

আবু হুরায়রা রাযি.। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি। সর্বমোট হাদিস বর্ণনা করেছেন ৫৩৭৪টি। নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথা ও কাজকে তিনি এমন নিকট সান্নিধ্যে থেকে দেখেছেন এবং নিপুণতার সঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর মতো করে আর কেউ পারেনি। হাদিস সংরক্ষণ এবং বিতরণ- দুই ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অনন্য। একটি বিড়াল প্রতিপালন করতেন। সকালে বিড়ালটি নিয়ে বেরুতেন এবং বিকেলে গাছে বসিয়ে খেলাধুলা করতেন। নিজের হাতে বিড়ালকে খাইয়ে দিতেন বলে গোত্রের লোকেরা তাকে ‘বিড়ালের বাপ’ বলে সম্বোধন করেছিল। এরপর থেকে মূল নাম ছাপিয়ে ‘আবু হুরায়রা’ নামে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। এক পর্যায়ে তাঁর মূল নাম নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ দেখা দেয়। নবীজির অন্য কোনো সাহাবিদের নাম নিয়ে এত মতভেদ দেখা যায়নি। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর পরিচয়ে আমূল পরিবর্তন ঘটে। মাত্র ৪ বছর নবীজির সান্নিধ্যে কাটান। জীবিকা নির্বাহ কিংবা উপার্জন ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ নবীজির দরবারে পড়ে থাকতেন। খাবারের ব্যবস্থা হলে খেতেন; অন্যথায় অনাহারে তাঁর দিন পার হয়ে যেত। মসজিদে নববির দরজায় ক্ষুধার জ্বালায় বে-হুঁঁশ হয়ে পড়ে থাকতেন। অল্প দিনের অদম্য সাধনা ও বিরল আত্মত্যাগের বদৌলতে রাখাল থেকে নবীজির সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।