

গল্পটি খুব সাধারণ একজন মানুষের গল্প। মা, বউ আর এক মেয়ে নিয়ে তাঁর পরিবার। আর্থিকভাবে খুব একটা সচ্ছল না হলেও সংসারে সুখ ছিল। মায়ের সাথে সবসময় মান-অভিমান লেগেই থাকত। লোকটার স্ত্রী ছিল গর্ভবতী। সবাই আশা করে বসে আছে এবার একটা পুত্রসন্তান হবে। নাহলে তার বংশ রক্ষা করার মত কেউ থাকবে না। এভাবেই দিন কেটে যেত তাদের। তারপরই দেখা দিল ভয়ানক বিভীষিকা। শুরু হলো যুদ্ধ। মিলিটারি এসে লোকটার মাকে গুলি করে মেরে ফেলল। তার গর্ভবতী স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেল। তিনি দূর থেকে চেয়ে চেয়ে দেখলেন। কিন্তু কিছুই করতে পারলেন না। অবশেষে লোকটা মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়। তার উদ্দেশ্য দেশের জন্য যুদ্ধ করা ছিল না। মূলত মিলিটারি ক্যাম্প থেকে স্ত্রীকে উদ্ধার করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তিনি জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করলেন। মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরে এসেছেন। কিন্তু তার স্ত্রীকে ফিরে পেলেন কি? দেশের প্রতি, পরিবারের প্রতি প্রবল ভালোবাসার সমন্বয়ে লেখা এই গল্প। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখিনি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করা জরুরী। আমরা একটা ভোর পেয়েছি। রাত পোহানো ভোর। কিন্তু সেই রাতটা আমরা পোহাইনি। যারা পুহিয়েছে শুধুমাত্র তারাই জানবে এ কেমন কালো রাত ছিল। আমরা ভোরটাকে উপভোগ করার আগে রাতটাকে অনুভব করা উচিত।