তবুও কেনো ঘটনাটির পুনরাবৃত্তি ঘটলো? অদ্ভুত প্রশ্ন স্বরূপের মস্তিষ্ক জুড়ে। স্বরূপ ক্ষীণ ভারী নিঃশ্বাস ফেললো। কিয়ৎকাল তাকিয়ে রইল ব্যাগ আঁকড়ে ধরে নত মস্তকে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে। অতঃপর দুই পা পিছিয়ে মেয়েটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। স্বরূপ দুই পা পিছিয়ে যেতেই নৈরা চোখ তুলে তাকালো। ঠিক বিগত দিনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্বরূপ বাম হাতের কনুই এগিয়ে দিলো মেয়েটির দিকে, মিহি স্বরে আশ্বস্ত করে বলল, --"ভয় নেই, আসুন।" নৈরার ওষ্ঠকোনে অনুমতিবিহীন স্মিত হাসি ফুটে উঠলো। হাত বাড়িয়ে দুই আঙুলের চিমটির মাঝে আঁকড়ে ধরলো স্বরূপের গুটিয়ে রাখা শার্টের আস্তিন। চোখে চোখ রেখে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলল, --"সেদিনের উপকারের জন্য ধন্যবাদ।" ফ্যাকাশে অতি সাধারণ মুখটির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা স্বরূপের ওষ্ঠকোনা অলসগতিতে বেঁকে গেলো। নিটোল চোখে চেয়ে শুধায়, --"বুঝলেন কী করে সেদিন আমি আপনাকে রাস্তা পারাপারে সাহায্য করেছিলাম?" নৈরা স্মিত হেসে বলল, --"হয়তো হাজার ভীড়ের মাঝেও আমি আপনাকে অনায়াসে চিনে ফেলার ক্ষমতা রাখি!" প্রেক্ষিতে স্বরূপ বড্ডো অশান্ত দৃষ্টি ফেললো। আর কথা বাড়ায় না। দৃষ্টি সরিয়ে ছোট্ট করে বলল, --"আসুন।" সেদিন দ্বিতীয় বারের মতো বাবা-ভাই ব্যতীত অন্য কেউ নৈরার স্বস্তির কারণ হলো। অতঃপর দায়িত্বের কাঠগড়ায় থাকা মানুষটার সাথে নৈরার আবার দেখা হলো ক্ষণে-লগ্নে, করণে-অকারণে... নানা অযুহাতে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দেখা হলো, কারোর প্রতি সুপ্ত ভালো লাগা সময়ের পরিক্রমায় ভালোবাসায় রূপ নিলো, বিরঙ্গনা সম্মুখে থাকা ছোট্ট স্ট্যান্ডটির স্টিলের বেঞ্চিতে দুই কাপ চায়ের সঙ্গে অপ্রকাশিত প্রেম হলো, ফুটপাতের পাশ ঘেঁষে চলতে চলতে মানব মানবী বহু অনুভূতির সংঘর্ষে দুর্বল হলো। অন্তঃকরণ স্বপ্ন বুনলো একটা দীর্ঘ যাত্রার, একটা ভরা সংসারের, একটা ছোট্ট নৈরূপের... কিন্তু অন্তভাগে জুটলো যন্ত্রনাদ্বায়ক বিচ্ছেদ! সেই বিচ্ছেদের সাথে আড়ালেই থেকে গেলো দুই মানব মানবীর সুপ্ত প্রেমকথন। আজো স্বরূপের কর্নকুহরে প্রদাহ সৃষ্টি করে নৈরার সেই আক্ষেপজড়িত কণ্ঠ। --"আপনার কাছে একটা লাল বেনারসী চেয়েছিলাম অথচ আপনি কাফনের কাপড় ধরিয়ে দিলেন।" তবে বিচ্ছেদ যেন ভালোবাসার মাধুর্যতাকে এক অন্য রূপ দেয়। ক্ষীণ বিচ্ছেদ নৈরাকেও দিয়েছিল মাধুর্যময় এক রূপ। কেমন ছিলো সেই মাধুর্যময় পরিসমাপ্তি?
ফেসবুকের টা পড়ে কাঁদতে কাঁদতে অবস্থা খারাপ হয়েছিল, কিন্তু এটা এতো মিষ্টি এতো মিষ্টি কি বলবো আমার তো আরও পরতে মন চাচ্ছে ওদের 🫠😘
Read all reviews on the Boitoi app
অসম্ভব সুন্দর
ফেইসবুকে সেড এন্ডিং গল্পটা পড়ার পর কান্না করেছিলাম বাট যখন জানতে পারলাম হ্যাপি এন্ডিং এর ইবুক আছে তাড়াতাড়ি করে কিনে ফেললাম যেই রকম প্রত্যাশা নিয়ে ইবুক টা শুরু করেছিলাম তার থেকে হাজার গুণ বেশি ভালো লাগছে ইবুক টা পড়ে এত এত সুন্দর ছিল ইবুক টা আপুকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর করে গল্পটা লিখার জন্য
বেস্টটটটটট বেস্টটটটটটট ফরএভার ছিলল ইবুকটা। ফেসবুকে পড়ার সময় নাকের পানি চোখের পানি এক হয়ে গেছিলো কিন্তু ইবুক পড়ে হাসতে হাসতে শেষ করেছি। প্রাপ্তির হাসি ছিল... বিশাল বড় ইবুকটা পড়ে এক সেকেন্ডও বিরক্ত হয় নি। বরং ভালোলাগা ঘিরে ছিলে পুরোটা সময়। আপুর লেখনী এতোওওওওও সুন্দর 😘
Tonima apu borabor valo likhe.Tar toiri coritrogulo valo na lege upay nai.Noman k amar ektu beshi valo legeche.All the best lekhika apu.
কাঞ্চনবালা.... তনুপি তোমার লেখার মধ্যে এমন একটা টান আছে যে পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায় না... তোমার লেখা প্রতিটা গল্প আমার খুব প্রিয়... কাঞ্চনবালা তার মধ্যে একটা.... থ্যাংক ইউ মাই ডিয়ার তনুপি আমাদের এত্তো এত্তো সুন্দর গল্প পড়তে দেওয়ার জন্য..অনেক দূর এগিয়ে যাও দোয়া করি...সত্যি তোমার হাতে লেখার যাদু আছেই আছে...😭🥹
ফেইসবুকের কাঞ্চনমালা পড়ে আমি দুইদিন ট্রমায় ছিলাম।কিছুতেই তাদের মৃত্যু মানতে পারিনি।খুব অস্থির ছিলাম আর প্রচুর কেঁদেছি।এই বয়সে এসে কান্না করা গল্প পড়ে। কেউ শুনলে মনে হয় আমাকে পাগল বলবে।ভালবাসার মানুষকে না পেয়েও এত কান্না করি নাই।কিন্তু কাঞ্চনমালা গল্প পড়ে একেবারে বাজে অবস্থা হয়েছিল।পরে শুনি ইবুকে মিল দিয়েছে।পরে ফটাফট কিনে না ঘুমিয়ে গল্পটি পড়ে মনের শান্তি ফিরিয়ে আনি।অনেক ধন্যবাদ আপু ইবুক কাঞ্চনমালা লেখার জন্য না হলে আক্ষেপ দেখো যেত স্বরূপের বোকা কাঞ্চনমালার জন্য। আই লাভ ইউ আপু❤❤❤❤❤
তোনিমা খান এর লেখা সবই এক কথায় অসম্ভব সুন্দর।উপন্যাসটা দারুণ লেগেছে।দুই বার পড়লাম কাঞ্চবালা।এমন আরো সুন্দর, গুছানো,পরিপাটি উপন্যাস উপহার চাই।
কাঞ্চনবালা গল্পটা অসাধারণ ছিল,এক কথায় পয়সা উসুল,এতো সুন্দর গল্প একবার পড়লে বারবার পড়তে মন চায়,লেখিকা আপু অনেক অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা গল্প পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য
❝কাঞ্চনবালা❞ আমার জন্য সবসময় আবেগের গল্প হয়ে থাকবে।লেখিকাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয় এতোটা আবেগ ঢেলে লিখেছেন কেনো আমি তো আবারো প্রেমে পড়ে গিয়েছি।উহু শুধু তাদের প্রেমে নয় বরং তাদের❝মধ্যবিত্ত❞ প্রেমে।প্রতিটি অংশ আমি আবার অনুভব করেছি।আচ্ছা স্বচ্ছ সাদামাটা ব্যাংকার স্বরুপ ইব্রাহিম এর মাঝে কি রেখেছো বলোতো আমিও তার বোকা রমনীর মতো মুগ্ধতা নিয়ে তাকে পড়ি।বোকা কাঞ্চনবালা, বোকা রমনী আর তার সাদামাটা পুরুষ স্বরুপ ইব্রাহিম।তাদের প্রেমের সাক্ষী সেই বীরাঙ্গনা,সেই চা ওয়ালী আর ছোলা ওয়ালা চাচা,তাদের প্রেমের সাক্ষী সেই চা দোকান। মামু ভাগ্নে জুটিটা বরাবরই মুগ্ধ নয়নে উপভোগ করি। বুব্বো আদুরে এক ক্ষুদে চরিত্র। এই চরিত্র টা তোমার সবটুকু আদর ঢেলে দিয়েছো।আরো এক জুটি দারুণ উপভোগ করেছি চাচা আর ভাতিজি। ইবুক টা পড়ে কেমন যেনো শান্তি শান্তি লাগছে।মোট কথা তৃপ্তিময় এক ঢেকুর তুলেছি।ওহহ হ্যা আরো একটি দুষ্ট মিষ্টি জুটি নোমান আর তার সিনিয়র ম্যাডাম।এই জুটি এত হাসিয়েছে।এই গল্পটা নিয়ে যত বলব ততো কম হবে।