

নিহার নিজের ঘরে দরোজা বন্ধ করে চুপচাপ বসে আছে। শ্বাশুড়ীর রুমের কোলাহল এখন মৃদু গুঞ্জনে রূপ নিয়েছে, এবং চাপা উত্তেজনা ভেসে আসছে সেখান থেকে। তবে মামী বা তার বেয়াইনের গলা শোনা যাচ্ছে না; কেবল শ্বাশুড়ী সালেহা এবং মামা শ্বশুড়ের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। নিহারের বুকটা অসম্ভব জোরে বিট করছে, এবং দুচোখে লোনা পানির স্রোত। তালহার মুখের দিকে একবার তাকালো; বাচ্চাটা এখনো বেঘোরে ঘুমাচ্ছে, যা অন্যদিনে এ সময়ে উঠত।
"আমাকে টানা সাড়ে ছয় ঘন্টার মতো বসে থাকতে বাধ্য করেছে এই লেখনী। মাঝখান দিয়ে শুধু খাওয়া আর নামাজ ছাড়া কিচ্ছু করতে দেয় নি। অনেকদিন পর টানা এতক্ষণ পড়ার মাঝে ছিলাম। সুন্দর লেখনী, মা শা আল্লহ!"
এভারেজ লেগেছে।খুব এংগেজিং না লিখা।
Read all reviews on the Boitoi app
গল্পটা বেশ সুন্দর।
অসাধারণ লেখনী,সাহিত্যের রসের মধ্যে ইসলামের ছোট ছোট বার্তাগুলো মন ছুঁয়ে গেছে। বই তো সেটাই যা আমাদের আত্মার খোরাক জোগায়। মোর্শেদা ম্যামের লেখনীতে এমন কিছু আছে, যা আমাকে বরাবরই বাধ্য করে একবসায় সম্পূর্ণটা জানতে। উপলব্ধি উপন্যাসটির নামই এর অন্তর্নিহিত মূল বার্তাটি দেয়, গল্পে অনেকগুলো চরিত্র রয়েছে। নিহার,সাদি গল্পের মূল নায়ক নায়িকা।নিহারের ধৈর্য, সত্যবাদিতা এবং তার চরিত্রের দৃঢ়তা আমাদের অনেককিছু শেখায়। ফ্রি তে পেলে সবাই সুযোগ নিতে চায়,কিন্তু নারীর নিজের মূল্য তাকে নিজেকে বুঝতে হবে তাহলেই সে তার যথার্থ মূল্যায়ন পাবে৷ নিহারের চরিত্র, গুণ এবং তার আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস তাকে সাদীর মত একজন স্বামী পাইয়ে দেয়, যে প্রতিটি অনুকূল -প্রতিকূল উভয় পরিবেশে শক্ত করে তার হাত ধরে রেখেছে। পুরো উপন্যাস জুড়ে সাদী চরিত্র টি মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেছে, তার নিহারের প্রতি ভালোবাসা,দায়িত্বপালন শুধুমাত্র নিহারই নয় নিহারকেন্দ্রিক সকলের সাথে তার নমনীয় আচরণ এবং বিপদে পাশে থাকা, তার চরিত্রকে করেছে মহিমান্বিত । নিহারের প্রতি সাদির অধিকারবোধ এবং 'গাইরত', প্রতিটি পুরুষের অনুকরণ করা উচিত৷ সাবিলা চরিত্রটিও উপন্যাসের অনেকটা জুড়ে রয়েছে, যিনি সম্পর্কে নিহারের ননদ হন। কিন্তু ননদ হলেও সাবিলা নিহারের সাথে একজন বন্ধু এবং যখন নিহার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে তাকে যথার্থ পরামর্শ দিয়ে সাদির মত একজনের সাথে তার সম্পর্কের ভীত তৈরীতে সাহায্য করে৷ সাবিলার প্রথম স্বামী' রাকিব 'যে একজন চরিত্রহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন, তার জন্য সাবিলা যত কষ্ট করেছে, পরবর্তীতে আকিব এর সাথে বিয়ে হওয়ায় সে প্রমাণ পায়, আল্লাহ পাক নিশ্চয়ই দুঃখের পর সুখ দেন। কিন্তু বাকি চরিত্র গুলোর মাধ্যমে লেখিকা আমাদের বিভিন্ন ধরনের ম্যাসেজ দিয়েছেন। বিশেষ করে 'রাফি',রাফিকে মা এবং শিক্ষিকা হিসেবে নিহারের উপদেশ গুলো এবং তার মধ্যে যে কোনো ভালো অভ্যেস তৈরী করার বিষয় টা আমাদের অনেক কিছু শেখায়, আসলেই বাচ্চারা অনুকরণপ্রিয়, বড় রা যা করে তাই তারা শেখে। নিহার এবং সাদীর ভালো অভ্যেস এবং কাজ গুলো যেমন রাফির মধ্যে পরিলক্ষিত হয় তেমনই,'' ফাহিম''' চরিত্রটি ছোট হলেও, কিভাবে মা ও চাচার অশালীনতার জন্য বাচ্চারা নষ্ট হয়ে যায় তার জলয্যান্ত প্রমাণ। শিলা এবং রাকিব চরিত্রদ্বয় বর্তমান সমাজের সেইসব সম্পর্কের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা জেনেবুঝে অন্যায় করে এবং তারা এমন বিপন্নভাবে অন্যায়কে সমর্থন করে যে, কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের মাঝে অনুশোচনা আসে না এবং এটা এই ম্যাসেজ দেয় আমাদের যে, যারা জেনেবুঝে অন্যায়, অশ্লীলতার পথ বেছে নেয় তাদের কখনো উপলব্ধি হয় না। গুরুত্বপূর্ণ ও মূখ্য একটি চরিত্র "সালেহা" নিহারের প্রথম শাশুড়ি।তিনি শুধুমাত্র উপন্যাসের একটি চরিত্র নয়,সালেহা আমাদের সমাজের এমন বহু শাশুড়ির প্রতিচ্ছবি যারা বউমা যতই ভালো হোক তাকে কখনো মেয়ের মত ভাবতে পারেন না এবং একই ব্যক্তি মেয়ের জন্য এক মনোভাব এবং বউমার জন্য বিরুপ মনোভাব পোষণ করেন। সালেহার মত মানুষের জন্যই বহু মেয়েরা অল্প বয়সে স্বামীহারা হয়েও তার জন্য বৈধ হওয়া স্বত্তেও কখনো দ্বিতীয় বিয়ে করতে সাহস পান না, কারণ তাদের পায়ে সন্তানকে বেড়ি হিসেবে বেঁধে রাখা হয়।ইসলাম সম্পর্কে জানা সহজ কিন্তু মানা অত্যন্ত কঠিন উপন্যাসের শেষে "মীরার " উপলব্ধি টাই আমার কাছে মনে হয়েছে সবার থেকে বেশি হয়েছে, ছোট্ট সময় ছিল মীরার চরিত্র টি কিন্তু এটি এমন ইঙ্গিত দিয়েছে নারীদের যে যা আমরা না চাইতেই পেয়ে যায় তা সবসময় সহজলভ্য হয় না। আমাদের নির্দিধায় ছেড়ে দেওয়া মানুষের সাথে ও একজন সঠিক মানুষ পৃথিবীতেই স্বর্গ রচনা করতে পারেন ।
এটা ছিল রুবি আপুর লিখা আমার পড়া প্রথম উপন্যাস। ইসলামের মোড়কে সাবলীল ছন্দে,কাহিনীতে আটকে রাখার মতো একটা উপন্যাস ছিল এটি। নিহার চরিত্রটির থেকে শিক্ষা পেয়েছি,সবরের বিনিময় কত বেশী সুন্দর হতে পারে।নিজেকে আরো এক ধাপ উত্তম মুসলিম হবার প্রেরণা পেয়েছি। কিন্তু দু:খের বিষয় একটাই, সাদির মতোন দ্বীনদার প্রেমিক স্বামীদের সবসময় ইসলামিক উপন্যাসগুলোতেই পাওয়া যায়। জানিনা বাস্তবে আসলেই মানুষ তার স্ত্রীকে এমন নিখাঁদ গভীর প্রণয়ে বাধে কিনা? আল্লাহ পাক আপুর লিখনিতে বারকাহ দিন আরো সাথে উনার এবং উনার পরিবারের জীবনেও বারকাহ দিন। আমিন। গল্পের Happy Ending আমার বেশ ভালো লাগে। কারণ এম্নিতেই উপন্যাস পড়তে নিলে তাতে একপ্রকার ডুবেই যাই আমি,আর যদি দেখি প্রিয় চরিত্রগুলোকে কাদিয়ে গল্পলেখক লিখায় ইতি টেনেছে,তখন পাগলা হৃদয়ের দহন বেশ কিছুদিন ভোগায়। এই ভয়েই বেশ কিছুদিন উপন্যাস পড়া থেকে বিরত ছিলাম। ভালোই ছিল 'উপলব্ধি' ,সাথে আমাদের ও অনেক কিছু নতুন করে উপলব্ধি হলো।আলহামদুলিল্লাহ।
গল্পঃ টা খুবই ভালো লাগতেছে, এটা পড়তে বসলে বাকি কাজ করতে ভুলে যাচ্ছি। গল্পঃ টা মাশাআল্লাহ! অনেক সুন্দর হয়েছে।
আপার লেখা যে কোনো গল্প যতোই পড়ি না কেনো মন ভরে না।গল্প টা যখন নিয়মিত দেয়া হতো তখন থেকেই পড়েছি।আরও একবার পড়লাম।যতোবারই পড়ি নতুনের মতোই লাগে।।
এত্ত ভালো লেগেছিল না,অনেককিছু জানতে পারলাম,শুকরিয়া
সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, ভাল লাগল। লেখিকাকে ধন্যবাদ।
মাশাআল্লাহ,, অসাধারণ লেখনী"!! আমার জীবনের পড়া শ্রেষ্ঠ গল্প"..! এত সুন্দর 👌আর বাস্তবধর্মী গল্প যে কি বলবো ? মনে হচ্ছে যেন বাস্তবতার আবরণে মোড়া একটি জীবনকাহিনী"!! আপুর লেখনীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বারাকাহ দিন"!! আমিন!
আমাকে টানা সাড়ে ছয় ঘন্টার মতো বসে থাকতে বাধ্য করেছে এই লেখনী। মাঝখান দিয়ে শুধু খাওয়া আর নামাজ ছাড়া কিচ্ছু করতে দেয় নি। অনেকদিন পর টানা এতক্ষণ পড়ার মাঝে ছিলাম। সুন্দর লেখনী, মা শা আল্লহ!