

স্বার্থ বাড়ি ফিরল একেবারে মাগরিবের নামাজ শেষ করে। এসে ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় এলো। নিচে সেই পেপার প্লেনটা দেখে হেসে হাতে তুলে নিল। ভাঁজ খুলতেই হাসি আরও প্রসন্ন হলো। টুসি লিখেছে, “বাসায় ফিরে আমাদের কাছে চলে এসো। তোমাকে ছাড়া বাবুর ভালো লাগছে না। পেটের ভেতর থেকে লাফাচ্ছে। আমি বললাম, ‘এত লাফাচ্ছো কেন, সোনা?’ সে বলল, ‘বাবা ছাড়া ভালো লাগে না, মা।’ তাড়াতাড়ি এসো। তোমার বুকে মাথা রাখলে হয়তো বাবুর ভালো লাগবে।” স্বার্থ নিজেও একটা পেপার এনে তাতে লিখল, “শুধু কি বাবুর ভালো লাগছে না? তাহলে থাক। যাব না আজ। তোর ভালো না লাগলে বলিস।” পেপারটা প্লেন ভাঁজ করে সে উড়িয়ে দিল টুসির রুমে। রুমের ভেতর প্লেন উড়ে আসতে দেখে টুসি লাফিয়ে সেটা তুলে নিল। ভেতরের লেখা দেখে ঠোঁট ফুলিয়ে নিল। আরেকটা কাগজে সে লিখল, “এমন কেন করো? আসো না। আচ্ছা, আমার ভালো লাগছে না তোমাকে ছাড়া। আসো, প্লিজ।” সে আবার কাগজটা প্লেন করে উড়িয়ে দিল। সে চাইলেই পারত লোকটাকে ডেকে আসতে বলতে। ডাকলেই তো শোনা যায়। কিন্তু তার এভাবে চিঠি দিতে ভালো লাগে। মনে হয়, সেই আগের মতো প্রেম করছে দুজনে। উড়ো মেঘের চিঠির প্রেম।