

রফিক সাহেব গুনগুন করে গান গাইছে আর রান্নাঘরে কাজ করছে। এই লোকটা বড়া খেতে এতো ভালোবাসে। ডালের বড়া, মাছের বড়া, মাংসের বড়া, বিভিন্ন ধরনের শাকের বড়া। কত ধরনের বড়ার সাথে যে রাবেয়ার পরিচয় হয়েছে এই সংসারে এসে। রফিক সাহেব নিজে নিজে বড়ার রেসিপি বানায়। মাছ মাংসের প্রতি তার তেমন আগ্রহ নেই। তার আগ্রহ সব এই বড়ার প্রতি। একদিন রফিক সাহেব বড়া খেতে খেতে রাবেয়াকে বলছে তিনি একটা রেস্টুরেন্ট দিবেন। রেস্টুরেন্টের নাম দিবেন হরেক রকম বড়া। নানান ধরণের বড়া পাওয়া যাবে তার রেস্টুরেন্টে। রাবেয়া শুনে হাসতে হাসতে শেষ। বলে কী এই লোক! রেস্টুরেন্টের নাম হবে হরেক রকম বড়া! সেখানে সবাই বড়া খেতে আসবে। এই কথা এখনো মনে আসলে রাবেয়া বেগম হাহাহা করে হেসে উঠেন। রাবেয়া বেগম এখন হাসেন। মুখ প্রাণ খুলে হাসেন। ছোটবেলাও এভাবে মন প্রাণ খুলে হাসতেন। মাঝখানের কতগুলো বছর তিনি হাসতে ভুলে গিয়েছিলেন। হাসি তার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিলো। যে মানুষটার সাথে ভালো থাকবেন বলে তিনি ঘর ছেড়েছিলেন, সেই মানুষটা আসলে তাকে ভালোবেসে না, বরং তার সম্পত্তিকে ভালোবেসে তাকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন।