

চারপাশের খুব স্বাভাবিক ঘটনাগুলো একটু অন্যচোখে দেখলেই হয়ে যায় অন্য রকম। আমরা ঢুকে যাই পরাবাস্তব জগতে। ভীষণ বাস্তব কিছু গল্পেও আমরা প্রেম খুঁজি, খুঁজি যুক্তির মিল। তবু বিদ্ধ হই রোজ অতৃপ্তির অনলে। এগুলোই আসলে গল্প। ঠিক যেসব গল্প আমরা শোনবার অপেক্ষায় থাকি...
Proti ta golpoi darun.
Read all reviews on the Boitoi app
মুনিরা কায়ছানের লেখা আমার পছন্দ, তাঁর লেখার স্টাইল ও বিষয় বৈচিত্রের জন্য। ওনার ছোট গল্পের হাত দারুণ! “কোন এক ইন্দ্রাণী”তে চমৎকার ৫টি ছোট গল্প আছে। গল্পগুলো চমৎকার। আমার খুব ভালো লেগেছে। বিষয়বস্তুর দিক থেকে একেক গল্প একেক ধরণের। যেমন আছে মিস্টিরিয়াস গল্প (বেহুলার সাপ), তেমন আছে ভালোবাসার গল্প (ওই চাঁদ জোছনা দেখেনি), আবার জাজমেন্টাল কমেন্টের কুফল নিয়েও লেখা আছে (কোন এক ইন্দ্রাণী)। . সংক্ষেপে গল্পগুলো নিয়ে কিছু কথা – হারাইয়া ফেলি চকিতেঃ দারুণ একটা গল্প। আমরা প্রায় সবাই কমবেশি কল্পনা করি। সেরকম কল্পনার প্রেমিকার সাথে যদি হঠাৎ কোথাও দেখা হয়ে যায়, তাহলে কেমন হয়? আর সেটাই ঘটেছে “হারাইয়া ফেলি চকিতে” গল্পে। বেহুলার সাপঃ চমৎকার একটা গল্প, কিন্তু পড়তে গিয়ে কেমন গা শির-শির আর ঘিন-ঘিন করে উঠে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী নিরু তার উচ্চাকাংখা পূরণ করার আশায় বিয়ে করে উচ্চবিত্ত ফয়সালকে। ফয়সালের বাড়ি ভর্তি স্টাফড অ্যানিম্যাল। স্টাফড অ্যানিম্যালগুলোর প্রাণ আছে কি না তা ভেবে মাঝে মাঝেই নিরু বিভ্রমে পড়ে যায়। নিরু কি মানসিক রোগে আক্রান্ত না কি তার প্রাক্তন প্রেমিকের অভিশাপ? সেপিয়েন্সঃ গল্পটা ভালো লেগেছে। প্রাচীনকালে বানির কারণে ইনিদ যেমন তার ভালোবাসার কথা জানাতে পারেনি বেনিজকে, তেমনি একইভাবে বর্তমান যুগেও অর্ক তার ভালোবাসার কথা শিলাকে বলতে পারে না সাদির জন্য। আসলে বর্তমান প্রজন্মের মানুষের কাজকর্ম, আবেগ-অনুভূতির অনেককিছুই আমরা পেয়েছি উত্তরাধিকার সুত্রে আমাদের পূর্বপুরুষ হোমো সেপিয়েন্স এর অভিজ্ঞতা থেকে। আর হোমো সেপিয়েন্স এর অভিজ্ঞতা সমুহ জিনের মাধ্যমে বাহিত হয়েছে। কোন এক ইন্দ্রাণীঃ কী দারুণ একটা গল্প! সমাজের জাজমেন্টাল কমেন্টের জন্য অনেকের জীবন পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন নীতা, ছোটবেলা থেকে তার গায়ের রঙ চাপা, এই নিয়ে সব জায়গায় কথা শুনতে থাকে। আর এর থেকে নীতা নিজের অজান্তেই এক রোগে ভুগতে থাকে। আপাত দৃষ্টিতে নীতা-সোহানের সুখের সংসারে ঝড় উঠে। পাড়া প্রতিবেশী, চেনা পরিচিত লোকদের কাছে নীতা যে অসত্য, অতিরঞ্জিত কথা বলে, তা সোহানের চোখে ধরা পড়ে। কি করবে সোহান? সে কি নীতার পাশে থাকবে? ওই চাঁদ জোছনা দেখেনিঃ খুব সুন্দর গল্প। এই গল্পের flow-টা দারুণ ছিল। অদ্ভুত সুন্দর করে এক পর্ব থেকে আরেক পর্বে লেখা চলে গিয়েছে! একেবারে flawless! চিত্র শিল্পী দীপ্ত হাসানের আঁকা ছবি কবিতার জীবনে কি effect ফেলে তা দারুণ সুন্দর করে এই গল্পে তুলে আনা হয়েছে।
ঠিক এক ই সময় এ এক ই ভাবে চিন্তা করে এমন মানুষ যদি দুইজন পৃথিবীর দুই প্রান্তে ও থাকে, ভাগ্য তাদেরকে কিছু সময় এর জন্য হলেও এক জায়গায় এনে দাঁড় করায়।(হারাইয়া ফেলি চকিতে) কিছু মানুষের কাছে ভালোবেসে দেওয়া গোলাপ এর চেয়ে, হিরা, রুবির দাম বেশি। তারা বুঝতে ও পারে না ভালোবেসে দেওয়া গোলাপ কে তুচ্ছ করে হিরা রুবির পেছনে যেয়ে তারা জিবনে হেরে গেল। (বেহুলার সাপ) মুখচোরা ভীতু আর লাজুক ছেলেটা কিছুতেই নিজেকে জানান দিতে পারে না। ইনিদ এর মত ছেলে গুলো কেই বেশিরভাগ সময় বের্থ প্রেমিক হতে হয়। ভালোবাসা প্রকাশ এ দেরি করার ফলে দেখা যায় ভালোবাসার মানুষ অন্য কারো হয়ে যায়।(সেপিয়েন্স) আরে মা তেমন কিছু না। ভদ্রমহিলা বলছিলেন আমার গায়ের রঙটা একটু চাপা যদিও তবু নাকি আমি দেখার মত সুন্দরী হব বড় হলে। ইন্দ্রাণীর মত। আচ্ছা মা ইন্দ্রাণী কে? " নীতা একদম নিষ্পাপ ভঙ্গিতে কথা বলছে। বাচ্চা একটা মেয়ে কি সুন্দর করে সাজিয়ে মিথ্যা বলছে, অকারণে মিথ্যা বলা যেমন একটা রোগ, অকারণে কাউকে অবিস্বাশ করা টা ও রোগ , একজন ক্রমাগত মিথ্যা বলার কারণে আরেক জনের মধ্যে যে রোগের সৃষ্টি হয়।(কোন এক ইন্দ্রাণী) কবিতা মা বাবার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অভ্যস্ত ছিল না একেবারেই। নব্বই দশকে সেটা অকল্পনীয়ই বটে। যদি-আর-কিন্তু দিয়ে আটকানো ছিল তার চারপাশ। বেরুনোর জন্যে দাঁড়ি পড়া জরুরি ছিল-সে সাহস বা ইচ্ছের অভাব ছিল যথেষ্টই। নব্বই দশকের এই চিত্র খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে , মা বাবার সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কথা মেয়েরা চিন্তাই করত না, মনের কথা মনেই রেখে মা বাবার পছন্দে বিয়ের পিঁড়িতে বসে পরত।(ওই চাঁদ জোছনা দেখেনি)