

শায়ান ধীরে ধীরে দরজার কাছে গিয়ে থেমে গেল। মেহর জায়নামাজে বসে আছে। তাহাজ্জুদ পড়েছে। দুই হাত তুলে মোনাজাত করছে। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে। শায়ান নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল। মেহর তখনও তাকে দেখতে পায়নি। কাঁপা কণ্ঠে বলছিল, ‘আল্লাহ... শায়ানকে সুস্থ করে দিন। ও যেন তাড়াতাড়ি নিজের পায়ে হাঁটতে পারে। ওর কষ্টটা আপনি কমিয়ে দিন।’ কথাগুলো বলতে বলতে আবার কেঁদে ফেলল সে। ‘ওকে ভালো করে দিন, আল্লাহ। ওকে হেদায়েত দিন। ও যেন নিজের জীবনটা নষ্ট না করে। ওর সব পাপ ক্ষমা করে দিন। ও হয়তো জানে না, কিন্তু আমি চাই ও ভালো থাকুক। নিজের জীবনটা সুন্দর করে কাটাক।’ শায়ান আর নড়ল না। যেন বরফের মতো জমে গেল। এতদিন সে ভেবেছিল, মেহর শুধু তার দায়িত্ব পালন করছে। অথচ আজ প্রথমবার বুঝল—মেয়েটা তার ভালো থাকার জন্য নিজের সৃষ্টিকর্তার কাছে কাঁদছে। আর সেদিনই প্রথমবার শায়ানের মনে হলো, সে শুধু নিজের জীবনটাই নষ্ট করেনি; জীবন থেকে, সৃষ্টিকর্তা থেকে—সবকিছু থেকেই ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছে।
Read all reviews on the Boitoi app