
উভয় সংকট জিনিসটা খুব খারাপ। খারাপ বলতে খুবই খারাপ। বিয়ের পর থেকে জয়নালের জীবনটা হয়ে গেছে উভয় সংকটের জীবন। শ্যাম রাখি না কুল রাখি টাইপ তার জীবনে হয়েছে মা রাখি না বউ রাখি। একটা বয়সের পর পুরুষের জীবনে বউ লাগে। শুধু কাপড় ধোয়া আর রান্নাবান্নার জন্যই তো বউ না। এই যে পাশে একটা মানুষ আছে, যাকে নিজের বলে দাবি করা যায়, যার সঙ্গে কথা না বলেও অনেক কথা বলা যায়—ঠিক এইসব কারণেই বউ লাগে, জীবনসঙ্গী লাগে পুরুষ মানুষের। মা'কে এসব কে বুঝাবে! মা'র সারাটা দিন যায় নীলিমার বদনাম করতে করতে। এই পাড়ার প্রত্যেকটা চল্লিশোর্ধ্ব আন্টির কাছে নীলিমা চূড়ান্ত বেয়াদব, অসভ্য একটা মেয়ে। এইসব কিছু জয়নাল জানে, বুঝে, কিন্তু কিছুই করতে পারে না। প্রতিবাদ করে দেখেছে, হিতে বিপরীত হয়। জয়নালকে তার মা বলে, ‘বউমুখো গোলাম’—বউয়ের সঙ্গে থাকার কারণে তার চেহারায় নাকি একটা মাগী মাগী ভাব চলে আসছে। একটা পুরুষ হয়ে বউয়ের সামনে এসব কথা কত নেওয়া যায়! আবার বাসা ছেড়ে যাওয়াও যায় না। হল্লাচিল্লা করে মা এলাকা উদ্ধার করে ছাড়বে। মাঝে মাঝে জয়নালের মনে হয়, ফাঁস টাঙিয়ে মরে যাই। তারপরই মনে হয়, ফাঁস টাঙিয়ে মরা মেয়েছেলে কাজ। পুরুষ মানুষ মরবে ট্রাকচাপায়, নয়তো দশতলা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে… ফাঁস টাঙিয়ে মরার রিস্কও আছে। মরার সময় জিভ বের হয়ে থাকে, আর ওই বিশেষ জিনিসটাও নাকি ঝুলে যায়। বড্ড বাজে ব্যাপার। মরার পর এলাকাবাসী তার ‘ইয়ে’-র সাইজ জেনে যাবে। এর চেয়ে লজ্জার আর কী আছে!