

সন্ধ্যা চা ঢালতে ঢালতেই হঠাৎ আকাশের দিকে তাকাল। আর তখনই বাঁধল কাণ্ড। না দেখে চা ঢালতে গিয়ে গরম চায়ের অনেকটা হাতের ওপর পড়ে যায়। সন্ধ্যা মৃদু আর্তনাদ করে ওঠে। রেখে দেয় চায়ের পাতিল। হাতটি তুলে দেখার আগেই আকাশ তার হাত ধরে টেনে এনে দ্রুত টেপের নিচে রাখে। সার্ভেন্টকে ডেকে বরফ দিতে বলে। সঙ্গে তার ঘর থেকে ব্যান্ডেজ আর মলমও আনতে বলে। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় একজন সার্ভেন্ট বরফ দিয়ে গেলে আকাশ তার দুহাত দিয়ে সন্ধ্যার পোড়া হাত বরফের মাঝে চেপে ধরে রাখে। ততক্ষণে আকাশের আদেশে সার্ভেন্টরা মলম আর ব্যান্ডেজও এনে দিয়েছে। আকাশ আরেকটু সময় বরফ ধরে রেখে সন্ধ্যার হাতে মলম লাগিয়ে দেয়। এরপর আঙুলগুলো খুব যত্নে ব্যান্ডেজ করে দেয়। সন্ধ্যা কেবল অবাক হয়ে দেখে আকাশকে। মেয়েটা স্পষ্ট দেখতে পায়, আকাশের মুখজুড়ে ব্যথার ছাপ। সন্ধ্যার হাত পুড়ে যাওয়ার ব্যথা তাকে ছুঁতে পারে না, আকাশের এই যত্ন, সেই হারিয়ে যাওয়া আকাশকে অনুভব করে তার সুখকর ব্যথা হয়। আবেগে চোখের কোণ কখন যে ভিজে উঠেছে, বুঝল না সে। আকাশ তার কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে তাকায়। মেয়েটার টলমলে চোখের সাথে চোখাচোখি হয়। শুকনো ঢোক গিলল আকাশ। ভাবল, সন্ধ্যা ব্যথা পেয়েছে বলে চোখে পানি জমেছে। সন্ধ্যার ব্যান্ডেজ করা হাত এখনো আকাশের বাম হাতের মুঠোয়। সে সামান্য এগিয়ে এসে ডান হাত সন্ধ্যার গালে রেখে নরম গলায় বলে, “ভুলেও কাঁদবে না। ঠিক হয়ে যাবে।” মেয়েটা থেমে থেমে আওড়ায়, “আমি কাঁদলে আপনার কী?” আকাশ সূক্ষ্ম হাসল। মুখটা সন্ধ্যার মুখ বরাবর এনে ভয়েস টোন আরও নিচু করে উত্তরে বলে, “বুক ব্যথার কারণ করে দাও নিবারণ!”