

গভীর ঘন সবুজ বন। সূর্যের আলোতেও যেন গাছেদের সাথে সন্ধি করে কিংবা বল প্রয়োগ করে ঢুকতে হয়। ভর দুপুরেও বনের সব জায়গায় আলো ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এখানে ওখানে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে থেকেই যেন আলোকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এমনই ঘন আর গাছ-গাছালিতে ভরা সেই বন। আর রাতের আকাশে যখন হাজার তারার মেলা ঝিকমিক ঝিকমিক করে হীরের মতো আলো ছড়িয়ে শিশুর মতো হাসে, তখনও সেই অপরূপ তারা ভরা রাতের আকাশকে ঠিকমতো দেখতে পাওয়া যায় না। তো সেই ঘন গভীর বনে থাকত দুটো নাদুস-নুদুস পুটুস-পাটুস টুকুস-টাকুস কাঠবিড়ালী। ভীষণ চটপটে ছিল তারা। একজনের নাম ছিল কুটুস আরেকজনের নাম ছিল কাটুস। ওরা ছিল খুব ভালো বন্ধু। একজনকে ছাড়া অন্য জনের চলতোই না। খুব ভোরে আস্ত কমলা লেবুর মতো সূর্যটা যখন কমলা আভায় আকাশ ভরিয়ে পৃথিবীকে দেখতে আস্তে আস্তে উপরে উঠত তখন কুটুস কাটুস বনের ঐ যে সবচে বড় অর্জুন গাছটা, ওটার মগডালে বসে সেই সূর্যোদয় দেখত। এরপর সারাদিন এ ডাল থেকে ও ডালে ছুটোছুটি, লুটোপুটি আর পাকা ফল খেয়ে নষ্ট করে তাদের দিন কেটে যেত। আবার যখন ডিমের কুসুমের মতো লাল সূর্যটা পৃথিবীকে দেখা ও আলো দেয়া শেষে আকাশটা চাঁদকে ছেড়ে দেয়ার জন্য সিঁদুর রং ছড়িয়ে টুপ করে ডুবে যেত, তখনো কুটুস কাটুস ঐ মগডালে বসে সেই সূর্য ডোবা দেখত। তারপর যখন লাল আকাশ ধূসর হয়ে কালো হতো আর জোনাকি পোকার মতো তারাগুলো মিটমিট করে জ্বলতো নিভতো আর ঐ আস্ত চাঁদটা রুপোর থালার মতো রুপালি আলো ছড়াত তখন কুটুস কাটুস তাদের প্রিয় দেবদারু গাছের ডালে পাতার নিচে শুয়ে পরম আনন্দে জোছনা মেখে গায়ে ঘুমিয়ে পড়ত।