

কাঁদানে গ্যাস, লাঠির বাড়ির শব্দ, নারী-শিশু আর পুরুষের চিৎকার, হাঁড়ি, পাতিল ও টিনের চালে ধমাধম শব্দ, মানুষের দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া আর পুলিশের গাড়ির ভেঁপুর শব্দ মিলিয়ে গেছে অনেকক্ষণ হলো। ফয়জুল, বার থেকে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে ফিরেছিলেন দুপুর একটার দিকে। আজান দেওয়ার বেশ আগেই তার নামাজ পড়ার অভ্যাস। খেয়ে দ্রুত কোর্টে ফিরতে হবে। নামাজ শেষে খেতে বসবেন ঠিক তখনই অনেক মানুষের পায়ের আওয়াজ, হইচই। জানুয়ারির প্রথম থেকেই এই মফস্বল শহরে গন্ডগোল, শোভাযাত্রা, মিছিল, স্লোগানের বাড়াবাড়ি ছিল। মাঝখানে কদিন ঠান্ডাও ছিল, তাই ফয়জুল ব্যাপারটা চট করে বুঝতে পারলেন না। লোকজনের ঠিক তাঁর পাশের বাড়ির টিনের গেটের কাছে এসে, 'নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর' স্লোগানটা ঠিক কান বিদীর্ণকারী না হলেও মফস্বলের পাড়া হিসেবে একেবারে ক্ষীণও নয়। ব্যাপারটা কী দেখতে তিনি গেটের কাছে যাচ্ছিলেন। স্ত্রী বাধা দিয়ে বললেন, না যেয়ো না তো, কী হতিছে তা তো বেড়ার ছিদ্র দিয়েই দেখা যাবি।