

এ সংকলনে আছে উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ রুশ সাহিত্যিকদের লেখা। আছেন পুশকিন, রাশিয়ার আত্মিক শক্তির পূর্ণতম প্রকাশ ঘটে যার মধ্যে, আছেন প্রতিভাধর ব্যঙ্গ লেখক গোগল, সূক্ষ্ম রুপকার তুর্গেনেভ, আর মহা ‘বিদ্রোহী’ তলস্তয়, আছেন চেখভ, গোর্কির ভাষায় যিনি রাশিয়ার এক শ্রেষ্ঠ সুহৃদ, বুদ্ধিমান, অপক্ষপাতী, সত্যসন্ধ এক বন্ধু আর শেষত, আছেন করলেঙ্কো, যার রচনা যথার্থই উনিশ শতকী রুশ সাহিত্যের অবসান ঘটিয়ে মিশে গেছে বিশ শতকের সাহিত্যের সঙ্গে। এ সংকলনের আছে পুশকিনের একটি সেরা গল্প ‘স্টেশনের ডাকবাবু’। নগণ্য এক মানুষের মর্মস্পর্শী কাহিনী, বড়োলোক জমিদার যার সুন্দরী মেয়েটিকে হরণ করে। গোগলের ‘সরোচিনেৎসের মেলা’টি হাস্যরস আর অঢেল রোদের ছটায় ঝলমলে। তুলির মোটা দাগে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন ইউক্রেনীয় স্তেপের অবারিত মুক্তি, চপল উল্লাসী জনগণ আর গান গেয়েছেন তারুণ্যের সুখী প্রেমের। চেখভের ‘সাহিত্যের শিক্ষক’ গল্পটি বিদেশে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত হলেও অতি হৃদয়-গ্রাহী। চেখভের প্রিয় প্রসঙ্গ হলো সুখের প্রসঙ্গ, সেটা এখানে পরিপূর্ণ মূর্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষক নিকিতিনের মধ্যে। অপরূপ একটি মেয়ের প্রেম পেয়েছে সে, হয়ে উঠেছে পরিবারের কর্তা, মান্যগণ্য ভদ্রলোক আর তারপর হঠাৎ একদিন সে পালাল...তার ব্যক্তিগত সুখের কাছ থেকে… প্রসঙ্গের তাৎপর্য আর শব্দচিত্রণের আশ্চর্য ওস্তাদিতে সংকলনের বাকি কাহিনীগুলিও উল্লিখিত তিনটি সেরা নমুনার সঙ্গে বেশ তুলিত হতে পারে।