

"রবিন - হিপোক্রেসির চরম দৃষ্টান্ত। মৃন্ময়ী - নারী জাতির কলংক। শবনম - এত সরল কেন তুমি? আরেকটু দৃঢ়চেতা হলে ভাল লাগত। শাওকাত - সব মেয়েদের স্বপ্ন পুরুষ। কায়সার - এত ভালো হতে হয় না, মানুষ মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায়। পুরো গল্পে খলনায়ক হল রবিন। এটা ঠিক পরকীয়ার গল্প বলা যাবে না। বিট্রেয়াল, ডমিনেশন, হিপোক্রেসির মাঝে পিউর লাভের পরিপূর্ণতা লাভ। রবিনের শঠতার কারনে এতগুলো মানুষের সাফারিংস। শাওকাতের জন্য গল্পটার সময় অনুকূল ছিল না। বিধিনিষেধের বেড়াজালে সে তার প্রেয়সীকে শেষপর্যন্ত ছেড়ে যায়নি, এটাই গল্পের সফলতা।"
—‘এত ভোরে বিচে খুব সমুদ্র পাগল মানুষ না হলে কেউ আসবে না।’ মৃদু হেসে কথার জড়তা কাটিয়ে নিয়ে বললাম, —‘ভীষণ সমুদ্র পাগল আমি। বৃষ্টিরও।’ —‘পিঞ্চ... আমিও।’ —‘হি হি, পিঞ্চ পিঞ্চ...’ হঠাৎই বিষণ্ণতার ঘোর কেটে মন চঞ্চল হয়ে উঠল আমার। এক মুহূর্তের জন্য ভুলে গেলাম হোটেল রুমে রবিন, আমার নতুন বর ঘুমিয়ে আছে; যার কাছে আমার ভালোলাগার কোনো মূল্য নেই। সে যা চেয়েছে তা পেয়েছে। শুধু আমার চাওয়াগুলো আমার বাবা-মা তাঁদের মনে হওয়া যোগ্য পাত্রের হাতে দাফন করে দিলেন, এই যা। —‘আমি শাওকাত ইসলাম।’ —‘আমি শবনম শাহজিদ ইসলাম।’ —‘আরে আমরা মিতা!’ —‘হুম, আধাআধি জন্মসূত্রের নামের পদবিতে।’ আমার কথায় শব্দ ছড়িয়ে হেসে উঠলেন শাওকাত। মানুষটি দারুণ প্রাণবন্ত হাসেন। দাঁতগুলো মাত্রাতিরিক্ত সাদা... ধবধবে চুনাপাথরের মতো। বললেন, —‘হ্যাঁ হ্যাঁ, তাইতো দেখছি। তা এই নির্জন সৈকতে এভাবে এই রূপে একা কেউ আসে? ভয় লাগে না?’ —‘আমি এসেছি অনেকবার। তবে এই রূপে প্রথম। সূর্যোদয় দেখতে চেয়েছিলাম; বৃষ্টি সব ভণ্ডুল করে দিল।’ —‘ইশশ...’ —‘আপনি একা কেন?’ —‘আরে না, একা নই। বাবা-মা, ভাইবোন সপরিবারে এসেছি। বছরে আগস্টের এই সময়টায় আসা হয়। মা সমুদ্র ভালোবাসে। চিটাগাং থাকি আমরা। রুমের বারান্দা থেকে দেখি আকাশি রঙের শাড়ি পরিহিতা এক পাগল মেয়ে শ্রাবণ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সমুদ্রে ঝাঁপ দিচ্ছে। তাকে বাঁচাতে চলে এলাম।’ শাওকাতের হাস্যোজ্জ্বল কথায় প্রথমে বুঝিনি সে কাকে মিন করে শেষের কথাগুলো বলল। পরক্ষণেই বুঝতে পেরে প্রায় চেঁচিয়ে বললাম, —‘আরে না, সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে যাব কেন!’ —‘আমার তাই মনে হলো।’ —‘ভুল...’ —‘এসে বুঝেছি ভুল। আপনি ঠান্ডায় কাঁপছেন।’ —‘আপনারা সায়মনে উঠেছেন?’ —‘হ্যাঁ। আপনিও?’ —‘হুম, স্বামীসহ হানিমুনে এসেছি।’ —‘কী! আপনি ম্যারিড!’ —‘হ্যাঁ। কেন, মনে হয় না বিবাহিত? বয়স দেখে মনে হওয়া উচিত।’ কেমন রহস্যময় দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে রইল শাওকাত। কণ্ঠে জড়তা নিয়ে বলল, —‘বয়স একটি সংখ্যা মাত্র। আমি ৪১-এ দাঁড়িয়ে। এখনও বিয়ে করিনি।’ বিষম খেলাম শাওকাতের কথা শুনে। ৪১! আর আমি ভাবছি সে আমার চেয়েও ছোট, ইয়া মা-বুদ!! দুজনে একসাথে ফিরলাম। আশ্চর্য হয়ে গেলাম যখন ভেজা চুল মুছতে মুছতে স্যুইটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে শাওকাতকে দেখতে পেলাম। উনি দেখতে পাননি। ভেজা কাপড় বদলে শর্টস পরে খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আমাদের ব্যালকনির দিকে পিঠ দিয়ে ছিলেন। আমি যখন লিফটে উঠি উনি রিসিপশনে কী কাজে থেকে গিয়েছিলেন; জানা ছিল না পাশাপাশি রুম আমাদের।
রবিন - হিপোক্রেসির চরম দৃষ্টান্ত। মৃন্ময়ী - নারী জাতির কলংক। শবনম - এত সরল কেন তুমি? আরেকটু দৃঢ়চেতা হলে ভাল লাগত। শাওকাত - সব মেয়েদের স্বপ্ন পুরুষ। কায়সার - এত ভালো হতে হয় না, মানুষ মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায়। পুরো গল্পে খলনায়ক হল রবিন। এটা ঠিক পরকীয়ার গল্প বলা যাবে না। বিট্রেয়াল, ডমিনেশন, হিপোক্রেসির মাঝে পিউর লাভের পরিপূর্ণতা লাভ। রবিনের শঠতার কারনে এতগুলো মানুষের সাফারিংস। শাওকাতের জন্য গল্পটার সময় অনুকূল ছিল না। বিধিনিষেধের বেড়াজালে সে তার প্রেয়সীকে শেষপর্যন্ত ছেড়ে যায়নি, এটাই গল্পের সফলতা।
Read all reviews on the Boitoi app
আমি অলমোস্ট আপনার সবগুলো বই কিনছি। ভালো লাগে আপনার গল্পগুলো পড়তে। আপনার বইগুলোর প্রাইস ও বেশি তাও পরি মানে কিছু লেখিকার গল্পের প্রতি অ্যাডিকশন থাকে না সে সেরকম আর কি। কিন্তু এই গল্পটার প্রাইস অনুসারে একদম খাপছাড়া ভাবে লিখছেন এন্ডিং ভালো হয়নি। টাকা অনুসারে একদমই খাপছাড়া লিখে চেন। এটার সিকুয়েল চাই প্লিজ প্লিজ।
ভালোবাসা কি এমনই হয় বুঝি? কখন কিভাবে কার মনে ভালোবাসা জন্মায় বোঝা যায় না শাওকাত-শবনম- রবিন,,,৩ টা চরিত্র। এক নিশ্বাসে পড়ে ফেললাম। প্রতিটা চরিত্র অন্য রকম। চোখের আরশিতে সমুদ্দুর এক অসাধারণ ভালোবাসার গল্প।
রবিন-শাওকাত ভিন্ন মানুষ অথচ অদৃশ্য সুতো শবনম তাদের জীবনে। মনের টান আসলে কার কখন তৈরী হবে, নাকি মোহে জড়িয়ে থাকবে সেই জবাব যে সময়ের কাছে, মানুষ তার জবাব দেয় এমন ধৃষ্টতা কোথায়।রবিনের অতীত তাকে যেমন সামনে এগিয়ে যেতে দেয়নি কিন্তু সেই অতীতই আবার তার সামনে বাড়ানো কদম এমনভাবে বেঁধে দিলো যে ফেরার পঁথ খুঁজে পেতেই দিশেহারা। আর বেলা গড়িয়ে গেল শাওকাত যখন তার আরশির দেখা পেলো নিজেকে মাঝ সমুদ্রের অথৈ পানিতে। তিনজন ভিন্ন মানুষ- তাদের চাওয়া পাওয়ার যেমন তুলনা চলে না, তেমনই কার চোখের আরশিতে কেনো সমুদ্দুর তার বিচারই বা কেনো হবে। অসাধারণ উপন্যাস, যত পড়ি মন ভরে না। সম্পর্কের কাটতি গুলো এতো বাস্তবিক যেনো মনে হয় চোখের সামনের দিব্য দেখতে পাই। একা আপু আপনার লেখায় কেন প্রাণের ছোঁয়া পাই, এই উপন্যাস বলে দেয়।
চমৎকার হৃদয়স্পর্শী গল্প ।চোখের আরশিতে সমুদ্দুর, চোখেই লুকিয়ে থাকে কত বলা না বলা কথা আবেগ ।।💙💙💙🤍🤍🤍
কার ভালোবাসা কত গভীর, কে মোহে পড়ে আর কে সত্যিকারের ভালোবাসে!!! যাকে পাওয়ার জন্য দুনিয়া তোলপাড় করে ফেলা, আবার তাকেই কত সহজে অবজ্ঞা করা হয়। আর কেউ ভালোবাসা তার হবে না জেনেও তাকেই দুনিয়া থেকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েও পারে না। আসলেই অদ্ভুত এই ভালোবাসা জিনিসটা। ভালোবাসা নামক মরিচীকা কার জীবনে কিভাবে আসবে সেটা বুঝি স্বয়ং উপরওয়ালা ঠিক করেন, তাই তো ভীষণ অপ্রাপ্তিতেও হঠাৎ করেই ভালোবাসা মিলে যায়। চোখের আরশিতে সমুদ্দুর সবারই থাকে, কখনও সেটা আনন্দের আবার কখনও সেটা দুঃখের। অসাধারণ এক গল্প। রবিন, শবনম আর শাওকাত এর জটিল এক ভালোবাসার গল্প।
একটা ইবই পড়লাম।তিনজন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পৃথিবীর হয়েও জরিয়ে গেলো একে অপরের সাথে।আমি রবিনকে ভালোবাসি।সে সাত খুন করলেও মাফ।বাকি দুনিয়া ভেসে যাক।এ পৃথিবী আমার আর রবিনের
উফফ্ মারাত্বক সুন্দর একটি উপন্যাস!! কী আকর্ষণীয়! কী বলবো,আমি তো বুঁদ হয়ে গিয়েছি কাহিনীতে। চরিত্রের মাঝে ডুবে গিয়েছি। একদম নতুন সূচনা যেন।। নিয়তি তো সত্য, কাকে, কিভাবে, কখন মেলাবে এ অদৃষ্টই জানে। প্রেম সে তো ঐশ্বরিক, ভালোবাসলে সে তো আদ্যোপান্ত সব জানবে মনের মানুষের। তবে কি এ হঠকারিতা শুধুই মোহ বা মরিচীকা? আগলে রাখতে কাছাকাছি থাকতেই হবে এমন না, দূরে থেকেও যে এক বেষ্টনী তৈরি করতে পারে,তাইই হয়তো প্রেমের শুদ্ধতা !! যেই চোখের আরশিতেই ডুবে গেলো,সেই আরশিতে কেন সমুদ্দূর, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দারুণ ভাবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যখন স্বয়ং ওপরওয়ালা, এমন কাউকে পাঠান... যাঁরা আমাদের চোখের সামনের পর্দাই হয়তো তুলে দিলো অথবা সৌন্দর্যের মোহ,, তখন হয়তো জীবনের গতিই পথ বদলায়।। পড়তে খুব দারুন লেগেছে।।