

ইটালি কোনো স্বাভাবিক দেশ নয়। সেটা এমন এক দেশ যার একজন প্রধানমন্ত্রী অতীতের নানান ষড়যন্ত্র আর দুর্বৃত্তপনার সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণিত হওয়ার পরও পদাধিকার বলে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে জীবন কাটিয়ে গেছেন, যা ইয়োরোপের ১৫টি দেশের আর কোনোটির ক্ষেত্রে সম্ভবত চিন্তাই করা যেত না। তাঁর আগের অপর এক প্রধানমন্ত্রীর মাফিয়া সংশ্লিষ্টতার, সরকারি কর্মকর্তাকে জেনেশুনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া প্রভৃতি অপরাধে জড়িত থাকার কারণে ২৪ বছরের কারাদণ্ড হলেও বয়স বেশি হয়ে গেছে বলে দণ্ড খাটার হাত থেকে রেহাই পেয়ে যান। শুধু তাই নয়, এর ফলে লজ্জায় যে লোকের চিরজীবনের জন্য লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ার কথা ছিল, ইটালির সাতবারের প্রধানমন্ত্রী সেই লোক পরে আবার আজীবনের সিনেটর নির্বাচিত হওয়ারও 'গৌরব অর্জন' করেন। নীতিহীন রাজনীতিকদের কারণে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল সবকিছু সম্ভবের দেশ এই ইটালি। তারা নিজেদের গড়া যে সমস্ত বিধি-বিধান অনুসারে দেশ চালাত, অন্য কোনো পশ্চিম ইয়োরোপীয় দেশে সেসব সহ্য করা হত না। ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী কঠিন অর্থনৈতিক মন্দা চলার সময় ইটালির ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার ছিল মাত্র ১৩০ মিলিয়ন ইউরো-যা গোটা বিশ্বের সমস্যার তুলনায় মাত্র ১ পার সেন্ট। এর কারণ ইটালিয়ান নাগরিকদের লোন দেয়ার প্রশ্নে ব্যাংকের আস্থাহীনতা এবং তারচেয়েও বড়ো কারণ, বাকি উন্নত বিশ্বের কাছে ইটালিয়ান ব্যাংকগুলোই ছিল বাস্কেট কেস, যেগুলোর সাথে ব্যবসা করা কেউ নিরাপদ মনে করত না। এই দুরবস্থার শিকার হয়েছিল ইটালির সাধারণ জনগণ, অস্তিত্বের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা মেনে নিতে বাধ্য হয় তারা। বিশ্বের শিল্প সম্পদের দুই তৃতীয়াংশের মালিকানায় সমৃদ্ধ এ দেশ। সূর্যের আলো, জনপ্রিয় খাবার, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর অধিবাসীদের স্বভাবগত মাধুর্য, সব মিলিয়ে বেশিরভাগ বিদেশিদের দৃষ্টিতে বসবাসের জায়গা হিসেবে চমৎকার একটি দেশ ইটালি। কিন্তু এর জনগণ ছিল ইল সিস্টেমা (il Sistema)-র শিকার। এমনই এক দুর্ভাগা জাতি, যারা মেনেই নিয়েছিল তাদের দেশে 'কোনোকিছুই' কাজ করে না। পোস্টাল সার্ভিস কাজ করতে পারে, না-ও করতে পারে, বুর্জোয়াতন্ত্র একটা সামান্য লেনদেনের ঘটনাকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করতে পারে, মামা-খালুর জোর ছাড়া কোনো চাকরি না-ও জুটতে পারে। এমনকি বিশ্বকাপ বিজয়ী জাতীয় খেলা, ফুটবল পর্যন্ত দুর্নীতির ছোঁয়ায় কলঙ্কিত হয়ে আছে।