

অল্প বয়সে হোক কিংবা পরিণত বয়সে, মানুষের জীবনে সত্যিকারের প্রেম, ভালোবাসা একবারই আসে। আবার কারও জীবনে বার বার আসে। কেউ কেউ তো প্রতিক্ষণ, প্রতিমুহূর্তে একই মানুষের প্রেমে পড়ে। আবার কেউ কেউ ভিন্ন মানুষের প্রেমেও পড়ে। জীবনের একটা নির্দিষ্ট সংখ্যায় পৌঁছে হলেও মানুষ টের পায়, অনুভব প্রেম তার অস্তিত্বে বসতী গড়েছে। প্রেম, ভালোবাসা, জীবনে যখন আসে তখন থেকেই মানুষের মন সেই ভালোবাসার মানুষকে ঘিরে রঙিন স্বপ্ন বুনতে শুরু করে। কৈশোরে হোক, অথবা যৌবনের শেষে! প্রেম, ভালোবাসা জীবনে আসলে মন সবসময় রঙিন প্রজাপতির মতোই ডানা মেলে এদিক-ওদিক উড়ে বেড়াতে শুরু করে। প্রেম আসে শুষ্ক মরুর বুকে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো তীব্র দাপট আর তুফানের বেগে। প্রেম আসে বর্ষার বিরামহীন বৃষ্টির আচ্ছাদনে সকাল, দুপুর, রাতেও মনকে অঝর ধারায় ভিজিয়ে দিতে। প্রেম আসে শরতের নীল-সাদা ভেলায় মিশ্রিত সুন্দর, স্বচ্ছ, শুভ্র আকাশের রঙে মনকে রাঙিতে দিতে। প্রেম আসে হেমন্তের নবজাগরণে ফুটে ওঠা পুষ্পকলির ভাঁজে ভ্রমরের গুঞ্জন হয়ে। প্রেম আসে শীতের পাতাঝড়া বিকেলের মতো শরীরে হিমশীতল কম্পন জাগিয়ে। আবার প্রেম আসে বসন্তের কোকিলের সুরেলা কণ্ঠের ডাকে, মনমাতানো কুহু কুহু সুরে মন হরণের জ্বালা বাড়িয়ে দিতে। যখন প্রেম আসে, তখন সব এলোমেলো হয়ে যায়। মন তখন উথাল-পাতাল ঢেউয়ের মতো দুলতে শুরু করে। জীবনের এতগুলো বসন্ত পেরিয়ে মৌসন্ধ্যার মনের কোণেও প্রেম এসেছে। পরিপূর্ণভাবেই এসেছে। এই প্রেম তাকে শুধু এলোমেলো করেনি, প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ পুড়িয়েছে। প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে আছে তার হৃদয়পুরী। সেই ব্যকুল মন-প্রাণ নিয়ে নিজের সবটুকু অনুভূতি তুলে ধরতে পারছিল না সে। ক্ষণে ক্ষণে বিষাদ এসে ভর করছিল মনে। জ্বালাচ্ছিল। পুড়াচ্ছিল। ছাঁই করে হাওয়ায় উড়াচ্ছিল। প্রেম, ভালোবাসা মনে যখন আসুক, যেভাবেই আসুক, বয়সের ব্যবধানের কাছে সেই প্রেম কি সময়ের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে? না-কি বিশ্বস্ত হাত হয়ে, সমস্ত ব্যবধান ভুলে, প্রিয়জন পাশে এসে দাঁড়াবে? স্রোতের টানে ভাসতে ভাসতে মন যখন আজ ভালোবাসায় টইটম্বুর, তখন কীভাবে বয়স সেথায় আজ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে? বয়সের ব্যবধান না-কি ভালোবাসা কোনটা জিতবে? ভালোবেসে জ্বলেপুড়ে ছাঁই হয়ে যাওয়া দুটো মন কি একস্রোতে মিলিত হবে? পারবে কি মৌসন্ধ্যা বয়সের ব্যবধান দূর করে ভালোবাসার মানুষকে বিশ্বাস করে, একই ছাদের নিচে বিশ্বস্ত নীড় গড়ে তুলতে?
গল্পটা অনেক সুন্দর হয়েছে আপু
Read all reviews on the Boitoi app
আপনার প্রতিটি লেখাকেই আমি ১০০তে ১০০ই দেবো। এই গল্পটা যখন আপনি ফেইসবুকে খণ্ডাংশ প্রকাশ করছিলেন তখন আমার কেন জানি বিরক্ত লাগছিল। কিন্তু কিন্তু বই পড়ে আমি মুগ্ধ হলাম। সেজন্যই হয়তো কোনোকিছু অর্ধেক পড়ে জাজ্ করা উচিত নয়। ইয়ামিন-মৌসন্ধ্যা সমাজের সকল নিয়মের বাইরে গড়ে ওঠা এক সম্পর্ক। আমাদের সমাজে ডিভোর্সি মেয়ে মানেই খারাপ, নষ্টা, চরিত্রহীন। সবসময় যে একটা মেয়ের দোষ থাকে না সেটা দেখে না। আর ছেলে মেয়ের থেকে বয়সে ছোট এমন কোন সম্পর্ক তো সমাজে আরো বেশি সমালোচনার। সেখানেও মেয়েটাকেই দোষ দেয়া হয়। তবে ইয়ামিন বোল্ড একটা চরিত্র। যেসকল নিয়মের উর্ধ্বে দিয়ে নিজের ভালোবাসাকে নিজের করে নিয়েছে। হয়তো একটু কষ্ট হয়েছে তারপরেও তো পেরেছে। একতরফা জিনিসটা বরাবর-ই কষ্টের। সেটা ভালোবাসা হোক বা অন্যকিছু। আপনি একজনকে ভালোবাসেন অথচ সে আপনাকে ভালোবাসে না, তাঁর কাছে আপনার কোন মূল্য নেই তারথেকে কষ্ট বোধহয় আরকিছু নেই। পড়ার সময় আমার কী-যে খারাপ লাগছিল। কান্নাগুলো গলায় আটকে ছিল যাকে অনেকেই বোবাকান্নাও বলে। আমি ভালোবাসায় কারো কষ্ট সহ্য করতে পারিনা। আমার ভীষণ কষ্ট হয়। আমি উপরে শক্তমনের মানুষ দেখালেও ভিতরে ভিতরে আমার ছোট্ট আবেগী একটা মন আছে। আমি কারো কষ্ট সহ্য করতে পারিনা। ইয়ামিনের এই বিরহে আমার ভীষণ কান্না পেয়েছে। তাদের ছোট্ট ছোট্ট ফ্লাশব্যাকের কাহিনী পড়তে গিয়ে নিজে অজান্তেই চোখের কোণে পানি জমা হয়েছে। আর রইল মৌসন্ধ্যা সে হয়তো ভুল করেছে। আর করবে নাই বা কেন? সে একজনকে ভালোবেসেছিল কিন্তু তার কাছেই নিরাপদ ছিল না। যে তাঁর সাথেই চিট করেছে সেখানে ওই চিঠিগুলোর জন্য ইয়ামিনকে সন্দেহ করা ভুল কিছু না। তবে উচিত ছিল তার সাথে ডিসকাশ করে নেয়া। এই জিনিসটাই তো শিক্ষা দিয়ে যায়, না জেনে কাউকে জাজ্ করা উচিত নয়। যার সাথে মনোমালিন্য হলো তারসাথেই ডিসকাশ করে নেয়া, বুঝিয়ে বলা বা জানতে চাওয়া কেন এমনটা হলো! সম্পর্ক তৈরির আগে বিশ্বাসটাই তৈরি করে নিতে হয়। সবকিছু ক্লিয়ার করে নিতে হয়। মৌসন্ধ্যার এই একটা দিক-ই আমার খারাপ লাগছে। তবে একটা মানুষ সবদিক দিয়ে পারফেক্ট হয়না। রোকসানা খানমের মতো মা হলে কোনো সন্তান হয়তো কষ্টে থাকবে না। এই চরিত্রটিকেও আমার বিশেষ পছন্দ। যাইহোক, জার্নিটা ভীষণ সুন্দর ছিল। গল্পের প্রতিটি চরিত্রকেই আমার ভালো লেগেছে শুধুমাত্র শাওন ছাড়া। শেষের কবিতাটাও সুন্দর ছিল। কবিতা পছন্দ না করা মানুষের কবিতা পছন্দ হয়েছে মানে চিন্তা করুন সেটা কতটা ভাল্লাগছে। বইয়ের নামটাও একদম পারফেক্ট। শুভ কামনা রইল।❤️