

জমিদার গিন্নী একজন দিলখোলাসা মানুষ। সারাজীবন অভাবী মানুষকে দুহাত ভরে সাহায্যে করেছেন। এখন গৃহকর্তার জমিদারি নেই। তবু যাকে যখন যতটুকু পারেন সাহায্য করেন। উদয়নগরের কেউ কখনো জমিদার গিন্নীর কাছে হাত পেতে খালিহাতে ফেরেনি। জমিদারদের সুনামের চেয়ে বদনামের পাল্লাই ভারী থাকে। গিন্নীর উদারতার জন্যই জমিদার নিতাই মজুমদারের বদনাম কিছুটা লাঘব হয়ে এসেছে সারাজীবন। গিন্নীর এহেন কাজে জমিদার মশাই শুরু থেকেই ছিলেন বিরক্ত। কিন্তু রাণী মজুমদার বুদ্ধিমতী মহিলা। তার বুদ্ধির বদৌলতে কোনোদিন কোনো কাজে জমিদার মশাইকে ঠকতে হয়নি। কেবল জমিদারিটাই বাঁচানো যায়নি রাণী মজুমদারের বুদ্ধির বহর দিয়ে। জমিদারি বাঁচাতে দরকার ছিল যে পরিমাণ অর্থ তা জোগাড় করা কোনোমতেই সম্ভব হয়নি। জমিদারি নিলামে উঠার আগের দু'বছরে টানা আগাম বন্যায় কৃষকের সব ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রজারা সব দুই বেলা খেতে পর্যন্ত পায়নি তো খাজনা দেবে কী করে! প্রজার পিঠের চামড়া দিয়ে তো আর ইংরেজ লর্ডের খাজনা দেওয়া যায় না। সময়ের আবেদন করেও আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় শেষমেশ আর নিজের জমিদারি বাঁচাতে পারেননি নিতাই মজুমদার। সূর্যাস্ত আইনের এক খোঁচায় জমিদারি নিলামে উঠে তার। এখন যেটুকু অর্থ বৈভব টিকে আছে গিন্নীর বুদ্ধিমত্তা আর হিসাবি চালে। সেজন্য গিন্নীর উদার মানুসিকতার ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন না নিতাই মজুমদার।