

কিছু স্মৃতি অমলিন আসলে একটা বইয়ের নাম না, এটা আমার রক্ত বিন্দু দিয়ে লিখে রাখা আমার সাথে আমার মায়ের শেষ চব্বিশ দিনের হিরন্ময় এক স্মৃতি সম্ভার। আমরা যারা দেশ থেকে বিদেশে থিতু হয়েছি শুধু মাত্র তারাই জানি বাবা মা বা নিজের স্বজনদের জন্য কতটা পোড়ে আমাদের প্রত্যেকের গহীন অন্তরকোণ । এই বই লিখতে আমি একপাতা লিখে তিন পাতা কেঁদেছি । দিনের পর দিন রাতের পর রাত ঘুম আসেনি চোখের পাতায়। সারাটা চোখ বারান্দা জুড়ে আম্মার মুখ আম্মার কথা আম্মার সমস্ত কিছু খেলা করেছে আমার আমাকে তোলপাড় করেছে আর সেই তোলপাড় ভাঙনে আমার কলম তুলে এনেছে এই বই। বইটা খুব বেশি বড় করতে পারিনি কারণ আমার কান্না আমাকে আর লিখাতে পারেনি। খুব ছোট হলেও আমার একান্ত অনুভব আমি রেখে দিয়েছি এই বইয়ের প্রতিটা পাতায়। এই দুনিয়ার প্রতিটা সন্তান জানে মায়ের জন্য তার ভালবাসা এবং অন্তরের আলো কতটা প্রখর তাদের অনেকেই হয়ত সেভাবে বলতে বা জানাতে পারে না নিজের অনুভূতির গল্প কিন্তু আমি তামাম সন্তানদের জন্য ভেবেই আমার এই রক্ত লেখা লিখে রেখে দিলাম । আমার মনে হয় আমার পাঠকের কাছে এই বই সমাদৃত হবে কারন এই বই মায়ের জন্য এক সন্তানের আকুল কান্নার কথা , এই বই মায়ের জন্য এক সন্তানের অসহায় অসন্তোষ যন্ত্রণার কথা, এই বই আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থার অনাচার বা নির্দয়তার গল্পকথা। এই বই সবার জন্য হয়ত কিছুটা হলেও আলোড়ন তুলে দেবে মননের জগতে , ভাবতে বসাবে অনেক অনেক অজানা তথ্যের সুত্র। আমাদের কেউ কেউ হয়ত আমাদের প্রিয়জনের পাশে যেয়ে পৌঁছাতে পারিনা তাঁদের শেষ সময়ে কিন্তু যারা সেই সৌভাগ্যের ছোঁয়া পেয়ে যাই এক অলৌকিক জাদুর পরশে তারাই জানি এর মর্ম । আমার সকল পাঠকের কাছে অন্তর থেকে অনুরোধ তারা যেন প্রিয়জনকে অবহেলা না করেন , দূরত্ব যেন কোন দিন ভালবাসায় ধুলো জমতে না দেয় । আমরা যেন আমাদের বাবা মায়ের শেষ সময়ে তাদের হাতটা ধরতে পারি আর জানাতে পারি কতটা ভালবাসি আমাদের বাবা মা এবং প্রিয়জনদের। জগতের সকল মা শ্রদ্ধায়, ভালবাসায় আলোকিত থাকেন আমাদের হৃদি পদ্মে আমরণ ।