

"পুষ্প..." অচেনা পুরুষালী ভারী কণ্ঠস্বর শ্রবণেন্দ্রিয় হতেই তড়াক করে চোখ মেলল ঝুমুর। পরমূহূর্তে বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেল সে। অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়ে রইল তার পানে একগুচ্ছ কদম ফুল বাড়িয়ে দেওয়া মাহতাব প্রলয় শিকদার পানে। ঝুমুরকে বিস্ময়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দিয়ে তন্মধ্যে ধ্বনিত হলো যুবকের শান্ত, গভীর কণ্ঠস্বর, "কেন জানি না মনে হলো, এই স্নিগ্ধ বৃষ্টি আপনার হাতদুটো খুব করে দাবি করছে একগুচ্ছ কদম। নাম তো জানি না আপনার। তবে এই মুহূর্তে আপনাকে দেখে দ্বিতীয় কোনো নাম মাথায় এল না আমার।" কিংকর্তব্যবিমূঢ় ঝুমুর নিজের বিস্ময়ভাব কাটিয়ে উঠতে পারছে কোনো মতেই। চোখের সামনে যা ঘটছে তা কি সত্যি নাকি শুধুই চোখের ভ্রম? তার মতো একটা মেয়েকে কেন ফুল দিতে যাবে মাহতাব প্রলয় শিকদারের মতো একজন ব্যক্তি?? ঝুমুরের প্রতিক্রিয়া না দেখে অস্বস্তিতে গাঁট হয়ে গেল যুবক। নিজেকে ধাতস্ত করার প্রচেষ্টায় এদিক-সেদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে অপ্রস্তুত কণ্ঠে শুধাল, "না... মানে... আপনি যদি নিতে অস্বস্তি বোধ করেন তাতেও সমস্যা নেই। সম্ভবত আমি সীমা ছাড়িয়ে ফেলেছি।" বলতে দেরি আছে, হাত বাড়িয়ে ফুলগুলো প্রলয়ের হাত থেকে নিতে দেরি নেই ঝুমুরের। অপ্রত্যাশিত ঘটনায় হতভম্ব প্রলয়। এদিকে নিজের এহেন কাজে নিজেও বিস্মিত ঝুমুর। তবুও নিজের অপ্রস্তুততা আড়াল করার প্রচেষ্টায় কোনো রকমে জোরপূর্বক হাসল মেয়েটা। "না... মানে... ফুলগুলো খুব সুন্দর। তাই... না নিয়ে থাকতে পারলাম না! ধন্যবাদ!"