

হাসু ঘটক হাত কচলাতে থাকে, 'মোল্লা সাব, আকবর মিয়ারে আশা দিছি, অহন ক্যামনে কই এই কতা?' রুস্তম জোর ধমক লাগায়, 'যা যা, আর কতা কবি না। ট্যাহা যেডি দিছি, হেডি আকবররে দিবি। কইবি মাইয়ার বিয়া দিত।' হাসু তবু হাল ছাড়ে না। খানিক উসখুস করে গলা নামিয়ে বলে, 'মাইয়াডা কিন্তুক খাসা আছিল। পরে পস্তাইবেন কইলাম।' রুস্তম এবার খেঁকিয়ে ওঠে, 'তুই আমারে কী মনে করছস? বংশরক্ষার লাইগা বিয়া করতে চাইছি। অহন আর হেই কাম নাই। আমার লক্ষ্ণী পয়মন্ত বউ, হেরে আমি সতিনের ঘর দিমু? আমার মায়েরে এদ্দিন বাদে ঘরে আনছে আমার বউ, তুই আমার মা-বউ দুইডাই খ্যাদাইতে চাস? যা কইলাম।' আড়াল থেকে সব কথা শোনে জমিলা। স্বস্তির নিশ্বাস বের হয় বুক থেকে। কিন্তু ঠিক খুশিও হতে পারে না সে। থেকে থেকে মনে হয়, পোয়াতি না হলে রুস্তম তো ঠিকই বিয়ে করত। জমিলা জানে, এতে রুস্তমের কোনো দোষ নেই। যে কেউ তা-ই বলবে। কিন্তু তারপরও, এই কথাটা সে ভুলতে পারে না কিছুতেই। বাইরে চিৎকার, চেঁচামেচি। জমিলা ভেতর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। ইজিচেয়ারে বসে চোখ বুজে হুঁকা টানছে রুস্তম। জমিলা উৎকণ্ঠিত গলায় জানতে চায়, 'কী হইছে দেহেন না এট্টু, বাইরে কেডায় চিক্কুর পাড়ে?'