

• মাত্র সপ্তাহ খানক পরেই সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। মাথার উপর পাহাড় সমান পড়ার বোঝা। Discrete Mathematics সাবজেক্ট টাতেই মনে হয় সব থেকে বেশি অপ্রস্তুত। কিছুই ভালো লাগছিলো না। Facebook এ ঢুকতেই চোখে পড়লো আমাদের Discrete Math - এর কোর্স Teacher এর একটা Post... • অনেক বেশি বই পড়ার ইচ্ছা থাকলেও আগ্রহের অভাব। র্যাকের মধ্যে বেশকিছু বই পড়ে রয়েছে, যেগুলো এখনো পড়াই হয়নি। ধুলো পড়ে গেছে, শুধু শুধু কিনে ফেলে রেখেছি। ম্যাম এর Timeline এ Scroll করতে করতে আর একটার পর একটা Post পড়তে পড়তে মনের অজান্তেই ম্যাম এর প্রতি একটা আলাদা শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোলাগা কাজ করতে লাগলো। "প্রতিটা Post কতো সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে লেখা। কোনো কোনো Post বেশ Informative, কোনো কোনোটা আবার পড়তেই ভালো লাগে, এমনিই। প্রতিটা লেখা পড়েই মনে হয় যে একটা লেখা কিভাবে এতটা Perfect হয়! ম্যাম কত্ত পড়ালেখা করেন। Software Engineering Background -এর হয়েও নিজের Field এর বাইরেও ম্যাম এত এত বই পড়েন। এত মাধুর্য্য মিশিয়ে, এত কাব্যিক ভাষায়, এত উপমার মধ্য দিয়ে নিজের দর্শন, নিজের মনের ভাবকে কিভাবে এত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব!" - এইসব ভাবতে ভাবতেই মনের মধ্যে সেই ছাই চাপা আগুনের মতো বই পড়ার আগ্রহটা যেন আরও জীবন্ত হয়ে উঠলো। • মন্ত্রমুগ্ধের মতো একটার পর একটা Post পড়ে গেলাম। Class -এর দু-একজন দেখলাম ম্যাম এর Friend List এ আছে। অনেকেই Post -গুলোতে Comment করেছে, React দিয়েছে। আগে অনেকবারই ভেবেছি ম্যাম কে Friend Request পাঠাবো। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি, হয়ে ওঠেনি কোনো একটা Post এ React বা Comment করা। আর এখনো সেটা হয়ে উঠলো নাহ। কেন? তা জানি নাহ... • হঠাৎ করে ম্যাম এর Facebook -এর Cover Photo -র দিকে নজর পড়লো। আরেহ, ম্যাম এর লেখা একটা বইও তো আছে। যদিও আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু তখন অতটা গুরুত্ব দেইনি। তবে আজ কেন জানি না খুব পড়তে ইচ্ছা হচ্ছে বইটা। ঢুকে গেলাম Google Chrome -এ। কিন্তু কোথাও বইটার Hardcopy খুজে পেলাম না। ইচ্ছা ছিলো, বইটাতে ম্যাম-এর একটা Autograph নিব। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এটা আমি খুব ভালো করেই জানি যে, ম্যাম এর কাছে গিয়ে বইয়ে একটা Autograph এর জন্য আমি কোনোদিনই বলতে পারতাম না। কেন পারতাম না, সেটা আমি নিজেও জানি না... • খুজতে খুজতে "বইটই" App এ পেয়ে গেলাম ম্যাম এর লেখা বই "কফিনের বাসিন্দাদের কথা" -এর Softcopy. হ্যাঁ, আমার ম্যাম, এই বইয়ের লেখিকা - নোশিন তাহসিন সাজ। পড়া শুরু করেছিলাম রাত প্রায় ২ টার দিক। এখন বাজে ভোর প্রায় ৫ টা। • আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে বইয়ের Review না হয় নাই দিলাম। নিজের অনুভূতিটুকু প্রকাশ করার স্বার্থে শুধু এতটুকুই বলতে পারি, কেন জানি না, সম্পূর্ণ বইটা পড়া শেষ না করে কিছুতেই উঠতে পারলাম নাহ। ঘুমের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। অনেককিছু নতুন করে উপলব্ধি করলাম, সেই সাথে কিছুটা অস্বস্তিবোধ। প্রতিটা গল্পে, প্রতিটা চরিত্রের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে তাদের অনুভূতিগুলো অনুভব করাতে, প্রতিটা গল্পের মধ্য দিয়ে আমাকে আরও একবার ভাবাতে, এই বই লেখার উদ্দেশ্যে আপনি সফল হয়েছেন (ব্যক্তিগত মতামত)। খুব ইচ্ছা হচ্ছে, এত সুন্দর একটা বই লেখার জন্য ম্যামকে সামনা-সামনি বা Personally মেসেজ দিয়ে প্রশংসা করি। কিন্তু আমি জানি, দুইটার একটাও করা আমার দ্বারা সম্ভব নাহ। তাই তো এই জায়গায় এসে এতখানি বকবক করা এই আশায় যে কোনো একদিন হয়তো আমার এই লেখাটা ম্যাম এর চোখে পড়বে। • জানি না লেখাগুলো এতটা ভালো লাগার কারণ কি? হতে পারে প্রথম প্রথম বই পড়া শুরু করা। হতে পারে যেই মানুষটাকে সামনে থেকে একরকম দেখে আসছি, হঠাৎ করে তার চিন্তা-ভাবনা, পৃথিবীকে দেখার অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধি করতে পারা। যেই মানুষটাকে শুধু ক্লাসে লেকচার দিতে দেখি, তার অন্য এক সত্ত্বাকে, লেখক সত্ত্বাকে আবিষ্কার করতে পারা বা হতে পারে অন্য কোনো কারণ। জানি না কি সে কারণ... শুধু এতটুকুই বলার আছে, কোনোদিনও লেখা বন্ধ করিয়েন না ম্যাম। এভাবেই জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যান। হঠাৎ কোনো একদিন News Feed Scroll করতে করতে চোখের সামনে নতুন কোনো এক Cover Photo -র আবির্ভাব হোক যেখানে জ্বলজ্বল করুক আপনার লেখা নতুন কোনো এক বইয়ের মোড়ক। এভাবেই নিজের লেখার মাধ্যমে আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শেখান, এভাবেই শিখিয়ে যান... • আজও Discrete Math বইটা খুলে বসা হলো নাহ। Exam এ প্রশ্নটা একটু সহজ করিয়েন ম্যাম 🙂
Read all reviews on the Boitoi app
অসাধারণ লেখনী।