

মায়ের বলা, 'পারফেক্ট পাত্রী'র সাথে দেখা করতে এসে মহাবিরক্ত আবরার। একজন মেজর কি এমন সময়-জ্ঞানহীন হয়? পাক্কা ত্রিশ মিনিট অলরেডি পেরিয়ে গেছে, কিন্তু মায়ের পছন্দের পাত্রীর কোনো দেখা নেই।' কিছু মুহূর্ত পর একজনকে আবরারের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গেলো। লম্বা শরীরের রমনী। শাড়ি পড়ে হেটে আসছেন আস্তে আস্তে করে। শাড়ি পরিহিতা রমনীটি আবরারের সামনে দাড়িয়ে কোনোরকম জড়তা ছাড়াই বলল, 'আবরার আহমেদ?' আবরার উঠে দাড়ালো, কিছু সেকেন্ড পর্যবেক্ষণ করে বুঝলো সামনের রমনী শাড়ি পড়ায় অপরিপক্ক। অর্থাৎ সে শাড়ি পড়তে অভ্যস্ত না। 'বসুন মিস ভূমিকা।' ভূমিকা সামনাসামনি চেয়ার টেনে বসলো। আবরার কিঞ্চিৎ হাসি ফুটিয়ে বলল, 'আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো?' ভূমিকার মুখে এবার একটু উদ্বিগ্নতা দেখা গেলো। 'একচুলি মিস্টার আবরার আমি আসার সময় একটা প্রব্লেমে পড়েছিলাম সেজন্য লেট হয়েছে। আপনি হয়তো আমাকে সময়-জ্ঞানহীন ভাবতে পারেন। বাট আমি সবসময়ই সময় মেইনটেইন করে চলি।' আবরার তড়িৎ গতিতে বলল, 'অবশ্যই না, প্রব্লেম হতেই পারে মিস।' ভূমিকা কিঞ্চিৎ হেসে মাথা নাড়ালো। আবরার মনে মনে বলল, 'মুখে অন্যকিছু বললেও আমি সত্যিই আপনার বলা কথাটি ভেবেছি মিস ভূমিকা। কিন্তু সেটা আপনাকে বলা যাবেনা।' মিস্টার আবরার আহমেদ?' আবরার তড়িৎ গতিতে বলল, 'আপনি আমাকে আবরার বলে ডাকতে পারেন। সম্পূর্ণ নাম সম্মোধন করতে হবেনা।' ভূমিকা আবারও হেসে বলল, 'আপনার নামটি সুন্দর।' আবরার যেনো কথা খুঁজে পেলো, বললো, 'এই নামটি আমার মা রেখেছেন। হুমায়ূন আহমেদের 'কৃষ্ণপক্ষ' উপন্যাসের ডাক্তার চরিত্রটির নাম আবরার। মায়ের সেটা পছন্দ হওয়ার কারণে আমার নামও সেটাই রেখেছিলেন। কিন্তু দেখুন আজ আমি সেই বইয়ের চরিত্রের মতোই ডাক্তার।' ভূমিকা হেসে বলল, 'তা অবশ্য দেখতেই পাচ্ছি। আবরার কিছু একটা ভেবে বলল, 'আপনাকে অরুর মতো লাগছে আমার কাছে।' ভূমিকা ভ্রু কুঁচকে বললো, অরু?' আবরার হেসে বলল, 'কৃষ্ণপক্ষ' উপন্যাসে অরু ভালোবেসে বিয়ে করে মুহিব নামক ছেলেটিকে। কিন্তু সেটা কাউকে জানানোর আগেই মুহিব মারা যায়। পরে বাবার পছন্দ করা ছেলে ডাক্তার মানে আমার নামে নাম যার তার সাথে বিয়ে হয়। তো মিস আপনারও অরুর মতো কোনো প্রেমিক ছিলো নাকি? বা আছে এখনো?' থাকলে বলতে পারেন আমি আপনার এক কথায় বিয়ের কথা এগিয়ে নেওয়ার আগেই বিয়ে ভেঙে দিবো।' ভূমিকা আশ্চর্য হয়ে বলল, 'কেউ নেই।' সত্যি?' ভূমিকা মনে মনে বিরক্ত হলো, কিন্তু তা প্রকাশ না করে বলল, 'বাবা বলেছিলেন আপনি খুব হাসিখুশি ছেলে। এখন দেখি বাবা ঠিকই বলেছেন। আপনি সহজে সবার সাথে মিশে যেতে পারেন। মন্দ না।' আবরার ভ্রু নাচিয়ে বলল, 'তাহলে বিয়ে পাক্কা?' ভূমিকা হেসে বলল, 'আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে। একজন হাসিখুশী মানুষ যদি একান্ত মানুষ হয় তাহলে আমার জীবনও হাসিখুশীতে ভরিয়ে তুলবে আশা করি।' আবরার চমৎকার হেসে বললো, 'পারবো কি না জানিনা তবে আমাকে পারতেই হবে মিস ভূমিকা।' কারণ যদি আপনি হোন আমি সেটা করে দেখিয়ে দিবো।' 'আপনি চমৎকার রসিকতা করেন মিস্টার। যাই হোক আজ তাহলে উঠি। আপনার রোগীরা নিশ্চয়ই আপনার অপেক্ষায় আছে?' আবরার মাথা নাড়িয়ে আরও কিছু কথা বলে বিদায় নিলো। ভূমিকা ক্যাফের বাহিরে দাড়িয়ে আকাশ দেখলো। বিকেল হয়ে আসছে। সূর্য নিভে যাচ্ছে অল্প অল্প করে। ভূমিকা নিজ মনে হেসে বলল, 'কৃষ্ণপক্ষের অরুর মতো আমার প্রেমিক থাকলেও তাকে আমি বিয়ে করিনি আবরার। সব প্রেমিক কৃষ্ণপক্ষের মুহিব হয়না। কিছু প্রেমিক শেখ ইমতিয়াজের মতোও হয়। স্বার্থপর প্রেমিকদের সাথে মুহিবের কখনো তুলনা হবেনা। মুহিব তো অনন্য প্রেমিক। আর ইমতিয়াজ হলো স্বার্থপর প্রেমিক।' প্রেমিক প্রেমিক কতো তফাত।'
ইমতিয়াজের জন্য কষ্ট হচ্ছে। সব সমাপ্তি সুখের হয় না। একটু খাপছাড়া লেগেছে, প্রচুর বানান ভুল।
Read all reviews on the Boitoi app
এক কথায় অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প
গল্পটি সুন্দর। ❤️🌻
পেয়েও না পাওয়ার যেই কষ্ট সেটা এই গল্পে খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আসলে আমাদের থাকতে মূল্য দিতে সেখা উচিৎ। হারিয়ে গেলে তা আর পাওয়া যাবে না এটা যদি মানুষ বুঝতো তাহলে যথা সময়ে মানুষ সেটাকে মূল্যায়ন করতো।যাইহোক গল্পটা এক কথায় অসাধারন ছিল।এরকম গল্প আরো চাই🤍🤍
গল্পটা এক কথায় অসাধারন। প্রথম প্রেম কখনো ভুলার না। তবে মানুষটা বেইমান হলে নিজের জন্য হলেও অতীত ভুলে নতুন করে বাঁচতে হয়। ভূমিকার থেকে একটা জিনিস শিখা হলো তা হচ্ছে কিছু অতীত ভুলে যেতে হয় কখনো নিজের জন্য বা কখনো পরিবারের জন্য।
এক হিসাবে গল্পটি খুব সাধারণ । আরেক হিসাবে গল্পটি অসাধারণ। জীবনের প্রথম প্রেম ভোলা যায় না। এটি নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সত্য। ...প্রেম তো খেলার জিনিস নয় মানুষের।