

আমি এমন ভান করলাম যেন মাত্র ঘুম ভেঙেছে। যদিও নিজেই টের পেলাম অভিনয় হিসেবে খুবই দুর্বল হয়েছে । আমার চোখেমুখে ঘুমের কোনো চিহ্ন নেই, বরং কৌতূহলে ঝকমক করছিল। ল্যাংটা মেয়ে একটা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছে এতটুকু দেখার পর সম্ভবত আমার নিঃশ্বাস একটু জোরই পড়ে যায়, আর তারপরই মাথায় বিশাল এক গাট্টা। ‘লেপের নিচে বাতি জ্বললে ঘুমাই কি করে! আমি তো বেড়াল না। ‘ বড় ভাই আমার কথাগুলো ভেঙ্গিয়ে বললেন, ‘ এ্যাহ, আমি তো বেড়াল না! যাহ, ঘুমা। ‘ সেদিন রাতের পর থেকে আমার সৎ বড় ভাই আর আমাদের সাথে ঘুমায় না। এখন আমি, মাইশা আর ইমন একসাথে ঘুমাই। তারা আমার ছোট, তবে বেশি ছোট ও না। মাইশা যে আমার ছোট বোন, তারও কিছু সমস্যা আছে। বিকালে ছাদে কার সাথে যেনো ফিসফিস করে কথা বলে। ওইতো শনিবার বিকালে ছাদে গেলাম দুপুরের রোদে দেওয়া কাপড়গুলো ঘরে তুলতে। গিয়ে দেখি মাইশা চুল দিয়ে মুখের এক পাশ ডেকে ফোনে কথা বলছে। ইস, নিজেকে খুব চালাক ভাবে আরকি। আমিও কম না, একটু দূরে কান খাড়া করে কাঁধে শুকনো কাপড়ের গাট্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। যে ফোন দিয়ে কথা বলছে তার স্পিকারটা নষ্ট । আমাদের টেপ মারা ফোনের স্ক্রিন নষ্ট কিন্তু স্পিকার ঠিকঠাক। স্পিকার নষ্ট থাকায় অপর পাশের কথা স্পষ্টই শুনতে পেলাম। অপরপাশ থেকে যুবক কণ্ঠ জিজ্ঞেস করছে, ‘ এই মেয়ে ফোনটা কি তোমার পারসোনাল? ‘ এই সামান্য প্রশ্নে মাইশা একদম হেসে গড়িয়ে পড়ল যেন। ‘ না গো, এটা এলাকার ফোন। সবাই মিলে ভাগে কিনেছি। ‘