

"ক্বোরবানুন" অর্থ নিকটবর্তী হওয়া, নৈকট্য। "জবেহ" অর্থ হত্যা নয়, বরং শুদ্ধ করা, পবিত্র করা, উৎসর্গ করা। এই উৎসর্গ প্রভুর দিকে অর্থাৎ প্রভুগুরুর মহত্ত্বের দিকে। অর্থাৎ আল্লাহর দিকে আপন নফসানীয়াতের তথা পশুত্বের উৎসর্গ করিতে হয়। ইহাই আমাদের কোরবানী। হাদিসের বক্তব্য অনুযায়ী দেখা যায় যে, আনুষ্ঠানিক কোরবানীতে ৭ জন, ১০ জন, ৪০ জন, একত্র হইয়া এক পশু জবাই করিতে পারে। "পশুতে অংশ গ্রহণ করা" কথাটি ভাল নয়। অংশগ্রহণ করিতে হইবে একটি দলে অর্থাৎ জমাতে। এক এক দলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নির্ণয়ের ব্যাপারটি গুরুত্ববহ নয়। একজন মোমিন ইমামের নেতৃত্বে তাঁহার মোক্তাদিগণ তাঁহারই নির্দেশ মত কোরবানী করিবে ইহাই গুরুত্ববহ। এবং চাঁদ উঠার সন্ধ্যা হইতে আরম্ভ করিয়া ইয়াওমুল আজহার সালাত পালন করা পর্যন্ত এই দশ দিন অবশ্য এতেকাফে থাকিবে। দশ দিনের অনুষ্ঠান পালন শেষ করিয়া অবশেষে তাহাদের ইমামের নেতৃত্বে সবাই একত্র হইয়া একটি পশু ইমামের নির্দেশিত নিয়মে "জবেহ" করিবে। কে কতটুকু কোন নিয়মে এতেকাফ অবস্থায় পালন করিবে তাহা নির্দেশ দানের অধিকার একমাত্র ইমাম সাহেবের এখতিয়ারভুক্ত। এর কারণ, ইমাম একজন এলহামপ্রাপ্ত সত্যদ্রষ্টা জ্ঞানী ব্যক্তি। এইরূপ ইমামের নির্দেশে এতেকাফ পালনের পরেই কেবল পশু কোরবানী করা যাইতে পারে। অন্যথা উহা নিছক একটি পশু হত্যা, এবং তাহাতে হত্যার অপরাধ জড়িত থাকে।