

আজ কাঁদতে কাঁদতে কলেজ থেকে বেড়িয়ে যেতে হচ্ছে। তার কারণ একটাই আমাকে এই কলেজ থেকে বহি*ষ্কা*র করা হয়েছে। আমার ডিপার্টমেন্ট এর নতুন প্রফেসর এর কারনে।বিনা দোষে কলেজ থেকে বিতারিত করা হয়েছে। আনমনে হয়ে হাঁটছি কলেজ এর ভিতরের রাস্তা দিয়ে। যেতে যেতে পিছন ফিরে তাকালাম। দেখলাম সারা কলেজ এর ছাত্র ছাত্রীরা ভির করে আছে।কারন একটা ই। আজকে কলেজ থেকে একটা মেয়েকে বহি*ষ্কার করা হয়েছে অসং**লগ্ন কাজ করার জন্য।তাও আবার নিজের কলেজের শিক্ষকের সাথে। সবাই কানাখুশা করছে যে এরকম বাজে মেয়ে এই কলেজে এ থাকলে এই কলেজের বদনাম হবে। নিজের নামে আজ হাজারো বদনাম শুনতে হচ্ছে তাও যেন প্রতিবাদ করার শক্তি নেই। বড্ড অসহায় লাগছে। ডিপার্টমেন্ট এর বিল্ডিং এর দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম সেই লোক জন্য আজ বহি*ষ্কা*র আমি। একটা মানুষ কিভাবে এতটা নি**কৃষ্ট হতে পারে।তবে তা জানা নেই। দুই হাত পকেট এ গুজে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বড্ড বেশী ঘৃনা হচ্ছে লোকটাকে। চারিদিকে তাকাতেই সবার ঘৃনা ভরা দৃষ্টি আমাকে আরো আস্টে পিস্টে ধরলো। নিজের প্রতি ঘৃণা হচ্ছে।যে আমি কোনো দিন খারাপ কাজে জড়াইনি। কারণ আমার পরিবার আমার জন্য সম্মানে বেঁচে আছে।যে আমি এই কলেজের এর সবসময় টপার। আমার কে নিয়ে কেউ কোনো দিন খারাপ ভাবে দেখেনি খারাপ কথা অবধি বলতে পারেনি। নিজেকে সম্মানের জায়গায় রেখে ছি। আমার চরিত্রে কোন দাগ লাগতে দেইনি। কিন্তু আজ কি হলো। ভাবতেই নিজেকে শেষ করে দিতে হচ্ছে।কালও এই কলেজে মাথা উঁচু করে এসেছি। কিন্তু আজ মাথা নিচু করে যেতে হচ্ছে।এই কলেজটা আমার খুব শখের খুব পছন্দের।গত চার বছর এই কলেজে পড়াশোনা করেছি। আজ সেখান থেকে চিরজীবনের জন্য বেড়িয়ে যেতে হচ্ছে। ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে। শখের জিনিস খুব তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায়। আজকে ও তাই হলো।আজ এই কলেজে এ শেষ দিন।যেখান থেকে সবার টপার হয়ে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। আজ সেই কলেজ থেকে বহি**ষ্কা*র হয়ে বেড়িয়ে যেতে হচ্ছে।কত স্বপ্ন ছিল কিন্তু আজ তা শেষ হয়ে গেল। পুরো কলেজ টা ভালো করে ঘুরে দেখে নিজ গন্তব্যে পা বাড়ালাম। হোস্টেলে গেলাম। নিজের জামাকাপড় গুলো গুছিয়ে ব্যাগ ভরে নিলাম। দরজা কাছে দেখলাম আমার প্রিয় বন্ধু গুলো।আমি তাকাতেই ওরা অন্য দিকে তাকালো। চুপ চাপ তাকিয়ে আছে। কারোর মুখে কোন কথা নেই।আমি যেন কোনো ভিন গ্রহের প্রাণী।মনে হয় আমাকে দেখে ওদের ঘৃনা হচ্ছে। চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে চোখে পানি পড়তে লাগল। সবার এই অবহেলা যেন আমাকে আরো নি**কৃষ্ট করে তুলেছে। কেউ আমার সাথে একটা কথা ও অবধি বলেনি। ভিষন রাগ হলো। নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুছিয়ে নিয়ে বেড়িয়ে গেলাম রুম থেকে।এই রুমটা আর কোনো দিন আমার নামে থাকবে না। প্রিয় ক্লাস রুমটায় আর ফেরা হবে না। কলেজ ক্যানটিনে আর আমার আড্ডা বসবে না।আর লাইব্রেরী রুমে বই নিয়ে বসা হবে না। প্রিয় ক্যাম্পাস টাও আর আমাতে মত্ত থাকবে না।আর কোনো দিন ফেরা হবে না এই ক্যাম্পাসে। যেতে যেতে অনেক টা পথ এগিয়ে গেলাম। একদম কলেজর গেটের কাছে। পিছন ফিরে তাকাতেই চারটি বছরের হাজারো স্মৃতি ভেসে উঠে বেড়াচ্ছে। চোখ দিয়ে অসহায় এর মতো দেখে যাচ্ছি কলেজ টা। আমার কত প্রিয় ছিল। কিন্তু আজ। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সবাই জরো হয়ে আমার চলে যাওয়া দেখছে। ঘুরে চলে যাওয়ার সময় পায়ের কাছে একটা ছোট লাল রঙা ইটের গুঁড়ো পড়লো। কলেজ এর বাউন্ডারির দেয়ালে লিখে গেলাম। " যে কলেজ আমাকে যোগ্য স্টুডেন্ট মনে করে নি। সেই কলেজ আমাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরন করে নিবে।যে কলেজ থেকে আজ মাথা নিচু করে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে সেই কলেজেই আমি মাথা উঁচু করে ফিরে আসবো। সেই দিন এই কলেজ আমাকে যোগ্য সম্মান দিবে it's my promise. " চিৎকার বললাম ,, আমি চলে যাচ্ছি ঠিক ই। এদেশের কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পড়াশোনা হবে না কারন বাতিল। কারণ আমি বহি**ষ্কার। কিন্তু এই কালেজ আমাকে ঠিক একদিন স্ব সম্মানে ফিরিয়ে নেওয়া চেষ্টা করবে। আমার ক্যারিয়ার স্বপ্ন এখানে ই শেষ। কিন্তু একদিন ঠিকই ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে কিন্তু আমি ফিরবো না। আমি কোনো দিন ফিরবো না। বলেই নিজ গন্তব্যে পা বাড়ালাম।আজ সব কিছু অন্ধকার। রাস্তা দিয়ে একটা সিএনজি ভাড়া করে নিজ উদ্দেশ্য চলতে লাগলাম। পথে পথ পেরিয়ে যাচ্ছে তবুও যেন আমার ভেতরে কষ্ট শক্ত হয়ে যাচ্ছে। চোখ থেকে বেড়িয়ে আসা পানিও যেন শুকিয়ে যাচ্ছে। গাড়ি তার আপন গতিতে চলতে লাগলো। আজকের ঘটনা ..........
❤️❤️
Read all reviews on the Boitoi app