
রাফি সকাল থেকে কান্না করছে, এখন পর্যন্ত কিছুই খায়নি। সেই কখন ঘুম থেকে উঠছে। বাচ্চা মানুষ কতক্ষণ পেটে ক্ষুধা নিয়ে থাকতে পারে? ঘর একটুও চাল নেই, যেটুকু ছিল গতকাল রান্না করা হয়েছে। সকালে মফিজ মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে চাল কিনে আনলেই তারপর রান্না হবে। কিন্তু রাফি এত সব বোঝে না, সে চায় খাবার। পাঁচ বছরের শিশু না খেয়ে থাকে কীভাবে? মায়ের আঁচল ধরে কাঁদতে থাকল। একসময় মা বিরক্ত হয়ে কয়েকটা চড়-থাপ্পড় দেয়। ঠিক তখনই কান্নার মাত্রাটা বেড়ে যায়। এই কান্না অহরহ চলতে থাকে, একটু পরে মফিজ এসে হাজির। বাড়ি ঢুকতেই আফরোজা দৌড়ে এসে বলল, চাউল আনছো? পোলাডা হেই কোন সময় অইতে বইয়া রইছে। খিদায় কান্তে কান্তে মইরা যায়... মফিজ কোনো কথা বলল না। বাচ্চার কান্নার কাছে পৃথিবীর সমস্ত কথা যেন বন্ধ হয়ে যায়। নিচের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আফরোজা কোনো জবাব না পেয়ে আবার বলে উঠল, আডের ব্যাগ কই? চাউল কি আনো নাই? টাহা আনছো? কিইন্না আনবা? এবারও মফিজ কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। যেন তার মুখ খুলতে পারছে না। একবার সাহস করে বলে উঠল, আইজ শহরে যাইতে পারি নাই। জালে কোনো মাছ পাই নাই। এট্টা মরা লাশ ভাইসা আইছে। লাশরে তুইল্লা দাফন দিমু।