

"প্রিয় মনোহারিণী, প্রথমেই তোমার অনুমতি ছাড়া তোমাকে এই নামে ডাকছি বলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কিন্তু কি করি বলো?এই মুহুর্তে এর চেয়ে উপযুক্ত সম্বোধন আমি আমার সীমিত শব্দভান্ডারে খুঁজে পাচ্ছিনা। আমি যে ভীষণ মারাত্মক ভাবে আমার মন হারিয়ে বসে আছি তোমার উপর। তাই বাধ্য হয়ে এই নামেই ডাকতে হচ্ছে।...... তোমার ডায়েরি পুরোটা মন দিয়ে পড়েছি জানো?একেকটা লাইন মন দিয়ে পড়েছি। তোমার ডায়েরি পড়ে সারারাত হিসেব কষে দেখলাম আমার অনেকগুলো ক্ষমা চাওয়া বাকি আছে তোমার কাছে। আর তোমার অনেকগুলো ধন্যবাদ পাওনা থেকে গেছে আমার কাছে,যেই দেনা আমি আজীবন শোধ করার চেষ্টা করলেও শোধ হবেনা। ............ কি মারাত্মক রকমের স্বার্থপর আমি শ্যামা। আমার কাছে তোমার জন্মদিন মনে রাখার সময় ছিলোনা,একটু সময় নিয়ে তুমি সারাদিন মনমরা থাকো কেনো জিজ্ঞেস করার সময় ছিলোনা,তোমার লেখা পত্রিকায় এসেছে আর সেই পত্রিকা আমার চোখের সামনে থাকলেও একবার উলটে দেখার সময় আমার ছিলোনা। অথচ আমি তোমার কাছে নিজের দুঃখের পশরা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসলেও তুমি কখনো সময়ের কার্পণ্যতা করোনি আমার জন্য। যদি একটু করতে তাহলে আজকে হয়তো আমার কষ্ট একটু কম হতো। তারপর স্বার্থপরতার চরম শিকড়ে পৌছে যখন আমি বিধ্বস্ত হলাম,যেই মোহের পিছনে ছুটে আমি ক্ষত বিক্ষত হলাম তখন আমাকে জোড়াতালি লাগিয়ে সারিয়ে তোলার দ্বায়িত্বটাও তোমাকে নিতে হলো। অনেক কঠিন ছিলো তোমার জন্য সময়টা তোমার জন্য তাইনা? আমি সত্যি দুঃখিত শ্যামা। নিজেকে তোমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য দুঃখিত। কখনো তুমি কেমন আছো জানতে না চাওয়ার জন্য দুঃখিত। তোমাকে সবসময় হাসিমুখে নিজের কাছে উজাড় করে দিতে বাধ্য করার জন্য দুঃখিত। কখনো তোমার মন বুঝতে না পারার জন্য দুঃখিত।.... আমার আরেকটা স্বার্থপর আবদার রাখো, একবার ক্ষমা করে দাও আমাকে। আমি মানুষটা ভুল কিন্তু আমি আমার ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই। একেবারে শুধরে যাবো। তোমাকে একবার তোমার মতো করে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সুযোগ দিবে আমাকে? .......... উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয় আমাকে একটা ফোন দিলেই হবে আমি এক ছুটে চলে আসবো। আর তুমি না ডাকলে আমি কখনো এসে দাঁড়াবোনা তোমার সামনে। তাই ভালোই ভালোই বলছি জলদি ডাক দিও আমাকে। আমি তোমাকে ছাড়া একটা দিনও থাকতে পারিনা। তোমার ডায়েরিটা আমি সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি,তুমি অন্য আরেকটা কিনে নিও। এটা আজ থেকে আমার। ওহ হ্যাঁ, ফুলটা আমি তোমার গাছ থেকে ছিঁড়ে নিয়েছি,রাগ করোনা। ফুল পেলে নাকি মেয়েদের রাগ সহজে গলে যায়,এখন আমি এতোরাতে ফুল কোথায় পাই?এদিকে তোমার মান ভাঙানোর একটু চান্সও মিস করা যাবেনা।তাই তোমার গাছ থেকে বাধ্য হয়ে একটা ফুল চুরি করেছি।এটার জন্য দুঃখিত। আর আমি এই চিঠিটা তোমার ঘরে রাখতে গেলে তোমার অনুমতি ছাড়া তোমার কপালে একটা চুমু খাবো এর জন্য অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি। এটুকুতেই ইতি টানছি কেমন?দুপুর থেকে এক নাগাড়ে কেঁদেছি,মাথা প্রচন্ড ব্যথা করছে। আর কিছু মাথায় আসছেনা লেখার জন্য। কিছু বাদ থাকলে তোলা রইলো। পরে পুষিয়ে দিবো যদি তুমি সুযোগ দাও। আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি মনোহারিণী। ইতি তোমার প্রাণনাথ" শ্যামা অরণ্যের চিঠিটা একনাগাড়ে বেশ কয়েকবার পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেছে ওর। কান্নার দমক সামলে পাশ থেকে ফুলটা হাতে নেয়। কান্নার মাঝেও মুখে আপনাআপনি হাসি চলে আসে তার। আহ্লাদী কন্ঠে স্বগতোক্তি করে সে, "আনরোমান্টিক খাটাশ একটা"
গল্পটা ভালো লেগেছে। লিখনশৈলী চমৎকার।
Read all reviews on the Boitoi app
অসম্ভব সুন্দর ছিলো। একবসাতে পড়ে ফেলেছি এতো ভালোলেগেছে! তবে কেন যেন অরণ্য শ্যামাকে এভাবে মেনে নিতে পারছি না। শ্যামা অরণ্যের সাথে অন্য রকমের আবেগ জরিয়ে আছে আমার। সেখানে অরণ্যের পুষ্পের সাথে প্রেম কেন যেন মেনে নিতে পারিনি। হয়তো নতুন কোন ক্যারেক্টার মানে নাম ব্যাবহার করলে আরও সাবলীল লাগতো উপন্যাসটা। শ্যামা অরণ্যকে দয়া করে 'শ্যামারণ্যে'-ই বাঁচিয়ে রাখুন পাঠকদের মন জুড়ে। যাইহোক, অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা লেখিকার জন্য। অপেক্ষায় থাকলাম আপনার আরও দারুণ দারুণ লেখনীর।🤍
উফফফফফ আপু গল্পটা পুরাই জোশ 🔥
বেশ দারুণ একটা পটভূমিতে লেখক তার নিজস্ব লিখনশৈলীর মাধ্যমে দারুণ ভাবে গল্পটা সাজিয়েছেন । এত সুন্দর ভাবে পুরোটা গল্প ফুটে উঠেছে যে ভালো লেগেছে । অরণ্য এবং শ্যামা দুজনের চরিত্র বেশ ভালো ভাবে গঠন করা হয়েছে । এবং সে অনুযায়ী উপস্থিতিও এসেছে গল্পে তাদের । এছাড়াও শ্যামার ডায়েরির অংশগুলো পড়তে খুবই ভালো লেগেছে । সাধারণত এই ডায়েরি কিংবা চিঠি থাকা অংশগুলো আমার পড়তে ভালো লাগে । অরণ্য এর লেখা চিঠিটা পড়তে বেশ ভালো লেগেছে আমার । সবমিলিয়ে দারুণ একটা গল্প ছিল ।
আপনার অন্যান্য গল্প পড়েছি সেগুলোর মত এটাও অসাধারণ।
শ্যামা আর অরণ্যের জুটিটা আমার বরাবরই বেশ পছন্দের। লেখিকা আপুকে ধন্যবাদ তাদের নিয়ে আরেকটা মিষ্টি অনুভূতি উপহার দেওয়ার জন্য। আর, অরণ্যের লেখা চিঠিটার মায়ায় পড়ে গেলাম❤️❤️❤️
অসাধারণ এবং অনবদ্য একটা গল্প ছিলো।
গল্পটা সাধারণ ছিলো। কিন্তু সাধারণের মাঝেও অসাধারণ ছিলো। সাধারণ মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির স্ট্রাগলের বাস্তবিক একটা ছাপ ছিলো। আর সব ছাড়িয়ে শ্যামার ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি সুন্দর ছিলো।এই রকম নিসার্থ ভালোবাসা খুব কমই দেখা যায়।অবশেষে এইটাই বলবো গল্পটা মন ছুয়ে যাওয়ার মতই❤️❤️❤️