

অনন্যা বস্তাটা হাতে নিল। ভিতরে নরম সুতির কাপড়, একটা জলের বোতল আর কিছু শুকনো খাবার। পালানোর জন্য পর্যাপ্ত জিনিস। কিন্তু তবুও অনন্যার পা যেন নড়তে চাইছে না। সে কি সত্যিই পালাতে চায়? না, সে পালাতে চায় না। তার বাবা নির্দোষ ছিলেন কি না, এই সত্যটা সে জানতে চায়। এই জমিদার বাড়ির পেছনের গল্পটা, আরহান শাহ্র প্রতিশোধের আসল কারণটা। তার মনে এক ধরণের জেদ চেপে বসলো। সে সবকিছু না জেনে এই যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালাবে না। অনন্যা দৃঢ় কণ্ঠে বলল, "আমি পালাব না, আমি সব জানতে চাই। আমার বাবা যদি অপরাধী হয়ে থাকেন, তবে আমি সেই সত্যের মুখোমুখি হতে চাই। আরহান আমাকে যা-ই ভাবুক না কেন, আমি এত সহজে হার মানব না।" মালেকা অবাক হয়ে অনন্যার দিকে তাকালেন। অন্ধকারের মধ্যেও অনন্যার চোখে এক ধরণের আগুন জ্বলছে, যা মালেকাকে চমকে দিল। নিঃশব্দে ঠোঁট এলিয়ে হেসে বললেন, "তুমি ভুল করছ, মেয়ে। আরহানকে তুমি চেনো না। তার প্রতিশোধের আগুন তোমাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।" অনন্যা বলল, "পুড়িয়ে দিলে পুড়বো। আমি সত্যিটা জেনেই ছাড়বো, নিজেকে পুড়িয়ে হলেও। তবুও কাপুরুষের মতো পালাবো না। পালাব না।" মালেকা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, "ভেবে দেখো, তোমার জেদই তোমাকে বাঁচাবে, আবার তোমার সর্বনাশও ঘটাবে।" তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। যাওয়ার আগে বললেন, "তবে মনে রেখো, এই জমিদার বাড়ির প্রতিটি ছায়া তোমার শত্রু হতে পারে। সাবধানে থেকো। আর... আরহানের প্রতি কখনো দুর্বল হয়ো না। তার ভালোবাসা... সেও এক ধরণের বিষ।"