

ডক্টর সাইরা—সাদা অ্যাপ্রোনের আড়ালে যার শান্ত এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হাসপাতালের করিডোরে এক টুকরো প্রশান্তি। জীবনের প্রতিটি জটিল সমীকরণ সে মেলাতে জানত মেধা আর ধৈর্য দিয়ে। কিন্তু তার সেই সুশৃঙ্খল পৃথিবীতে এক প্রলয় হয়ে আসে “জাভিয়ান রায়িদ”। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই অঘোষিত সম্রাট, যার ইশারায় শহর থমকে দাঁড়ায় আর যার নীলচে-ধূসর চোখের সম্মোহনী নেশায় একবার যে তাকিয়েছে, তার ফেরার সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। জাভিয়ান রায়িদ কেবল এক নিষ্ঠুর মাফিয়াই নন; তিনি এক আদিম আভিজাত্যের প্রতীক, যার কাছে প্রেম মানে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। ডক্টর সাইরাকে তিনি বন্দি করেননি, বরং নিজের অন্ধকার সাম্রাজ্যের একমাত্র আলোকবর্তিকা আর হৃদয়ের একচ্ছত্র রানী হিসেবে তুলে এনেছেন। জাভিয়ানের সেই পাথরের মতো শক্ত হাতের আঙুল যখন সাইরার চিবুক উঁচিয়ে ধরে, তখন সাইরার সমস্ত ডাক্তারি বিদ্যা আর শান্ত স্বভাব থমকে যায়। সে বুঝতে পারে, এই পুরুষটি তাকে শুধু ভালোবাসে না, বরং নিজের প্রতিটি নিশ্বাসে শুষে নিতে চায়। সাদা অ্যাপ্রন সরিয়ে রাখার পর সাইরা যখন জাভিয়ানের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন সে আর ডক্টর থাকে না; সে হয়ে ওঠে জাভিয়ানের সেই অবাধ্য তৃষ্ণা। সাইরার সেই তপ্ত এবং মায়াবী শরীরের প্রতিটি ভাঁজে জাভিয়ান খুঁজে পায় তার জীবনের একমাত্র আশ্রয়। জাভিয়ানের সেই কর্কশ অথচ সম্মোহনী কণ্ঠ যখন সাইরার কানের কাছে ফিসফিস করে ওঠে, তখন সাইরা ভুলে যায় তার নিজের অস্তিত্ব। জাভিয়ান প্রমাণ করে দেয়, সাইরা কোনো দুর্বল প্রজাপতি নয়, সে এক প্রবল ঢেউ—যা জাভিয়ানের রুক্ষ মরুভূমিতে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে। “ডক্টর, তোমার এই মেডিসিন দিয়ে হয়তো শরীর সারানো যায়, কিন্তু আমার এই তীব্র আসক্তি… সেটার একমাত্র নিরাময় তো তুমি নিজে। তুমি আমার মুক্তি নও, সারা; তুমি আমার সেই নীল বিষ, যা আমার রক্তে মিশে আছে—আর আমি কোনোদিন সুস্থ হতে চাই না…” — জাভিয়ান রায়িদ। রক্ত আর ক্ষমতার আড়ালে এক ডক্টর আর এক মাফিয়া লিডারের এই অসম লড়াই কি শেষ পর্যন্ত এক নিটোল ভালোবাসায় পূর্ণতা পাবে?… এক মায়াবী ছায়াপথে হারানো সেই নিষিদ্ধ আসক্তির মহাকাব্য। “যেখানে সাদা অ্যাপ্রোনের পবিত্রতা থমকে যায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের কালো ছায়ায়, আর রক্তের নেশায় মত্ত এক সম্রাট খুঁজে পায় তার একমাত্র প্রশান্তি—শুরু হলো ‘নিষিদ্ধ ছায়াপথ’-এর এক রক্তাক্ত মহাকাব্য।”