

একবার এক সাহাবা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে জানতে চান, রাগ থেকে বাঁচতে আমাদের করনীয় কী? রাসুল (সা.) বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তবে তার উচিত বসে পড়া। যদি তার রাগ কমে যায়, তবে ভালো; নয়তো তার উচিত শুয়ে পড়া।’ (তিরমিজি)। আল্লাহর রাসূল কেন এই অবস্থান পরিবর্তনের কথা বলেছেন সেটা আল্লাহ-ই ভালো জানেন। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে এটা জানা সম্ভব নয়। তবে এটা বলতে পারি, আপনি স্বাভাবিক অবস্থায় যে ভাবে শ্বাস নেন রাগ, দুঃখ, ভয়, আনন্দিত বা বিস্মিত হলে কি একইভাবে শ্বাস নেন? না! কখনই না। মনে করে দেখুন, যখন দৌঁড়ান তখন আপনি কিভাবে শ্বাস নেন? দুঃখের সময় আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলি! আমাদের আবগের তারতম্য ভেদে কেন শ্বাসের এই পরিবর্তন? শ্বাস পরিবর্তনের কারণ আপনি না জানলেও আপনার শরীর ঠিকই জানে। তাই শ্বাস পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীর নিজেই নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন ধরনের শ্বাস নেওয়ার ফলে আমাদের রক্তে এনার্জির পরিবর্তন হয়; ব্রেনে হরমোনের পরিবর্তন হয় আর এর সাথে সাথে আমাদের মুডেরও পরিবর্তন হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম বেশি হয়। হতে পারে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের এই শ্বাসের অবস্থার পরিবর্তন করাতেই অবস্থান পরিবর্তন করতে বলেছেন। যেহেতু শ্বাসের পরিবর্তনের সাথে মুড পরিবর্তনের সম্পর্ক আছে।সে যাই হোক, আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যখন আপনি আনন্দে থাকেন, অত্যন্ত খুশী থাকেন তখন কীভাবে শ্বাস গ্রহণ করেন? যদি জানতেন কীভাবে শ্বাস নিলে আপনার মধ্যে আনন্দ বাড়বে? তাহলে আপনি কি করতেন? করোনা থেকে বাঁচতে হাত ধোয়া শিখেছেন; এবার বিষন্নতা ও উদ্বেগজনিত দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে আপনি শ্বাস নেওয়া শিখবেন। কারণ, আপনার আমার শ্বাসের গতি, নিয়ন্ত্রণ করে অনুভূতি। আপনি যদি আপনার ইমোশন বা অনুভূতিকে আপনার ইচ্ছে মতো পরিচালনা করতে না পরেন তাহলে, ‘ওভারকামিং স্ট্রেস অ্যান্ড এনজাইটি’ এই বইটি আপনার জন্যই। এই বইয়ে মেডিটেশনগুলো আপনার আত্মবিশ্বাস ও আত্মতৃপ্তি বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করবে। ইনশাআল্লাহ।
