

মানবজাতির হেদায়াতের জন্য মহান আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল (‘আঃ) পাঠিয়েছেন। মহান আল্লাহ্র কাছে তাঁদের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। তবে নবী-রাসূলদের নামে মানুষের মুখে মুখে অনেক কাহিনি প্রচলিত আছে, যেগুলো তাঁদের শান ও মর্যাদার বিরোধী। কোরআন মজীদে বর্ণিত নবী-রাসূলদের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভুল ব্যাখ্যাও এর জন্য কিছুটা দায়ী। যেমন: হযরত আদম (‘আঃ), হযরত নূহ (‘আঃ), হযরত ইবরাহীম (‘আঃ), হযরত দাউদ (‘আঃ) ও আরও কোনো কোনো নবী-রাসূল (‘আঃ) সম্পর্কে কোরআন মজীদের কতক আয়াতের ভিত্তিতে অনেকেই মনে করেন যে, নবী-রাসূলগণও ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নন। কেউ কেউ আরও আগ বাড়িয়ে বলেন, তাঁরাও গুনাহ করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। এমনকি বিভিন্ন জাল হাদিসের ভিত্তিতে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নামেও অনেক মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আবার কোরআন মজীদের আয়াতের ভুল তাৎপর্য গ্রহণ করে সে অভিযোগগুলোর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছে। এত মারাত্মক ভুল অর্থ গ্রহণের একটি কারণ হচ্ছে মহান আল্লাহ্ তা‘আলার সাথে নবী-রাসূলদের (‘আঃ) সম্পর্ক এবং তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে না জানা। অথচ নবী-রাসূলগণের (‘আঃ) সকলেই গুনাহ ও তথ্য প্রদানে ভুল থেকে মুক্ত ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, কোরআন মজীদ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী-রাসূলগণের (‘আঃ) জন্ম নিষ্পাপ রক্তধারা থেকে। তা সত্ত্বেও অনেকেই মনে করেন যে, মুশরিক আযার হযরত ইবরাহীম (‘আঃ)-এর পিতা ছিলেন, কারণ কোরআন মজীদে আযারকে তাঁর “আবূ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সে ছিল তাঁর চাচা বা পালক পিতা। কারণ, আরবি ভাষায় ব্যাপক অর্থবোধক “আবূ” শব্দ দ্বারা জন্মদাতা পিতা ছাড়াও চাচা, পালক পিতা, দাদা ও তাঁদের পূর্বপুরুষকেও বোঝায়, কিন্তু “ওয়ালেদ” মানে শুধু জন্মদাতা পিতা। [এমনকি বাংলাভাষী কোনো কোনো অঞ্চলেও চাচাদেরকে ‘বড় আব্বা’, ‘ছোট আব্বা’ ইত্যাদি বলার প্রচলন আছে।] কোরআন মজীদে হযরত ইবরাহীম (‘আঃ) কর্তৃক তাঁর “আবূ” আযারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং বার্ধক্যে তাঁর ‘জন্মদাতা-জন্মদাত্রী’ (ওয়ালেদাইন)-এর জন্য মাগফিরাত কামনা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—এ থেকেই বিষয়টি সুস্পষ্ট। এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এ গ্রন্থটিতে। ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যেকোনো পাঠকের জন্য, বিশেষত নবুওয়াত-সম্পর্কিত আকিদার পরিশুদ্ধির ক্ষেত্রে গ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
