

হঠাৎ এক সন্ধ্যায় ফোনটা বেজে উঠল। সেই নম্বর। দুই বছর ধরে যার কণ্ঠ শুনে আসছি। “অনামী, কাল বিকেল পাঁচটায় নদীর পাড়ের বটগাছটার নিচে আসতে পারবে? তোমার সাথে দেখা করতে চাই।” আমার বুক ধড়ফড় করে উঠল। “তুমি… তুমি সত্যি আসবে?” “হ্যাঁ। আর দেরি করতে চাই না।” পরদিন বিকেলে অনিকে পাশের বাসার কাকিমার কাছে রেখে আমি গেলাম। নদীর পাড়ে বাতাসে বটগাছের পাতা সরসর করছে। দূর থেকে দেখলাম একটা ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। ধীরে ধীরে এগোতে লাগলাম। যত কাছে যাচ্ছি, ততই বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছে। দুই বছর ধরে শুধু কণ্ঠ শুনেছি, মানুষটাকে কখনো দেখিনি। কত রাত তার সাথে কথা বলতে বলতে ভোর হয়েছে, কত দুঃখ, কত একাকীত্ব ভাগ করে নিয়েছি—আজ সেই মানুষটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে। লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। “অনামী?” আমি থেমে গেলাম। গলা শুকিয়ে আসছে। “হুম…” সে আরও এক পা এগিয়ে এলো। তারপর নিচু স্বরে বলল, “তোমাকে সামনাসামনি দেখার ইচ্ছে অনেকদিনের ছিল।” আমি কিছু বলতে পারলাম না। শুধু খেয়াল করলাম, মানুষটার চোখদুটো কেমন অদ্ভুত শান্ত। অথচ সেই শান্তির ভেতরেও যেন গভীর ক্লান্তি লুকিয়ে আছে। হঠাৎ বাতাসটা একটু জোরে বইল। বটগাছের শুকনো পাতা উড়ে এসে আমাদের মাঝখানে পড়ল। আমি ধীরে জিজ্ঞেস করলাম, “এতদিন পরে হঠাৎ দেখা করতে চাইলে কেন?” লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর খুব আস্তে বলল, “কারণ সময় আর খুব বেশি নেই…”