
শহরের কোলাহল ছেড়ে আর্কিটেক্ট অরুণিমা তার স্বামী কবিরকে নিয়ে ফিরে আসে পৈতৃক ভিটে—মায়াগৃহে। দীর্ঘ যুগ ধরে জনমানবহীন এই জরাজীর্ণ প্রাসাদ গ্রামবাসীর কাছে এক ভয়ংকর ভৌতিক আতঙ্ক ও বংশানুক্রমিক অভিশাপের কেন্দ্রস্থল। মায়াগৃহ আধুনিক সংস্কার শুরু হতেই আবিষ্কৃত হয় এক রহস্যময় বস্তু: শীতল, নকশায় মোড়া কালো বাটি। অতীতের অশুভ শক্তির রক্তপিপাসু আধার—‘মায়াবাটি’। বাটিটিকে স্পর্শ করার পর থেকেই অরুর জীবন মোড় নেয় এক অবর্ণনীয় অন্ধকারের দিকে। নীল রশ্মির অস্বাভাবিক আলোকচ্ছটা, অশরীরীর হাসি, আর আয়নায় দেখা ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিগুলো ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করতে শুরু করে। অরু বুঝতে পারে, সে আর আগের মতো নেই। তার ভেতর জেগে উঠেছে প্রাচীন, রক্তলোভী সত্তা। কবিরও বুঝতে পারে—মায়াগৃহ তাদের আশ্রয় নয়, বরং এক অভিশাপের পুনর্জাগরণের মঞ্চ। অন্যদিকে, অরুর বাবা অমল নারায়ণ ফিরে আসেন বহু বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা অতীতের মুখোমুখি হতে। বংশের গোপন ইতিহাসে লুকিয়ে আছে কাপালিকের তন্ত্র, পূর্বপুরুষের লোভ ও রক্তপাপ, আর ‘মায়াবাটি’র জন্মগাথা। যার অভিশাপে ধ্বংস হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। অশুভ শক্তি যখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে, আর মুক্তির জন্য যখন দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ত্যাগ, ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ধ্বংস হওয়া বাটির অক্ষত অংশটি তুলে নেয় কেউ একজন। সে হয় লোভ, ক্ষমতা আর অন্ধকারের নতুন উত্তরাধিকারী। অভিশাপের বাঁধ হয়তো ভাঙা যায়, কিন্তু মানুষের লালসা? লোভ-লালসা অভিশাপকে অমর করে রাখে। মায়াবাটি তেমনি এক অন্ধকার জগতের অমরত্বের গল্প। — মায়াবাটি একটি শিহরণজাগানো হরর–থ্রিলার, যেখানে ভয়, লোভ আর উত্তরাধিকারের অন্ধকার মিশে গেছে এক অমোঘ নিয়তিতে।