

গায়ের ওড়নায় টান পড়তেই থমকে দাঁড়াল রূপকথা। প্রকট চোখে ফিরে চাইল পেছনে। দাঁত-মুখ খিঁচে চেয়ে আছে আফরাজ। মেয়েটা ঢোক গিলল। ভয়ে ভয়ে বলল, “ওড়না ধরেছেন কেন? বিয়ে করব না বলে কি এখন এখানেও গুণ্ডামি করবেন!” আফরাজের সারামুখে নম্রতা বিরল। কথাটা সে কানেই নিল না। বরং ওড়নার প্রান্ত দুবার ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে ধরল হাতে। পোক্ত টানের প্রকোপে হুড়মুড়িয়ে হোঁচট খেল রূপকথা। মুখ থুবড়ে এসে পড়ল আফরাজের শক্ত বুকের ওপর। তার চোখমুখ অতিকায় লাল। প্রশ্ন করতে গিয়ে ফুঁসে উঠল আরও, “আমাকে বিয়ে করবি না কেন?” রূপকথা বুঝে নিল বাঁচার উপায় নেই। যতক্ষণ না জবাব দেবে, ষাঁড়টা ছাড়বে না আজ। মাথা নুইয়ে মিনমিন করে বলল, “আপনি অনেক সুন্দর, তাই! আমি সুন্দর ছেলে বিয়ে করব না।” আফরাজ তব্দা খায়। রাগে ফেঁপে থাকা চেহারা ভ্যাবাচেকায় গুটিয়ে এলো অমনি। হতবাক হয়ে বলল, “মানে? আমি সুন্দর—এটা আমার অন্যায়?” “তাতো জানি না। তবে ছোট থেকেই আমি ভেবে রেখেছি, জীবনে আর যাই হোক, ফরসা ছেলে বিয়ে করব না। সেখানে আপনার আর আমার গায়ের রঙের এতো আকাশ-পাতাল তফাত। এই দেখুন...” নিজের শ্যামলা হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিল রূপকথা। শিশুর মতো বলল, “আপনার হাত আর আমার হাত দেখুন। আপনারটা কত সুন্দর, আর আমারটা!” আফরাজ এক চোট বিস্ময়ে অনেকক্ষণ কথা বলতে পারল না। পরপরই মেজাজ চড়ে বসল। নাক ফুলিয়ে বলল, “তাহলে এখন কী করব? কালি মেখে আসব হাতে? তাহলে বিয়ে করবি?”

"সেজুতি আপুর গল্প মানেই best কিছু। একবার পড়া শুরু করলে থামতেই ইচ্ছে করে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না শেষ করতে পারি ধ্যান জ্ঞান সব গল্পেই পরে থাকে। সব গল্পের মতো "এক রূপকথার প্রেমে" গল্পটিও এককথায় অসাধারণ। ❤❤❤❤"
সেজুতি আপুর গল্প মানেই best কিছু। একবার পড়া শুরু করলে থামতেই ইচ্ছে করে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না শেষ করতে পারি ধ্যান জ্ঞান সব গল্পেই পরে থাকে। সব গল্পের মতো "এক রূপকথার প্রেমে" গল্পটিও এককথায় অসাধারণ। ❤❤❤❤
Read all reviews on the Boitoi app
এক বসাই শেষ করে ফেলেছি, এতো সুন্দর হয়ছে ❤️
অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প আপু,, এটা পড়ে আমি আবার তোমার লেখার প্রেমে পড়ে গেলাম,,, কি সুন্দর এক বাস্তব চিএ🥰🥰
It's best book.❤️🫶🏻
উফ এত্তো সুন্দর একটা গল্প, আবারও নতুন করে তোমার লেখার প্রেমে পরলাম,উফ এতো মনমুগ্ধকর প্রতিটা চরিত্র😚 এখন আফসোস হচ্ছে আমার এতদিন কেনো গল্পটা পড়িনি!!🙂
বাস্তব জীবনের এক রূপকথার গল্প❤️
অনেক সুন্দর হয়েছে 🥰🥰
রূপকথা আর আফরোজের গল্প!
গল্পটা এতো সুন্দর!!! সিজন টু হিসেবে কী আরেকটা ই-বুক পাবো আপু🥺
গল্পটা এত্ত সুন্দর! এক টানা পড়ে শেষ করলাম তবু যেন ভালো লাগার রেশ ফুরোচ্ছে না।কি আফিম মেশালে লেখিকা!ভালোলাগায় বুদ হয়ে গেছি।সেঁজুতি আপু তুমি আমার সবসময়ের প্রিয় লেখিকা ছিলে,আছো, থাকবে।যবে থেকে তোমার লিখা পড়ছি তখন থেকে আজ অব্দি কোনোটাতেই নিরাশ করনি।অবশ্য আজও হচ্ছি না।সেই ভরসাতেই পড়তে এলাম এক রূপকথার প্রেমে! আর প্রতিবারের মতো এবারেও পড়েই মনটা ভরে গেলো।মুগ্ধ হয়ে গেছি একেকটা শব্দের গাঁথুনি,বাক্যালাপ, চরিত্রদের ব্যক্তিত্ব বিশ্লেষণের গাঠনিক ভারসাম্যতে।এতে যে চমৎকার একটা গল্প তৈরি হয়েছে তা সত্যই তৃষ্ণার্থ করেছে আমায়।এখানে যেন গল্পের প্রতিটি জিনিস চোখের সমীপে বাস্তবিক অর্থে ভেসে উঠেছিল। এক স্বচ্ছল পরিবারের নিদারুণ সংকটাপন্ন অবস্থা,যোগ্য সন্তান হিসেবে সংসারের হাল ধরার নিঃস্বার্থ সংগ্রাম,ভাই বোনের আত্মীক মেলবন্ধন যেমন আপ্লূত করে অপরদিকে নিষ্ঠুরতম এক দাদীর বর্ন ভেদাভেদে বাছবিচার আমায় ভীষণ রুষিত করে তুলেছে।রাগ হয়েছে তার কুচক্রি ভাবভঙ্গিমা কথাবার্তায়।মনে হতো এমন করে দুচোখে কেনো দেখতে হবে?আপনের মধ্যেও বুঝি ভেদাভেদ করা যায়? তবে শেষ অব্দি রূপন্তীর মনস্তাপ, ভুল বুঝতে পেরে অভাবনীয় পরিবর্তন তুষ্ট করছে। এছাড়াও স্বল্পোন্নত এক গ্রামকে কতো মোহনীয় সৌন্দর্যে প্রকাশিত করা হয়েছে,ফুটে উঠেছে দারুণ উপভোগ্যের প্রকৃতির সজীব দৃশ্যপট। সাধারণ থেকেই গল্পটার প্রাণঞ্জল ঘটিয়েছে। সুবিন্যস্ত ভাষায় মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোও কতো সাবলীল সবিস্তারে বিকশিত।আফরাজ নামক এক যুবকের প্রেম, তার উন্নত মন-মস্তিষ্কের চিন্তাধারা অনেকটা অনুপ্রেরণা জোগায়,ভীত শক্ত করে দেয় সেসব অবহেলিতদের মনোবলের।তা যেন ধন দৌলত, গায়ের রং,বর্ন এসব কিছু ভালোবাসাকে আঁটকে পিছিয়ে দিতে পারে না।আর মন সে তো বাধনহারা।কখন যে কার উপর পড়ে,চোখে লেগে যায় তা কি বলা যায়!এই যেমন আফরাজ তার অজান্তেই চঞ্চলা রমনীর প্রেমে পিছলে পাগলপারা।যার কাছে,রং বিভেদ তুচ্ছে, এমন আফরাজের ভালোবাসাই তো সুবিশাল হৃদয়পটের সঙ্গা দেয়।রূপকথার মতো শ্যামলা বর্নের এক মেয়ের জীবনে সবটা ভরিয়ে দিতে আফরাজের মতো প্রেমিকের সম্মোহনী দৃষ্টিভঙ্গিই যথেষ্ট। রূপকথা যার জীবন লাঞ্ছনায় কটুকথায় জনাকীর্ণ। তবুও সে নিটোল এড়িয়ে চলে।আমার মতে,এমনই চলা উচিত সবার। লোকে কত কি বলে!সে সবেতেই পাত্তা দিতে নেই।নিজেকে ভালোবাসা, নিজের যা আছে তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকাই ভালো থাকার অনন্যতম বৈশিষ্ট্য। আফরাজের পর, রূপকথার চরিত্র আমাকে প্রচন্ড বিমোহিত করেছে।ওর ছেলেমানুষী কথায় কখনো হাসিয়েছে আবার ওর কষ্টে ব্যথিত করে তুলেছিলো। এরমাঝে যাকে একসময় সে অপ্রিয়কর মনে করত,তার জ্বালানোতে অতিষ্ট হয়ে থাকতে চাইত না।তাকেই ঘিরে কি করে অনুভূতি বদলে যায়!অবাক করে তোলে।সময়ের সাথে পরিবর্তন ঘটায়, নতুন অভিভূতিতে আকৃষ্ট করে রূপকথাকে।কিন্তু সে কি জানবে কখনো?এক জনের মনের ঘরে বসত করে গড়ে তুলেছে প্রেমনেশা সমাধির অতল বাসনা! কী করে ঠায় জমাবে রূপকথার অন্তরজুড়ে!পুরো গল্পতে একেক সময় ভেবে ভেবে আকুল হয়েছি সামনে কেমন হতে চলেছে ওদের ভবিতব্য। অবশেষে শেষটা পড়ে আমি অত্যধিক সন্তুষ্ট হয়েছি। মন কেঁড়ে নেওয়ার মতোই ছিলো পুরোটাজুড়েই। গল্প শেষ হওয়ার পরও তার রেশ থেকে গেছে মনোমুগ্ধকর আচ্ছন্নে। পরিশেষে বলব,অফুরন্ত ভালোবাসা রইল💘 লেখিকা সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাও। সবসময় ভালো থেকো আর আমাদের জন্য এমন সুন্দর সুন্দর মিষ্টি রোমান্টিক প্রেমকাহিনী উপহার দিও।