

আরিষার জন্য আজকের দিনটা ছিল স্বপ্নের মতো। নতুন ড্রেস, হালকা কাজল, আর এক বুক আশা নিয়ে সে কলেজে পা রেখেছিল। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, ক্লাসরুম খুঁজতে গিয়ে সে হন্তদন্ত হয়ে করিডোর দিয়ে দৌড়াচ্ছিল। ঠিক তখনই মোড় ঘোরার সময় কারোর শক্ত বুকের সাথে সজোরে ধাক্কা খেল সে। হাতের ফাইলগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল। আরিষা ঘাবড়ে গিয়ে নিচু হয়ে ফাইলগুলো তুলতে তুলতে বিরবির করে বলল, "উফ! দেখে চলতে পারেন না? একদম অন্ধের মতো দাঁড়িয়ে আছেন!" পুরো করিডোর হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আশেপাশে থাকা ছাত্রছাত্রীদের ফিসফাস থেমে গেল সবার চোখে একরাশ আতঙ্ক। আরিষা ফাইল গুছিয়ে দাঁড়িয়ে ওপরের দিকে তাকাল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির উচ্চতা আর তার শীতল চাহনি দেখে ওর কলিজা শুকিয়ে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান। তার পরনে কালো শার্ট, হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গোটানো। চোখেমুখে রাজ্যের বিরক্তি আর রাগ। ওর পেছনে ওর পুরো ফ্রেন্ড সার্কেল—যারা এই কলেজ শাসন করে। আরিয়ান এক পা এগিয়ে এল। ওর গলার স্বর নিচু কিন্তু ভয়ানক গম্ভীর, "কী বললে? আমি অন্ধ?" আরিষা ঢোক গিলল। ও বুঝতে পারছে ও বড় কোনো বিপদে পড়েছে, কিন্তু ওর জেদ ওকে থামতে দিল না। ও কাঁপা কাঁপা গলায় উত্তর দিল, "ভুল তো বলেছি কিছু? আপনি তো রাস্তার মাঝখানে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন।" আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠল, কিন্তু ওর চোখ জ্বলছে রাগে। ও আরিষার দিকে ঝুঁকে এসে নিচু স্বরে বলল, "এই কলেজে পা রাখার প্রথম দিনেই তুমি আমার ইগোতে হাত দিলে, পিচ্চি? তুমি জানো না আরিয়ানের সাথে যারা এভাবে কথা বলে, তাদের পরের দিনগুলো কেমন কাটে?" আরিষা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। পুরো কলেজের 'কিং' আরিয়ানকে এভাবে সবার সামনে অপমান করার সাহস এর আগে কেউ দেখায়নি।
বই টা খুব ভালো
Read all reviews on the Boitoi app