

ভরদুপুরে রোকসানা আপুর সঙ্গে ইলিনা শহরের ফুটপাত ধরে হাঁটছে। আকাশে ঝকঝকে রোদ। চারদিকে মানুষ। রিকশার টুংটাং শব্দ, গাড়ির সাইরেন। এমন পরিবেশে মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা করবে—এটাই স্বাভাবিক। তবুও আজ কী হচ্ছে এসব ইলিনার সঙ্গে! ভিড়ের মধ্যে আচমকা দেখে একটা ঝকঝকে ছুরি চোখের সামনে চলে এসেছে। পলকেই পিছু হটে ইলিনা। গলায় কি লেগেছে? না, ঠিকই আছে সে। কেবল সরতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে ফুটপাত থেকে পড়ে যায় পিচঢালা রাস্তায়। কিন্তু ছুরি লক্ষ্যচ্যুত হলেও গিয়ে লাগল রোকসানা আপুর বাহুতে। ‘ওমাগো’ বলে তিনি আর্তনাদ করে উঠলেন। ইলিনা পড়ে গিয়ে কনুইয়ে ব্যথা পেল। তবুও উঠে দাঁড়ায় সে। তাড়া করবে লোকটিকে। কিন্তু হায়, মাস্ক পরা লম্বাটে এই অস্ত্রধারী গেল কোথায়? মাটির নিচে ঢুকে গেল নাকি আসমানে উঠে গেছে? এত তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাওয়া কীভাবে সম্ভব! সে রোকসানা আপুকে গিয়ে ধরে। যতটুকু করার, আপুর জন্য সবই করে। কিন্তু তিনি এবার সচেতন হয়ে গেলেন। যে মেয়েকে দিনে-দুপুরে গাড়ি ধাওয়া করে, যার দিকে ভরদুপুরে ছুরি ছুটে আসে, তাকে তিনি নিজের বাসায়ও আর জায়গা দিতে পারেন না। ইলিনা নিজের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে ফেলে। এখন কোথায় যাবে সে? সাধারণ একজন কৃষকের মেয়ে ইলিনাকে গাড়ি কিংবা ছুরিই বা তাড়া করবে কেন? নক্ষত্র স্যারের কাছে রায়পুরের পুরো ঘটনা শুনেই রানার কাছে রীতিমতো হাস্যকর লেগেছিল। অরুন্নেছা নামের এক মৃত মহিলার ভয়ে পুরো গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর থেকে আর বাইরে বের হয় না। সন্ধ্যায় বাইরে বের না হতে আবার তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন উজগীর পির। জনশ্রুতি আছে, অরুন্নেছা মৃত্যুর পর জঙ্গলের ভাঙা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। রানা স্রষ্টায়ই বিশ্বাস করে না। ঘোর নাস্তিক সে—শিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক ছেলে। সুতরাং এই আজগুবি ঘটনা সে মেনে নিতে পারে না। নক্ষত্রকে তার ইচ্ছার কথা জানায়। অনুমতি পেয়েই একদিন ঢুকে পড়ে জঙ্গলে। অরুন্নেছার শেষ দেখে ছাড়বে রানা। তারপর ভেতরে গিয়ে কী এমন দেখেছিল, কে জানে! বেশ কিছুদিন চলে যায়, তার ট্রমাই কাটছিল না... প্রিয় পাঠক, এই দুটি অংশ পড়ে আলাদা আলাদা গল্প মনে হতে পারে। আদতে সেগুলো আলাদা নয়। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে অন্যগুলোর যোগসূত্র আছে। এরকম নানান বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে “যবনিকায় আলো” উপন্যাসটি শুরু হলেও, দিনশেষে গিয়ে আবিষ্কার করবেন—ঘটনাগুলোর আঁতুড়ঘর একটি।
বই টি কিনলাম আসা করি পড়লে পরে অনেক ভালো লাগবে!! পড়ার আগে রিভিউ দিচ্ছি একারণে যে আমি লেখক এর সেরা বইটি পরব বলে আমি অনাকে জিজ্ঞেস করে বই টার পরামর্শ নিছি!!!
Read all reviews on the Boitoi app
গল্প অনেক সুন্দর ছিল
জবরুল ভাইয়ের লেখা তো অসাধারণ হতেই হবে। তার সব গল্পের মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো। এই অল্প দামে এরকম কাহিনী ভাবাও যায় না। সবাই অনায়াসে কিনতে পারেন। হতাশ হবেন না।
সন্ধ্যা ৫:৩৩ থেকে গল্প পড়া শুরু করি রাত ৪:৫৪, তে শেষ হয়। আল্লাহ.... মাথায় হাত দেওয়ার মতো অবস্থা গল্পটা এমন হবে আমি ভাবিনি। অরুন্নেছা আর জংগলের অদ্ভুত শব্দ গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো অবস্থা। আমার কাছে মনে হচ্ছিল রানা আর ওসির সঙ্গে আমিও জংগলের ভিতরে তাদের সাথে আছি। একটা বার মনে হয়নি আমি কোনো গল্প পড়ছি মনে হচ্ছিল আমি স্বচক্ষে দেখছি সবকিছু।
অনেক ভালো লেগেছে। ❤️
অনেক ভাল হয়েছে।এক রাতেই গল্পটা শেষ করলাম।ভালবাসা রইল জবুদা।
অসাধারণ একটা গল্প ❤️❤️❤️ লেখকের সব গল্পই আমার কাছে অসম্ভব ভালো লাগে 💗💗।
চমৎকার সুন্দর ও দারুণ থ্রিলিং একটা লেখা "যবনিকায় আলো" লেখক জবরুল ইসালাম পড়লাম। গল্পের প্রতিটা অংশ থ্রিল ও রহস্যময় এ ভরপুর। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে থামা যাবে না এমনটাই মনে হয়েছে পড়ার সময়। লেখাটা লেখক এমনভাবে লিখেছেন যে পুরোটা না পড়ে কেউই শেষে পরিনতি ও রহস্যের সমাধান কিছুই উদঘাটন করতে পারবে না। প্রতিটা চরিত্র খুব সুন্দরভাবে বর্ননা করা হয়েছে। লেখাটায় রহস্য, থ্রিলারে পাশাপাশি কিছুটা রোমান্টিকতা, গ্রাম্য কুসংস্কারকে পুজি করে একদল রাঘববোয়ালদের অনৈতিক কর্মকানডর প্রভাবে ইলিনার মত একজন সাধারন কিশোরীর পালিয়ে বেড়ানো জীবনকাহিনী।এ বেশী আর গল্প নিয়ে বলছিনা স্পয়লার হতে চাই না। অনেকসময় কিছু লেখা আমরা কিছুটা পড়ার পরাই পরবর্তী অংশ ধারনা করতে পারি কিন্তু লেখক এ লেখাটায় তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শুরু থেকে শেষ অব্দি এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে মাঝখান বা অনেকখানি পড়েও কেউ শেষটা কল্পনাও করতে পারবে না এমনই এক অবাক করার মত টুইস্ট রয়েছে যা সবাইকে অবাক করবে আর এ টুইস্ট জানার অাগ্রহই পাঠক মনে শেষ পর্যনত পড়ার যে আগ্রহ সৃষ্টি করবে সেটাই একজন লেখকের লেখার সার্থকতা। আপনার প্রায় সব লেখাই পড়া হয়েছে তবে এই ই -বুকটা একদমই অন্যরকম ও সুন্দর। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। সামনে এমন আরও সুন্দর সুন্দর লেখা পাবো আশাকরি 🥰
অসাধারণ!বইটা পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। থ্রিলার গল্প তেমন একটা পড়িনি। থ্রিলার আর ভুতের গল্প তেমন পছন্দ করিনা। ভয় পাই। কিন্তু এই গল্প নিয়ে গ্রূপে এতো কথা হচ্ছিলো তাই পড়েই ফেললাম। গল্প পড়ে হতাশ হইনি, অসাধারণ লেগেছে। পুরো গল্প জুড়ে রহস্য ছিল। আর শেষে যে চরিত্রটা অপরাধী বের হয়েছে এটা ছিল কল্পনার বাইরে।প্রধান চরিত্র বাদেও অন্যান্য চরিত্র গুলো ছিল প্রাণবন্ত। মাঝেমাঝে অনেক হাসি পেয়েছে। লেখকের সব গল্প ভালো লাগে। বাস্তব লাগে। পড়লে মনে হয় সামনে ঘটছে।নায়িকার অতিরিক্ত নেকামো আর নায়কের অতিরিক্ত সুন্দর্যের বর্ণনা থাকে না। পরিশেষে বলতে চাই এরকম গল্প আরও চাই। লেখকের জন্য শুভ কামনা রইলো।
"যবনিকায় আলো" উপন্যাস পড়া শেষ। কিন্তু রেশ রয়ে গেছে, অসাধারণ লেগেছে। রোমান্টিক থ্রিলার হিসেবে স্বার্থক উপন্যাস। একটা লাইন ও অযথা লিখেন নাই লেখক। শেষ এ সব রহস্যের খোলাসা হয়েছে বলে মনে হয়। আর বাকি রইলো উপন্যাসের চরিত্র। আমার মতে সব চরিত্রের সাথে জাস্টিস করা হয়েছে। চরিত্র গুলোকে কেমন জানি বাস্তব মনে হয়েছে। লেখক সাহেবের জন্য শুভকামনা রইলো।