

দিপু ঝাপসা আলোয় দেখলো নদীর পাড় ঘেঁষে কিছু একটা পড়ে আছে। দূর থেকে ঠিক বুঝা যাচ্ছে না। দিপু প্যান্টের চেইন লাগিয়ে খুব সতর্কতার সাথে ধীরপায়ে নিচের দিকে নামলো। সেটার কাছে যেতেই চমকে যায় দিপু। তার শিরদাঁড়া বেয়ে যেন শীতল স্রোত বয়ে গেলো। কোনো এক মেয়ের দেহ পড়ে আছে এখানে। অর্ধেক শরীর পানিতে তলিয়ে আছে। দেহের উপরিভাগ পানির উপরে। উবু হয়ে পড়ে আছে বিধায় বুঝা যাচ্ছে না মেয়েটা কে। দিপুর হাত-পা যেন ঠান্ডা হয়ে জমে আসছে। "এত রাতে এখানে কোনো মেয়ে এভাবে কেন পড়ে থাকবে? নাকি পানিতে ভাসতে ভাসতে এখানে এসে ঠেকেছে? নাকি এটা কোনো প্রেতাত্মার কাজ? আচ্ছা, ঘাড় মটকে দেবে না তো এর কাছে গেলে?" এসব ভেবে চলছে দিপু। তবুও মনে সাহস জুগিয়ে পড়ে থাকা দেহের একদম কাছাকাছি চলে আসে দিপু। এই সাহস বাড়াতে দিপু যেন নিশ্বাস নিতেই ভুলে গেলো। বিদ্যুৎ বিহীন অন্ধকার রাত। বাহিরে বর্ষাকালের ঝুম বৃষ্টি। মাঝেমধ্যে মেঘের গর্জনে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে। বৃষ্টি দিনের রাত যেন সন্ধ্যে নামার পরপর গভীর হয়ে যায়। এই মৌসুমি বৃষ্টির আমোদে বেশিরভাগ মানুষই শান্তির ঘুমে বিভোর। ফাইজার চোখ ঝেপে ঘুম ভীড় জমিয়েছে চিরকালের জন্য। বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে থাকা ফাইজার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে চেয়ারে বসে থাকা লোকটা। প্রায় শেষ রাত, বৃষ্টি তখনো তার নিজ দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। লোকটা রেইনকোট গায়ে জড়িয়ে ফুলের তোড়াটা হাতে নিয়ে বের হয়ে গেলো ফাইজার ঘর থেকে। কে এই ব্যক্তি? কেউ জানতেও পারলো না যে কোন নিরব ঘাতক নিরবে একটা প্রাণ নিঃশেষ করে দিয়ে গেলো। কি ঘটেছিল এখানে?